বিভীষাকার সেই ক্রাইস্টচার্চে খেলবে বাংলাদেশ

বিভীষাকার সেই ক্রাইস্টচার্চে খেলবে বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:৪০ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০  

ক্রাইস্টচার্চে হামলার পর নিরাপদে টাইগাররা

ক্রাইস্টচার্চে হামলার পর নিরাপদে টাইগাররা

আগামী বছরের মার্চে নিউজিল্যান্ড সফরে যাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে সফরকারী বাংলাদেশ। প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী আগামী বছরের ১৭ মার্চ ক্রাইস্টচার্চের হেগলি ওভালে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ওয়ানডে রয়েছে। এই ক্রাইস্টচার্চের নাম উচ্চারিত হলেই বুক কেঁপে ওঠে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের।

ক্রাইস্টচার্চে হামলা থেকে বেঁচে পার্কের মধ্য দিয়ে হেটে যাচ্ছেন টাইগাররা

কারণ টাইগার দলের গেল নিউজিল্যান্ড সফরে ক্রাইস্টচার্চে দু’টি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছিল। স্থানীয় দু’টি মসজিদে জুমার নামাযের জন্য অপেক্ষা থাকা মুসল্লিদের এলোপাথাড়ি গুলি করে খুন করে এক সন্ত্রাসী। এর মধ্যে একটি মসজিদে জুমার নামায পড়তে যাচ্ছিলেন তামিম-মুশফিকরা। সেই ভয়ংকর স্মৃতিকে মাথায় রেখে আবারো নিউজিল্যান্ড সফরে যেতে হবে টাইগারদের।

ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে সেই সন্ত্রাসী হামলায় ৫১জন মুসলিমের মৃত্যু ও ৪০জন আহত হন।

গেল বছরের ১৫ মার্চ দ্বিতীয় টেস্টের আগে অনুশীলনের নামার আগে জুমার নামায আদায় করতে হেগলি ওভালের বিপরীতে অবস্থিত আল নুর মসজিদের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলো বাংলাদেশ দল। এর মধ্যে ঐ মসজিদে প্রবেশ করে বন্দুক দিয়ে গুলি বর্ষন শুরু করেন সন্ত্রাসী।

ক্রাইস্টচার্চে হামলার পর নিরাপদে টাইগাররা

বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা মসজিদে প্রবেশের কয়েক মিনিট আগে এক মহিলা দৌঁড়ে যাবার সময় তামিম-মুশফিকদের সর্তক করে বলেন, সামনে গোলাগুলি হচ্ছে। তাতেই সর্তক হয়ে যায় বাংলাদেশ দল। তাদের বিপদমুক্ত করতে সহায়তা করেন ঐ মহিলা। এতে খেলোয়াড়রা বিস্মিত হয়েছিলো এবং বাসের মেঝেতে শুয়ে নিজেদের রক্ষার চেষ্টা করে।

ঐ ঘটনায় যদিও কোন খেলোয়াড়ের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং টেস্ট পরিত্যক্ত ঘোষণার পরদিনই দেশে ফিরেছিলো দল। কিন্তু ঐ দুঃস্মৃতি দীর্ঘদিন তাড়া করে বেড়িয়েছে খেলোয়াড়দের।

ঐ দিন হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক বলেন, এটা ছিল আমার দেখা সবচেয়ে জঘন্য হামলা।  এটা আমাকে এত কস্ট দিয়েছিল এবং সেই দুঃস্মৃতি দীর্ঘদিন আমাকে তাড়া করেছে।

নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের প্রধান নির্বাহি ডেভিড ওয়াইট জানান, বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ আয়োজনের জন্য এখনো সরকারের অনুমোদন পায়নি, তবে সিরিজের ব্যাপারে তারা আশাবাদি।

ক্রাইস্টচার্চে হামলা থেকে বেঁচে পার্কের মধ্য দিয়ে হেটে যাচ্ছেন টাইগাররা

গেল সপ্তাহে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ আয়োজনের জন্য সবুজ সংকেত দেয় নিউজিল্যান্ডের সরকার। করোনা কারণে দেশের পরিস্থিতি বিবেচনায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানকে সেখানে পৌঁছে ১৪ দিনের কঠোর কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে।  

ওয়াইট বলেন, ‘আমি আজ এ ঘোষণা করতে পেরে উচ্ছ্বসিত। গত ছয় মাস ধরে অনিশ্চিয়তা ও সমস্যার মধ্যে কেটেছে। এই জটিল পরিস্থিতিতে প্রক্রিয়াটি চালিয়ে যেতে আমরা নিউজিল্যান্ড সরকারের কাছে ঋণী।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে দু’টি করে টেস্ট সিরিজ খেলবে নিউজিল্যান্ড। এছাড়াও দু’টি দলের বিপক্ষে তিনটি করে টি-টোয়েন্টি সিরিজও খেলবে কিউইরা।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএস