আজ থেকে সেন্টমার্টিন রুটে বিলাসবহুল ‘বে ওয়ান’র যাত্রা শুরু

আজ থেকে সেন্টমার্টিন রুটে বিলাসবহুল ‘বে ওয়ান’র যাত্রা শুরু

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:৫৩ ২০ ডিসেম্বর ২০২০   আপডেট: ১১:৫৫ ২০ ডিসেম্বর ২০২০

আজ থেকে বিলাসবহুল ক্রুজশিপে হবে সমুদ্র ভ্রমণ

আজ থেকে বিলাসবহুল ক্রুজশিপে হবে সমুদ্র ভ্রমণ

সমুদ্রের নোনাজলে বিলাসবহুল ক্রুজে চড়ে শরীরটাকে মেলে দিয়ে ভেসে যাওয়ার সুযোগ এবার চাইলেই মিলবে। সেই সুযোগ করে দিচ্ছে চট্টগ্রামের বিখ্যাত কর্ণফুলী শিপবিল্ডার্স লিমিটেড।

আজ ২০ ডিসেম্বর ‘এম ভি বে ওয়ান’ উদ্বোধন করা হবে। জাহাজটি আজ চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার যাবে এবং  ২১ ডিসেম্বর কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন রুটে নিয়মিত চলাচল করবে।

কর্ণফুলী শিপবিল্ডার্সের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ (এডমিন) কামাল উদ্দিন চৌধুরী জানান, আজ (রোববার) বেলা ২টায় চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় জাহাজটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী জাহাজটির যাত্রা উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

তিনি আরো জানান, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, কক্সবাজারের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, সাইমুম সরওয়ার কমল, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, কমোডর আবু জাফর মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন, কমোডর গোলাম সাদেক, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন ও কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সম্মতি জানিয়েছেন।

কর্ণফুলী শিপবিল্ডার্সের কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন বলেন, পর্যটকদের আন্তর্জাতিক মানের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা দিতে জাপান থেকে বিলাসবহুল এই ক্রুজশিপটি কেনা হয়েছে। জাহাজটির আগের নাম ‘সালভিয়া মারু’ হলেও বাংলাদেশে নিয়ে এসে এটিকে ‘এমভি ওয়ান বে’ নামকরণ করা হয়েছে। ১৯ সেপ্টেম্বর জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছায়। কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কের দরিয়ানগরে জাহাজটির জন্য নতুন একটি জেটি নির্মাণ করা হয়েছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাযুক্ত এমভি বে ওয়ানে প্রায় দুই হাজার যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব।

কর্ণফুলী শিপবিল্ডার্স সূত্রে জানা গেছে, জাপানের কোবেই শহরের মিতসুবিসি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজে তৈরি এই ক্রুজশিপটির দৈর্ঘ্য ৩৯৩ ফুট, প্রস্থ ৫৫ ফুট ও প্রায় ১৮ ফুট ড্রাফট রয়েছে। এটির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৪ নটিক্যাল মাইল। তবে বাংলাদেশের উপকূলীয় সমুদ্রপথে এই জাহাজ প্রতিঘণ্টায় গড়ে ১৮ থেকে ২০ নটিক্যাল মাইল বেগে চলতে সক্ষম। উত্তাল সমুদ্র মোকাবিলায় জাহাজটিতে ফিন স্ট্যাবিলাইজার সংযুক্ত আছে।

এই প্রমোদতরীতে থাকছে দুই হাজার প্রেসিডেন্ট স্যুট, বাঙ্কার বেড কেবিন, টুইন বেড কেবিন, আরামদায়ক চেয়ারসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির আসন। একটি আধুনিক রেস্তোরাঁ, স্বয়ংক্রিয় ভেন্ডিং মেশিন এবং কয়েন পরিচালিত ঝর্ণাও থাকছে এতে। কর্তৃপক্ষ জাহাজটিকে বর্তমানে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট নতুন আঙ্গিকে সাজিয়েছেন।

কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন রুটে এটিই প্রথম জাহাজ নয়। একই প্রতিষ্ঠানের ‘কর্ণফুলী এক্সপ্রেস’ চলতি বছরে এ রুটে চলাচল শুরু করে। কক্সবাজার সদরের নুনিয়ারছড়া এলাকা থেকে জাহাজটি ছেড়ে থাকে। তবে ‘এমভি বে ওয়ান’ দরিয়ানগর থেকে ছাড়া হবে বলে জানা গেছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস