ম্যারাডোনার মৃতদেহের সঙ্গে সেলফি, সৎকারকর্মী ছাঁটাই

ম্যারাডোনার মৃতদেহের সঙ্গে সেলফি, সৎকারকর্মী ছাঁটাই

স্পোর্টস ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৫৯ ২৭ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৭:০৩ ২৭ নভেম্বর ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বুধবার সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন দিয়েগো ম্যারাডোনা। তার মৃত্যুতে শোকাচ্ছন্ন সারা পৃথিবী। এই কিংবদন্তিকে শেষ বিদায় জানানোর জন্য আর্জেন্টিনার বুয়েন্স আয়ার্সের রাস্তায় ও প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসের বাইরে ভিড় করেছিলেন হাজার হাজার ভক্ত। কড়া নিরাপত্তার মাঝে তাকে দেখার সুযোগ পাননি তেমন কেউ। তবে এরই মাঝে লুকিয়ে ম্যারাডোনার মৃতদেহের সঙ্গে সেলফি তুলেছিলেন তিন সৎকারকর্মী। এর ফলে একজনকে ছাঁটাই করা হয়েছে।

ম্যারাডোনার নিকট আত্মীয়-স্বজন ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছাড়া তাকে শেষবার দেখার সুযোগ পাননি কেউ। কড়া পাহারায় এই কিংবদন্তির মৃতদেহ সৎকার করা হয়। তবে যারা সৎকার করার কাজে ছিল তাদের মাঝেই তিনজন ম্যারাডোনার মৃতদেহের সঙ্গে দুটি ছবি তুলেছেন। সেটি আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ারও করেছেন, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। 

প্রাথমিকভাবে সৎকারকর্মীদের একজনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। ডিয়েগো মলিনা নামের ওই কর্মীকে তৎক্ষণাৎ ছাঁটাই করা হয়েছে। ছবিতে দেখা যায়, কফিনে শোয়া ম্যারাডোনার মাথায় একটি হাত রেখে অন্য হাত দিয়ে থাম্বস আপ করছেন মলিনা। দ্বিতীয় ছবিতে আরো দুজন কর্মীকে অভিন্ন ভঙ্গিতে দেখা যায়।

বুয়েন্স আয়ার্সে সেপেলিওস পিনিয়ের নামের একটি সংস্থা ম্যারাডোনার সৎকারের কাজ করেছে। সংস্থাটির ম্যানেজার ডিয়েগো পিকন দাবি করেছেন, ওই তিনজন কর্মী তাদের নয়। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসে ম্যারাডোনার মরদেহ নিয়ে যাওয়ার আগেই নাকি তারা ছবি তুলেছেন। 

পিকন বলেন, আমার বাবার বয়স ৭৫। তিনি এখনো ম্যারাডোনার বিদায়ে কাঁদছেন। আমি ও আমার ভাইও একই অবস্থায় আছি। আমরা বিধ্বস্ত। সে (মলিনা) আমাদের এখানকার কর্মী নয়। হয়তো থার্ড পার্টির কেউ ছিলেন। কফিন ভারী হওয়ায় তাদের কাছে সহায়তা চাওয়া হয়েছিল।

এদিকে এই ঘটনাকে ম্যারাডোনার প্রতি চূড়ান্ত অসম্মানের বহিঃপ্রকাশ বলে উল্লেখ করেছেন তার আইনজীবী মাতিয়াস মোরলা। এমনকি মলিনার বিপক্ষে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। মোরলা বলেন, আমার বন্ধুর শেষ স্মৃতি রক্ষা করতে আমি ততক্ষণ পর্যন্ত শান্ত হবো না, যতক্ষণ না এই ঘৃণ্য কাজ করা ব্যক্তির উপযুক্ত শাস্তি হচ্ছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেস কাসা রোসাদা থেকে বেল্লা ভিস্তা সিমেট্রিতে ম্যারাডোনাকে নেয়া হয়। সেখানেই বাবা-মার পাশে দাফন করা হয় তাকে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএল