অঘোষিত ফাইনালে কাল ইংলিশদের মুখোমুখি হচ্ছে অজিরা

অঘোষিত ফাইনালে কাল ইংলিশদের মুখোমুখি হচ্ছে অজিরা

স্পোর্টস ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:৪৯ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০  

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

প্রথম ওয়ানডে অস্ট্রেলিয়া, দ্বিতীয়টিতে ইংল্যান্ড জয় পাওয়ায় দুই দলের মধ্যকার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-১ সমতা বিরাজ করছে। ফলে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেটি রুপ নিয়েছে অঘোষিত ফাইনালে। এ ম্যাচের বিজয়ী দল সিরিজ জয়ের স্বাদ নেবে। দু’দলেরই লক্ষ্য সিরিজ জয়। ম্যানচেষ্টারে বিশ্বকাপ সুপার লিগের অংশ এই সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে শুরু হবে কাল বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টায়।

গেল জুলাইয়ের শেষদিকে, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ আয়োজন করে ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। এটিই ছিলো আইসিসি বিশ্বকাপ সুপার লিগের প্রথম সিরিজ। আইরিশদের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে ইংলিশরা। করোনার কারণে দীর্ঘদিন ক্রিকেট বন্ধ থাকার পর এই সিরিজ দিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটের পথচলা পুনরায় শুরুও হয়। একই  মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ দিয়ে করোনাকালে ক্রিকেটকে মাঠে ফেরায় ইসিবি।

বিশ্বকাপ সুপার লিগের দ্বিতীয় সিরিজ হলো- ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার সিরিজ। প্রথম ম্যাচে ১৯ রানের জয়ে সিরিজে দারুন যাত্রা করে অস্ট্রেলিয়া। তবে দ্বিতীয় ম্যাচটি নিজেদের দোষেই হারে অসিরা।

প্রথমে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ২৩১ রান করেছিলো ইংল্যান্ড। এরপর ২৩২ রানের লক্ষ্য স্পর্শ করতে নেমে ৩০ দশমিক ৪ ওভারে ২ উইকেটে ১৪৪ রানও করে ফেলে অস্ট্রেলিয়া। শেষ ১১৬ বলে ৮ উইকেট হাতে নিয়ে ৮৮ রানের প্রয়োজন ছিলো অজিদের। কিন্তু ৬৩ রানে পরের ৮ উইকেট হারিয়ে লজ্জার হারকে বরণ করে নেয় তারা। ২৪ রানের জয়ে সিরিজে ১-১ সমতা আনতে পারে ইংল্যান্ড।

জয়ের পথে থেকে অস্ট্রেলিয়ার এমন হারের কারণে হতবিহ্বল অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ। তিনি বলেন, আমাদের পরিকল্পনায় শতভাগ থাকতে পারছি না। আমরা হঠাৎ করে সবকিছুতে গোলমাল করে ফেলছি। দ্বিতীয় ম্যাচের উইকেট অবশ্য কঠিন ছিল। আমরা জানতাম নতুন ব্যাটসম্যানদের জন্য এই উইকেটে খেলা কঠিন হবে। কন্ডিশন কঠিন থাকলেও, এভাবে ব্যাটিং ধসের কোন অজুহাত নেই। আমাদের জয়ের ভালো সুযোগ ছিল, কিন্তু আমরা ব্যাটসম্যানরা পুরোপুরি ব্যর্থ। এই হারের দায় ব্যাটসম্যানদেরই নিতে হবে।

মাথার ইনজুরিতে সিরিজের প্রথম দু’ম্যাচে খেলতে পারেননি দলের সেরা ব্যাটসম্যান স্টিভেন স্মিথ। শেষ ম্যাচে তাকে পাবার ব্যাপারে আশাবাদি টিম ম্যানেজমেন্ট। তারপরও সিরিজ নিধার্রনী ম্যাচে দলের অন্যান্য ব্যাটসম্যানদের সতর্ক করলেন  ফিঞ্চ, আগের ম্যাচের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে। ব্যাটসম্যানদের আরও বেশি দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে। সিরিজ জিততে হলে, ভালো খেলা ছাড়া উপায় নেই।

২০১৫ সালে সর্বশেষ ইংল্যান্ডের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছিলো অস্ট্রেলিয়া। পাঁচ ম্যাচের সিরিজ ৩-২ ব্যবধানে জিতেছিলো তারা। এরপর দু’বার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেললেও, দু’টি সিরিজই হারে অসিরা। এরমধ্যে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ইংল্যান্ডের মাটিতে হোয়াইটওয়াশ হয় অস্ট্রেলিয়া। আর গত বিশ্বকাপের মঞ্চে দু’বারের দেখায়, একবার ম্যাচ জিতে অসিরা।

২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে সিরিজ হারই ইংল্যান্ডের সর্বশেষ লজ্জা। এরপর দেশের মাটিতে আর কোন দ্বিপক্ষীয় সিরিজ হারেনি ইংলিশরা। টানা নয়টি ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে তারা। এছাড়া দেশের মাটিতে ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ের বড় অর্জন তো আছেই। তাই দেশের মাটিতে সিরিজ জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায় ইংলিশরা। এমনই সুর ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ইয়ন মরগানের, 'পিছিয়ে পড়েও যেভাবে আমরা সিরিজে ফিরেছি, তা প্রশংসনীয়। দ্বিতীয় ম্যাচে নিশ্চিত জয়ের পথেই ছিলো অস্ট্রেলিয়া। সেখান থেকে বোলাররা এভাবে ম্যাচ ঘুড়িয়ে দেবে, ভাবাই যায় না। এজন্য বোলারদের প্রশংসা করতেই হয়। এখন সিরিজ জয়ের পালা, শেষ ম্যাচে ভালো খেলে টি-টোয়েন্টির মত ওয়ানডে সিরিজও আমরা জিততে চাই। পাঁচ বছর ধরে দেশের মাটিতে ওয়ানডে আমাদের সাফল্য ঈর্ষনীয়। কোন সিরিজ হারিনি আমরা। এই ধারাটা অব্যাহত রাখতে হবে।’

এখন পর্যন্ত ১৫১ ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লড়াই করে ৮৩টিতে জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। ইংল্যান্ডের জয় ৬৩টি। 

ইংল্যান্ড দল : ইয়ন মরগান (অধিনায়ক), মঈন আলি, জোফরা আর্চার, জনি বেয়ারস্টো, টম ব্যান্টন, স্যাম বিলিংস, জস বাটলার, স্যাম কারান, টম কারান, আদিল রশিদ, জো রুট, জেসন রয়, ক্রিস ওকস ও মার্ক উড।

অস্ট্রেলিয়া দল : অ্যারন ফিঞ্চ (অধিনায়ক), প্যাট কামিন্স (সহ-অধিনায়ক), শন অ্যাবট, অ্যাস্টন আগার, অ্যালেক্স ক্যারি, জশ হ্যাজলউড, মার্নাস লাবুশেন, নাথান লিঁও, মিচেল মার্শ, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, রিলে মেরেডিথ, জশ ফিলিপ, ড্যানিয়েল স্যামস, কেন রিচার্ডসন, স্টিভেন স্মিথ, মিচেল স্টার্ক, মার্কাস স্টোয়নিস, এন্ড্রু টাই, ম্যাথু ওয়েড, ডেভিড ওয়ার্নার এবং এডাম জাম্পা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই