মোগল নিদর্শন মিয়া বাড়ি মসজিদ

মোগল নিদর্শন মিয়া বাড়ি মসজিদ

জে আই লাভলু ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:৪৭ ১২ জুন ২০২২  

মিয়া বাড়ি মসজিদ। ছবি: সংগৃহীত

মিয়া বাড়ি মসজিদ। ছবি: সংগৃহীত

মোগল আমলের স্থাপত্যের একটি অনন্য নিদর্শন আজও টিকে আছে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায়। ভান্ডারিয়া পৌর শহরের মিয়াবাড়িতে থাকা পৌনে ৪০০ বছরের প্রাচীন একটি মসজিদের কথা বলছি। উপজেলার পোনা নদী পাড় জুড়ে মিয়া বাড়ির সামনে এ মসজিদটি অবস্থিত। চমৎকার নির্মাণ শৈলীর এক গম্বুজ বিশিষ্ট এই মসজিদটি মুঘল আমলের এক বিস্ময়কর সৃষ্টি। 

মসজিদের চারপাশে ফুলের বাগান। সামনেই রয়েছে একটি পুকুর। পুকুরটিও লাইটিং করে দৃষ্টিনন্দন করা হয়েছে। প্রতি বছর প্রচুর পর্যটক এই মসজিদ এক নজর দেখার জন্য ছুটে আসেন। 

মসজিদটি ৩০ ফুট লম্বা এবং ১৭ ফুট চওড়া। ধারণা করা হচ্ছে- এই মসজিদটি ১৬শ খৃষ্টাব্দের শেষের দিকে নির্মাণ করা হয়েছে। মসজিদটির দেয়ালে লাল ইট আর চুনা পাথরের মিশ্রণের কাজে দিল্লির লাল ইটের স্থাপত্য রীতির প্রভাব রয়েছে। এর দেয়ালগুলোতে রয়েছে ইটের বিন্যাস, পোড়া মাটির ফলকের কাজ। ছাদের গম্বুজ ও খিলানে এক সময় ছিল সোনালি প্রলেপের কাজ। তবে বর্তমানে তা আর চোখে পড়েনা। 

রেলিং প্রাচীরে ঘেরা ছোট্ট সুন্দর এই মসজিদটিতে মিহরাব এবং এক গম্বুজের ভেতরের অংশ পাথরের ফুল, চমৎকার লতাপাতা ও আরব্য নকশায় খোদাইকৃত। মসজিদের ভেতরে ও বাইরে রয়েছে পোড়া মাটির নকশার কাজ, যা মোগল ও স্থানীয় শিল্প রীতির নিপুণ সমন্বয়। মসজিদটি নামাজের কাজ ছাড়াও বিচারকার্য এবং সভা পরিচালনার কাজেও ব্যবহৃত হতো বলে জনশ্রুতি রয়েছে। 

স্থানীয়রা জানান, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্তৃক ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে পুরাকীর্তি এ মসজিদটি এরই মধ্যে সংস্কার করা হয়েছে।

মিয়া বাড়ি মসজিদ। ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় সূত্র জানায়, পূর্ব ভান্ডারিয়া গ্রামে একটি প্রাচীন দিঘি রয়েছে। ভেলাই চোকদার নামক একজন ধনাঢ্য জমিদার আনুমানিক পাঁচ একর জমির ওপর মুঘল আমলে এ দিঘিটি খনন করেন। এ দিঘির পাড়ে ভেলাই চোকদার নির্মিত একটি মসজিদসহ দুটি দালান প্রাচীন কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এই মসজিদটিও জমিদার ভেলাই চোকদারের আমলে তার নির্মিত বলেও জনশ্রুতি রয়েছে।

ভান্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম জানান, ভান্ডারিয়ায় পৌর শহরের মিয়া বাড়ির মসজিদটি একটি প্রাচীন পুরাকীর্তি। চমৎকার নির্মাণ শৈলীর এক গম্বুজ বিশিষ্ট এই মসজিদটি মুঘল আমলের এক বিস্ময়কর সৃষ্টি বলে তিনি জানান।

এই মসজিদটি ছাড়াও এ উপজেলায় স্থানীয় কাজী বাড়ি, ভান্ডারিয়া থানার পিছনে ও ভেলাই চোকদারের বাড়িসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ধরণের আরো ছয়টি মসজিদ রয়েছে। যা এখনো সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে এখনো কালের সাক্ষী হয়ে পড়ে আছে। স্থানীয় ধর্মপ্রাণ এলাকাবাসী মসজিদগুলো সংস্কারের দাবি জানান।
 
যদিও এসব মসজিদের নির্মাণকাল বা নির্মাতার নিশ্চিত পরিচয় জানা যায়নি, তারপরেও স্থাপনা রীতি এবং এই সম্পর্কিত তথ্য বিশ্লেষণে ধারনা করা হয় যে মোগল আমলের শেষদিকে সম্ভবত এই স্থাপনাগুলো নির্মিত হয়েছিল।

ডেইলি বাংলাদেশ/কেবি