জন্ম থেকে নেই দুই হাত, মুখ দিয়েই বাজিমাত

জন্ম থেকে নেই দুই হাত, মুখ দিয়েই বাজিমাত

স্পোর্টস ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:০৫ ২৪ অক্টোবর ২০২০  

স্নুকার খেলছেন ইকরাম

স্নুকার খেলছেন ইকরাম

পৃথিবীতে সবারই জন্মের সময় সম্পূর্ণ মানুষ হয়ে আগমনের ভাগ্য থাকে না। বিভিন্ন কারণে অনেকেই প্রতিবন্ধী হয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তবে শারীরিক অক্ষমতাকে ছাপিয়ে কেউ কেউ আলাদা জায়গা করে নেন, আদায় করে নেন সম্মান। তাদেরই একজন মোহাম্মদ ইকরাম। পাকিস্তানি এই ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব দুই হাত ছাড়াই জন্মগ্রহণ করেন। তবে ভালোবাসার স্নুকার খেলায় দক্ষতা অর্জন করে অনেককেই ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। 

স্নুকার খেলায় হাতে থাকা কিউ (লম্বা দন্ড) দিয়ে সাদা বলের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পকেটে রঙিন বল ফেলতে হয়। অনেক খেলোয়াড়ই স্বাভাবিক অবস্থায় ঠিকভাবে বল ফেলতে হিমশিম খান। তবে ৩২ বছর বয়সী ইকরাম খুব সহজেই মুখ দিয়ে বল ঠেলে এই খেলায় বাজিমাত করে যাচ্ছেন। 

নৈপুণ্য প্রদর্শনের মাধ্যমে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ পাঞ্জাবের সামুন্দ্রি শহরের স্নুকার সম্প্রদায়ের মধ্যে এখন বেশ পরিচিত মুখ ইকরাম। স্নুকার খেলার সুবাদে নিজ শহর ছাড়িয়ে এখন তার নাম ছড়িয়ে পড়েছে বিদেশেও।

দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেন ইকরাম। পরিবারের অবস্থা ভালো না হওয়ায় তিনি ও তার আট ভাই-বোনের কেউই স্কুলে যেতে পারেননি। তার শৈশবের বেশিরভাগ সময় পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কেটেছে। তরুণ বয়সেস্থানীয় স্নুকার হলে খেলা দেখতে যেতেন তিনি। 

এভাবেই মুখ দিয়ে খেলে যাচ্ছেন ইকরামখেলা দেখতে দেখতেই ইকরামের আগ্রহ বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে আগ্রহ এতটাই বেড়ে যায় যে হাত না থাকলেও বোর্ডের দিকে এগিয়ে যান তিনি। গোপনে গোপনে মুখ দিয়ে খেলার অনুশীলন চালাতে থাকেন। শুরুর দিকে একা খেললেও পরে অন্যদের সঙ্গে খেলতে শুরু করেন। 

এ প্রসঙ্গে ইকরাম বলেন, ‘শুরুর দিকে খালি পুলের টেবিলে আমি একাই বল নিয়ে অনুশীলন করতাম। ধীরে ধীরে উন্নতি করতে থাকায় অন্যদের সঙ্গে খেলতে শুরু করি। এটা একটা কঠিন কাজ। আমাকে খেলা আয়ত্তে আনতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। যদি আমার মতো কোনো খেলোয়াড় থাকেন, তাহলে তার বিপক্ষে খেলতে আমি প্রস্তুত।’

হাত না থাকলেও কখনো আশা হারাননি ইকরাম। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ আমাকে হাত দেননি, কিন্তু সাহস দিয়েছেন। আকাঙ্ক্ষা পূরণে আমি সবসময় আমার মনোবল ধরে রাখি। কখনো কারো আশা হারানো উচিত না। প্রত্যেককে তাদের লক্ষ্য অর্জনে অদম্য থাকা উচিত।’

ডেইলি বাংলাদেশ/এএল