ভারতের জাতীয় পদকজয়ী এই অ্যাথলেট এখন পেট চালান মদ বেঁচে

ভারতের জাতীয় পদকজয়ী এই অ্যাথলেট এখন পেট চালান মদ বেঁচে

স্পোর্টস ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:২৫ ২২ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৭:০৮ ২২ অক্টোবর ২০২০

বিমলা মুণ্ডা

বিমলা মুণ্ডা

ক্রীড়াবিদদের জীবনের বোধ হয় এটাই নিয়তি। যতদিন পারফরম্যান্স আছে, সব আছে। যখন আর ভালো কিছু করতে পারে না তখন ভুলে যায় সবাই। করোনার এই সময়ে এসে বিপাকে পরেছেন অসংখ্য ক্রীড়াবিদ। জাতীয় পদকজয়ী বিমলা মুণ্ডাকে চাকরি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা পূরণ করেনি সরকার। অগত্যা মদ বেঁচেই পেট চালাচ্ছেন তিনি। 

বিমলা মূলত একজন কারাতে খেলোয়াড়। যে হাত দিয়ে জাতীয় পদক জিতেছেন, বেঁচে থাকার তাগিদে সেই হাত দিয়েই এখন ক্রেতাকে হাঁড়িয়া (স্থানীয় মদ) মেপে দেন তিনি। এছাড়া অন্নসংস্থানের আর কোনো পথ নেই ভারতের ঝাড়খণ্ডের এই অ্যাথলেটের।

বিমলার পরিবারের আর্থিক অবস্থা বরাবরই খুব একটা ভাল ছিল না। করোনা মহামারিতে সেই অবস্থা আরো কঠিন হয়েছে। ২৬ বছর বয়সী বিমলা জানিয়েছেন, হাঁড়িয়া বিক্রি করেই এখন তার সংসার চলে। বিমলার কোনো স্পনসর না থাকায় যাবতীয় খরচ তাকেই যোগাড় করতে হয়।

এক সময়ে মায়ের উপার্জনে বিমলার সংসার চলত। কিন্তু বয়সের ভারে তিনি আর দিনমজুরির কাজে যেতে পারেন না। ২০১১ সালে জাতীয় ক্রীড়ায় রুপা ও ২০১৪ সালে অক্ষয় কুমার আন্তর্জাতিক কুডো টুর্নামেন্টে সোনা জেতেন বিমলা।

এরপর তার আশা ছিল, রাজ্য সরকারের তরফ থেকে আর্থিক সাহায্য বা একটা চাকরি পাবেন। কিন্তু সেসব স্বপ্নই থেকে গেছে। মায়ের সঙ্গে হাঁড়িয়া বিক্রিতেই দিন পার করেন এই তরুণী। তাদের উপার্জনের টাকার দিকে তাকিয়ে বাড়িতে অপেক্ষা করেন বিমলার বাবা এবং বৃদ্ধ দাদু।
বিমলার সব সনদ ও পদকবিমলা বলেন, গত বছর তৎকালীন ঝাড়খণ্ড সরকার ঘোষণা করেছিল, রাজ্যের ৩৩ জন পদকজয়ী খেলোয়াড়কে চাকরি দেয়া হবে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রক্রিয়া ধামাচাপা পড়ে গেছে। তার বাড়িতে জমে আছে অসংখ্য পদক ও প্রশংসাপত্র। এই অ্যাথলেটের আক্ষেপ, সব পদক তার বাড়িতে ঠিকমতো রাখারও জায়গা নেই। এমনকি সংরক্ষণের অভাবে বেশ কিছু পদক নষ্টও হয়েছে।

অতীতে পদক ও শংসাপত্র নিয়ে গর্বিত হলেও এখন আর স্বপ্ন দেখতে ভাল লাগে না বিমলার। ঝাড়খণ্ডের স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে এই কারাতেকার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর তার সংগ্রাম জায়গা পেয়েছে জাতীয় সংবাদ মাধ্যমেও।

বেশ কিছু জায়গায় খবর প্রকাশের পর ঝাড়খণ্ড সরকারের টনক নড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন এরই মধ্যে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। রাঁচীর ডেপুটি কমিশনারকে ক্রীড়াসচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিমলার পাশে সবরকম সাহায্য নিয়ে দাঁড়ানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

করোনা মহামারি চলে গেলে আবারো খেলার মঞ্চে ফিরতে পারবেন কি-না সেটা ভাবতে চান না বিমলা। আপাতত মদ বিক্রি করে দু’বেলা দু’মুঠো খাবার যোগাড় করার দিকেই মন দিয়েছেন তিনি। বেঁচে থাকা যেখানে কঠিন, খেলার রূপালী জগত তো সেখানে ধূসর স্বপ্ন। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এএল