তিনদিনে সিলেট ভ্রমণ

তিনদিনে সিলেট ভ্রমণ

নাহিদুজ্জামান ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:২৪ ২৫ এপ্রিল ২০১৯   আপডেট: ১২:২৭ ২৫ এপ্রিল ২০১৯

জাফলং। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

জাফলং। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সিলেট না ঘুরলে ‌‘মুগ্ধকর বাংলাদেশ’ দেখা পরিপূর্ণ হবে না। এই জেলা ‍পুরোপুরি ঘুরতে চাইলে কমপক্ষে দশদিন সময় হাতে রেখে বেরিয়ে পড়তে হবে। তবে আমাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা ছিল তিনদিনের। এ কয়েকটি দিনেও জায়গাটির সৌন্দর্য উপভোগ করা যায় মন ভরে।

আমাদের যাত্রা শুরু হয় গাবতলী থেকে রাত ১ টা ৩০ মিনিটে। ছুটির দিন ছাড়া অন্যদিনগুলোতে বাসের টিকিট নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করতে হয় না। তবে আগে থেকে বুকিং দেয়া বুদ্ধিমানের কাজ। বাস কদমতলী নামিয়ে দিবে ৭/৮ টায়। চাইলে ট্রেনেও যেতে পারবেন। সেখানেই আশেপাশে বেশ কয়েকটি ভালো আবাসিক হোটেল পাবেন।

প্রথম দিন (জাফলং-লালাখাল)

সিলেটের পর্যটর গন্তব্যগুলোর মধ্যে জাফলং সবার পছন্দ। জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার ভারতের মেঘালয় সীমান্ত ঘেঁষা প্রকৃতির দানে রুপের পসরা সাজিয়ে আছে জাফলং। সিলেট থেকে জাফলং এর দুরত্ব মাত্র ৬২ কিলোমিটার। পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ পানির ধারা, ঝুলন্ত ডাউকি ব্রিজ, উঁচু উঁচু পাহাড়ে সাদা মেঘের খেলা জাফলংকে করেছে অনন্য। বাস থেকে নেমেই আমরা যাত্রা শুরু করি জাফলং-এর উদ্দেশ্যে। কদমতলী থেকে বাস ভাড়া জনপ্রতি ৬০ টাকা। চাইলে সিএনজি ভাড়া করেও যেতে পারবেন সেক্ষেত্রে খরচ একটু বেশি পড়বে। যেতে সময় লাগবে ৩ ঘণ্টার মতো। একেক ঋতুতে জাফলং একেক রকম রুপের প্রকাশ ঘটায়, যা পর্যটকদেরকে ভ্রমণের জন্য সারাবছরই আগ্রহী করে রাখে। তবে বর্ষার সময় বেশি সুন্দর।

ভারতের পাহাড়, তবে বাংলাদেশ থেকে এর সৌন্দর্য দেখা যায়

জাফলং থেকে ফেরার পথেই ঘুরতে পারেন ‘লালাখাল’। এটি যেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপরূপ লীলাভূমি। প্রকৃতিকে একান্তে অনুভব করার জন্য স্থানটি বেশ উপযোগী। পাহাড়ে ঘন সবুজ বন, নদী, চা-বাগান ও নানা জাতের বৃক্ষের সমাহার লালাখালজুড়ে। পানি আর প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যাওয়া এখানকার মানুষের জীবনযাত্রাও আপনাকে দেবে নতুন করে বাঁচার প্রেরণা।

দ্বিতীয় দিন (বিছনাকান্দি-রাতারগুল)

দ্বিতীয় দিনে আমাদের যাত্রা শুরু হয় বিছনাকান্দি ও রাতারগুলের উদ্দেশ্যে। জায়গা দুটোতে যাওয়ার জন্য কদমতলী থেকে সিএনজি ভাড়া পাওয়া যায়। ভাড়ার ক্ষেত্রে দরদাম করে ঠিক করতে হবে। আমরা সকাল ৯ টা থেলে রাত ৮ টার জন্য ১,৪০০ টাকায় ঠিক করছিলাম। প্রথমে বিছনাকান্দি যাওয়া ভালো কারণ রাস্তা অনেক খারাপ। রাত হয়ে গেলে সমস্যা। নিজস্ব গাড়ি নিয়ে না যাওয়াটাই ভালো। কারণ অনেকগুলো মাইক্রোবাস প্রাইভেট কারকে নষ্ট হয়ে পড়ে থাকতে দেখেছি রাস্তায়। রাস্তা খুব বেশি খারাপ। তবে বিছনাকান্দি গিয়ে রাস্তা খারাপের কথা ভুলে যেতে পারেন! কারণ, সামনে উঁচু পাহাড়ে ঘেরা সবুজের মায়াজাল। সেখান থেকে নেমে আসা ঝরনার অশান্ত শীতল পানির অস্থির বেগে বয়ে চলা, গন্তব্য নদীর বুক। পথে যেতে দূর থেকেই পাহাড়ের সৌন্দর্য মন কাড়বে আপনার। মন চাইবে দুই হাতে জড়িয়ে প্রকৃতির এই সৌন্দর্যকে আলিঙ্গন করতে। এখানে বর্ষাস্নাত প্রকৃতি যেন সেজে ওঠে সবুজের আচ্ছাদনে।

