শুভ জন্মদিন ফুটবল ঈশ্বর

শুভ জন্মদিন ফুটবল ঈশ্বর

স্পোর্টস ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:০৬ ৩০ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৫:০৮ ৩০ অক্টোবর ২০২০

ফুটবল ঈশ্বর ম্যারাডোনা

ফুটবল ঈশ্বর ম্যারাডোনা

কিংবদন্তি ফুটবলার। আর্জেন্টিনার জার্সি গাঁয়ে বিশ্ব কাঁপিয়েছেন। অনেকের মতে তিনিই ফুটবলের ঈশ্বর। আবার কারো কাছে তিনি বিদ্রোহী। যা বলা হোক না কেন তিনি দিয়াগো আরমান্দো ম্যারাডোনা। আজ সেই কিংবদন্তির ৬০তম জন্মদিন। ৬১ তে পা দিলেন এ আর্জেন্টাইন ফুটবল গ্রেট।  শুভ জন্মদিন ম্যারাডোনা। ১৯৬০ সালের এই দিনে আর্জেন্টিনায় জন্মগ্রহন করেন তিনি। ৬০তম জন্মদিনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ডান হাত দিয়ে গোল করার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন জীবন্ত কিংদবন্তি।

১৯৯৮ এ আর্জেন্টিনার রোজারিওতে ইগলিসিয়াস মারাদোনিয়ানা গোড়াপত্তন। না, খ্রিষ্টান কিংবা বৌধ্য ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয় নয় এটি। যেখানে ধর্ম ফুটবল আর যে ধর্মের ইশ্বর শুধুই ম্যারাডোনা। ২৫ ডিসেম্বর ক্রিসমাসে জিশুর জন্মদিন যেভাবে পালিত হয় ঠিক তেমনি ত্রিশ অক্টোবর ম্যারাডোনা ভক্তরা পালন করেন তাদের ইশ্বরের জন্মদিন। কতটা ভক্তি আর ভালোবাসায় উপাশনালয়ে ম্যারাডোনার আরাধনা সম্ভব তার এক ঝলক এই ইগলিসিয়াস।

বল নিয়ে একাই ছুটছেন ম্যারাডোনা

উত্থান-পতনের এক অপূর্ব মেলবন্ধনে গড়া যার জীবন। কখনো সাফল্য শিখরে কখনো বা ব্যর্থতার অতল গহ্বরে হারিয়ে যাওয়া যার অভ্যাস। প্রশংসায় ভেসেছেন দুয়োধ্বনি শুনেছেন ঢের। নন্দিত-নিন্দিত, বর্ণীল-ধূষর, বৈচিত্রময় এক মহাকাব্যের নাম ম্যারাডোনা।

আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনআইরেসের এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম দিয়াগো আরমান্দো ম্যারাডোনার। ছোটবেলা থেকেই যার কাছে ফুটবল ছিল জীবনদর্শনের নাম।

মাত্র ১৭ বছর বয়সে জাতীয় দলে জায়গা হয়েছিলো ঠিকই কিন্তু, এই বয়সের জন্যই ৭৮ বিশ্বকাপ দলে জায়গা হয়নি। আলবিসেলেস্তে জার্সীতে ৯১ ম্যাচে ৩৪ গোল তার মাহাত্ম্য বোঝায়না। ক্লাব ক্যারিয়ারে নাপোলিকে প্রথম আর শেষ বারের মত দুবার লিগ শিরোপা উপহার কিংবা উয়েফা কাপ জেতানোও তার গরীমা বোঝাতে যথেষ্ট নয়।  

তবে কেনো তিনি সেরাদের সেরা, শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ ফুটবলার?

১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ হাতে বিশ্বকাপজয়ী ম্যারাডোনা

১৯৮৬ বিশ্বকাপটা সব বিশ্বকাপ থেকে আলাদা, মহিমান্বিত শুধুই ম্যারাডোনার জন্য। একক নৈপুন্যে বিশ্বকাপ উপহার দেয়ার নজির ইতিহাসে মেলা ভার। কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গোল ‘হ্যান্ড অব গড’ নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। একই ম্যাচে শতাব্দীর সেরা গোলের দেখা পান এ কিংবদন্তি।

১৯৯০ তে তার নেতৃত্বে ফাইনালে উঠেছিলো হট ফেভারিট আর্জেন্টিনা। তবে টানা দ্বিতীয়বারের মত শিরোপা জিততে না পারার আক্ষেপ এখনো পোড়ায় ম্যারাডোনাকে। 

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ফাউলের শিকার হওয়া ফুটবলার তিনি। ইতালির বিপক্ষে একম্যাচেই রেকর্ড ২৩ সবমিলিয়ে ৫৩ বার অবৈধ ভাবে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি।

১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে  ‘হ্যান্ড অব গড’ এর গোল

কিন্তু চাঁদের কলঙ্কের মতই মাদকাশক্তি আর অনিয়ন্ত্রিত জীবন কালোদাগ হয়ে আছে এ ফুটবলারের ক্যারিয়ারে।  ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ডোপ টেস্টে নিষিদ্ধ হওয়া। কোকেন, অ্যালকহল এ ফুটবল গ্রেটের নিত্যসঙ্গী। শেষ বিশ বছরে দু বার হ্যার্ট অ্যাটাক ছাড়াও হেপাটাইটিস, নিওমোনিয়ার মত রোগেও আক্রান্ত হয়েছেন তিনি।  

ফুটবলার হিসেবে যতটা সফল কোচ হিসেবে ততটাই ব্যর্থ ম্যারাডোনা। সেরা প্রাপ্তি নিজ দেশের দায়িত্ব নেয়া। কিন্তু ২০১০ বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার অধীনে কোয়ার্টার ফাইনালে থেমেছে আর্জেন্টিনার স্বপ্নযাত্রা।

কোচ ম্যারাডোনা

এছাড়াও ১৯৯৪ থেকে এখনো পর্যন্ত ৭টি অখ্যাত ক্লাব সামলেছেন। সবশেষ আর্জেন্টিনার জিমনেশিয়া নামে প্রথম বিভাগের ক্লাবের দায়িত্বে ম্যারাডোনা।

ব্যতিক্রমী জীবনের মতই এবারের জন্মদিনের ইচ্ছাটাও অদ্ভুতুড়ে ম্যারাডোনার। সঙ্গে প্রশংসা করেছেন মেসি-রোনালদোকে।

ফুটবল গ্রেট দিয়াগো ম্যারাডোনা বলেন, ইংল্যন্ডের বিপক্ষে বা হাত দিয়ে গোল করেছিলাম। এবারের জন্মদিনে আমার চাওয়া যদি ডান হাত দিয়ে আরো একটা গোল করতে পারতাম। মেসি রোনালদোর পারফরম্যান্সের অর্ধেকও দেখাতে পারেনা সমসাময়িক ফুটবলাররা।

৬০তম জন্মদিন অনেকটাই নিভৃতে একাকী কাটছে ফুটবল ইশ্বরের। দেহরক্ষীর করোনার উপসর্গ দেখা দেয়ায় সেল্ফ আইসোলেশনে জীবন্ত কিংবদন্তি। তবে  বিশ্বজুড়ে চলছে কোটি ফুটবল ভক্তের মনে, হাজারো ক্রীড়া সাংবাদিকের লেখনীতে অদৃশ্য উদযাপন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএস