এক ম্যাচেই প্রতিপক্ষের জালে রেকর্ড ১৩ গোল, ৪৫ শট!

এক ম্যাচেই প্রতিপক্ষের জালে রেকর্ড ১৩ গোল, ৪৫ শট!

স্পোর্টস ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৫৩ ২৫ অক্টোবর ২০২০  

গোল করার পর আয়াক্সের খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বাস

গোল করার পর আয়াক্সের খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বাস

গোলের খেলা ফুটবল। তবে সেখানে ম্যাচ জিততে একটি গোলই যথেষ্ট। অনেক সময় তো ৯০ মিনিট দৌড়িয়েও কোনো দল একবারও বল জালে জড়াতে পারে না। তবে ডাচ লিগে অন্যরকম কীর্তি গড়েছে আয়াক্স। শনিবার প্রতিপক্ষ ভেনলোর জালে গুণে গুণে ১৩বার বল জড়িয়েছে দলটি। এছাড়া গোল করার জন্য শট নিয়েছে ৪৫টি! 

ম্যাচের প্রথমার্ধে ৪ গোল দিলেও দ্বিতীয়ার্ধে একটু বেশিই ক্ষুধার্ত ছিল আয়াক্সের খেলোয়াড়রা। এই সময়ে তারা দিয়েছে ৯টি গোল! নেদারল্যান্ডের শীর্ষ লিগে এটাই সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড। 

অবশ্য ডাচ লিগে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের রেকর্ডটি এত দিন আয়াক্সের অধিকারেই ছিল। গত শতাব্দীর ষাট ও সত্তরের দশকটা ছিল আয়াক্সের সোনালি যুগ। সেই সময়ে দলতিতে খেলেছেন ইয়োহান ক্রুইফের মতো তারকা। ১৯৭২ সালে ডাচ লিগে ভিতেসেকে ১২-১ গোলে হারিয়েছিল আয়াক্স। 

দীর্ঘ ৪৮ বছর পর সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড ভাঙতে লাসিনা ত্রায়োরে একাই করেছেন পাঁচ গোল। এটাও অনন্য এক কীর্তি। ১৯৮৫ সালে মার্কো ফন বাস্তেনের পর এবারই প্রথম আয়াক্সের কোনো ফুটবলার ডাচ লিগের এক ম্যাচে পাঁচটি গোল করল।

এছাড়া চলতি মৌসুমে লিগে এই ম্যাচেই প্রথম গোল করেছেন ১৯ বছর বয়সী ত্রায়োরে। এক ম্যাচের গোলেই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন তিনি। গোল করার পাশাপাশি করানোতেও এ ম্যাচে তার তুলনা ছিল না। সতীর্থদের করা তিনটি গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন ত্রায়োরে। 

ম্যাচ শেষে ভেনলোর জালে আয়াক্সের এমন গোলবন্যার রহস্য জানিয়েছেন ত্রায়োরে নিজেই। তিনি জানান, চ্যাম্পিয়নস লিগে লিভারপুলের কাছে ১-০ গোলে হেরে খুব তেতে ছিল আয়াক্স। মূলত সেই আগুনেই আসলে পুড়েছে ভেনলো!

ত্রায়োরে বলেন, ‘ভেনলোর প্রতি আমাদের পুরো শ্রদ্ধা আছে। কিন্তু মাঠে নামলে সব সময়ই আমরা নিজেদের উজাড় করে খেলি। কখনো কখনো তো বেশ তেতেও থাকি।’ একই কথা বলেছেন আয়াক্সের কোচ এরিক টেন হাগ। তিনি বলেন, ‘লিগে আপনি সচরাচর এমন ধরনের ফল দেখবেন না। এটা বিশেষ এক ম্যাচ। এদিন আমরা মাঠে গোলের জন্য ক্ষুধার্ত ছিলাম। সবাই যত বেশি সম্ভব গোল করতে চেয়েছি। সেটা আমরা করেছিও।’

এদিকে দুঃস্বপ্নের এই ম্যাচটি ভেনলোর কোচের জন্য ভুলে যেতে চাওয়াটাই স্বাভাবিক। ম্যাচ শেষে দলটির কোচ হান্স ডি কোনিং বলেন, ‘এটা এমন একটি ম্যাচ, যেটিকে আমরা মাটির অনেক গভীরে চাপা দিয়ে রাখতে চাইব। এরপর এর ওপরে কংক্রিট বিছিয়ে দেব।’

ডেইলি বাংলাদেশ/এএল