বিছনাকান্দি পৌঁছে নৌকা ভাড়া পাওয়া যায়। আমরা যাওয়া-আসা ৮০০ টাকায় ভাড়া করছিলাম। রবিবার যাওয়ার চেষ্টা করবেন তাহলে ভারতের হাট দেখতে পাবেন। অনেক কম দামে চকোলেট পাওয়া যায় ওখানে। বিছনাকান্দি থেকে ফেরার পথে রাতারগুল ঘুরে আসতে ভুলবেন না!অনিন্দ্য সুন্দর বিশাল এ বনের গাছ-গাছালির বেশিরভাগ অংশই বছরে চার থেকে সাত মাস থাকে পানির নিচে। বিশাল এ বনে রয়েছে জলসহিষ্ণু প্রায় ২৫ প্রজাতির উদ্ভিদ। বড়ই অদ্ভুত এই জলের রাজ্য। কোনো গাছের হাঁটু পর্যন্ত ডুবে আছে পানিতে। একটু ছোট যেগুলো, সেগুলো আবার শরীরের অর্ধেকই ডুবিয়ে আছে জলে। কোথাও চোখে পড়বে মাছ ধরার জাল পেতেছে জেলেরা।

ট্রেনে শ্রীমঙ্গল যাওয়া পথে

তৃতীয় দিন (লাউয়াছড়া উদ্যান-মাধবপুর লেক-চা বাগান)

তৃতীয় দিন আমরা শ্রীমঙ্গল ঘুরেছিলাম। কদমতলী থেকে বাস পাওয়া যায়, ভাড়া ১২০ টাকা জনপ্রতি। কিন্তু আমরা গিয়েছিলাম ট্রেনে, ভাড়া ৯০ টাকা। ট্রেনে যাওয়াটাই সবচেয়ে ভালো, কারণ চারপাশের অসম্ভব সুন্দর দৃশ্যগুলো ভালোভাবে দেখা যায়। সেখানে নেমে সিনজি ভাড়া করছিলাম ৬০০ টাকায়। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক আর নূরজাহান চা বাগান ঘুরিয়ে দেখাবে আমাদের।

লাউয়াছড়া প্রবেশ করতে ৫০ টাকা খরচ হয়, অন্য জায়গায় কোনো ফি নেই। বিভিন্ন প্রকার গাছগাছালি ও পশুপাখি এ বনের শোভা বৃদ্ধি করেছে। জীব বৈচিত্রে ভরপুর নান্দনিক সৌন্দর্যের অন্যতম স্থান এই জাতীয় উদ্যানটি দেশে ট্রপিক্যাল রেইন ফরেস্ট হিসেবে খ্যাত। দেখলেই মন ভরে যায়। ফেরার ট্রেন ৫টা ১০ মিনিটে। তবে ফেরার আগে ৮ লেয়ারের চা খেয়ে আসতে পারেন। স্বাদ খুব একটা ভালো না, দাম ৮৫ টাকা। মূল দোকানটার নাম আদি নীলকান্ত। সিএনজি ড্রাইভার কে বললেই নিয়ে যাবে। চা-পাতা কিনতে হলে ওখান থেকে না কেনাই ভালো। দাম অনেক বেশি। স্টেশনের কাছে কম দামে ভালো চা পাতা পাওয়া যায়। সিলেট ফেরার সময় বাসেও আসতে পারেন।  আসার সময় বাসে আসা ভালো। হবিগঞ্জ-সিলেট এক্সপ্রেসের সরাসরি ২ ঘণ্টা সময় লাগে।

আগেরদিন ফেরার সময় সিলেট নেমেই অনলাইনে ট্রেনের টিকেট বুকিং দিয়ে রেখেছিলাম। সকাল ৭ টার ট্রেন দুপুর ২ টার দিকে ঢাকা এসে পৌঁছায়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে