কাতার বিশ্বকাপে যৌনতা-মদ্যপানে নিষেধাজ্ঞা, ধরা পড়লেই জেল

কাতার বিশ্বকাপে যৌনতা-মদ্যপানে নিষেধাজ্ঞা, ধরা পড়লেই জেল

স্পোর্টস ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১০:৫৯ ২১ জুন ২০২২   আপডেট: ১৩:০০ ২১ জুন ২০২২

(ছবি: সংগৃহীত)

(ছবি: সংগৃহীত)

আগামী ২১ নভেম্বর মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে পর্দা উঠছে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ ফুটবল বিশ্বকাপের। যদিও ফুটবলের এই মহোৎসব শুরুর আগে সমর্থকদের অগ্রিম সতর্ক করা হয়েছে।

জানা গেছে, আসন্ন কাতার বিশ্বকাপে কেউ অবৈধ যৌনতায় জড়ালে, রাতভর পার্টি করলে কিংবা সমকামিতার কারণে ৭ বছরের জেল-জরিমানা হতে পারে। এদিকে বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক ফিফাও ভক্তদের অনুরোধ করেছে বিশ্বকাপে তাদের আচরণের সেরাটা প্রদর্শন করতে। 

কে না জানে রক্ষণশীল দেশ কাতার। ইউরোপিয়ান দেশগুলোতে যে নিয়ম চলে তা মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে নিষিদ্ধ। অবাধ যৌনতা থেকে মদ্যপান, সবকিছুতেই তাই থাকছে নিয়ম। ফুটবল ভক্তদের কাছে এবারের বিশ্বকাপটাও বলতে গেলে ‘রক্ষণশীল’ হতে চলেছে। নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলেই হতে পারে কঠিন শাস্তি।

প্রিয় দলের খেলা শেষে রাতভর পার্টি কিংবা হই-হুল্লোড়। ফুটবল বিশ্বকাপের পরিচিত এই দৃশ্যগুলো হয়তো এবারের আসরে দেখা যাবে না। কেন না কাতারে এসব নিষিদ্ধ। এমনকী বিশ্বকাপ দেখতে এসে হোটেলে ওঠে স্বামী-স্ত্রী না হলে যৌন মিলনও করা যাবে না। বিশেষ করে ‘ওয়ান নাইট স্ট্যান্ড’ বা এক রাতের যৌনমিলন পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে সাত বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ফ্যানরা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি স্টারে’র বরাতে ‘মিরর’ এমন খবরই জানিয়েছে। যুক্তরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও এ ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে।

কাতারে সমকামিতা এবং বিবাহবহির্ভূত যৌনমিলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। দেশটিতে এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তির বিধান রয়েছে। এমনকী মদ্যপানেও থাকছে নিষেধাজ্ঞা। 

এদিকে, কাতার বিশ্বকাপে ফিফার প্রধান নির্বাহী নাসের আল খাতের বলেন, ‘প্রত্যেক সমর্থকের নিরাপত্তা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সবার সামনে ব্যক্তিগত ভালোবাসা দেখানো আমাদের দেশের সংস্কৃতি নয়। সেটা সবার জন্যই প্রযোজ্য।’

কাতার সুপ্রিম কমিটির পক্ষ থেকেও সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে। কাতার ফুটবল সংস্থার সাধারণ সম্পাদক বলেন, কাতার খুব রক্ষণশীল দেশ। এখানে অনেক কিছুই সম্ভব নয়। সমকামিতা শুধু সেখানে প্রকাশ করা উচিত যে দেশে এটা মানা হয়।

বিশ্বকাপ আয়োজকরা বলছেন, অতিথিদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। তাই তাদের দেশে গিয়ে কেউ বিপদের মধ্যে পড়েন তা চাইছেন না আয়োজকরা। এদিকে, এ ধরণের নিয়মাবলি জানার পর হতাশ হতেই পারেন বাইরের দেশ থেকে কাতারে যাওয়ার পরিকল্পনা করে ফেলা বহু দর্শক। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম/এএল