সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে থাকবেন নাতালিয়া-হাবিব

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে থাকবেন নাতালিয়া-হাবিব

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:১৪ ২৯ ডিসেম্বর ২০২১   আপডেট: ২০:১৯ ২৯ ডিসেম্বর ২০২১

নাতালিয়া ও হাবিব (ছবি: সংগৃহীত)

নাতালিয়া ও হাবিব (ছবি: সংগৃহীত)

বাংলাদেশের ছেলে হাবিব ও বেলারুশের মেয়ে নাতালিয়া। বসবাস করেন জার্মানিতে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দম্পতির সাংসারিক খুনসুটি ও মজার মজার ভিডিও প্রতিদিন দেখছে লাখ লাখ মানুষ।

বাংলাদেশের লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার সন্তান হাবিবুর রহমান পেশায় একজন প্রকৌশলী। বর্তমানে তিনি জার্মান ইঞ্জিনিয়ারিং কন্সাল্টিং ফার্মে ইন্টারন্যাশনাল প্রজেক্ট ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন। আর বেলারুশের রাজধানী মিনস্কের কাছাকাছি শহর বাবরুস্কের মেয়ে নাতালিয়া রহমান। তিনি পেশায় একজন ফার্মাসিস্ট। 

২০১২ সালে জার্মানির বিখ্যাত ফুটবল ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ স্টেডিয়ামে ‘স্টুডেন্ট জব’ করতে গিয়ে হাবিবের সঙ্গে পরিচয় নাতালিয়ার। প্রথমে বন্ধুত্ব পরে তা ধীরে ধীরে প্রেমে রূপ নেয়। অবশেষে ২০১৭ সালের ৯ জুলাই তারা বিয়ে করেন। চার বছরের দাম্পত্য জীবনে তাদের পৌনে দুই বছরের একমাত্র ফুটফুটে কন্যা সন্তান নাদিয়া রহমানও রয়েছে। বর্তমানে তারা জার্মানির পূর্বাঞ্চলের সাক্সনি অঙ্গরাজ্যের কেমনিজ শহরে থাকেন।

আরো পড়ুন: ‘বিদেশি বধূ’কে নিয়ে হই হই রব, বাঙালিয়ানায় সাজলো হাবিবুরের ছোট্ট মেয়েও

২০২০ সালের অক্টোবরের শেষে করোনার মহামারিতে জার্মানিতে দীর্ঘ লকডাউনের একঘেঁয়েমি কাটাতে শখের বশেই ‘নাতালিয়া অ্যান্ড হাবিব- দ্য মিক্স ম্যাচ ফ্যামিলি’ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল ও ফেইসবুক পেইজ খোলেন। তাদের নিত্যদিনের খুনসুটির পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতামূলক সব ভিডিও তৈরি করে সেখানে পোস্ট করতে থাকেন। ধীরে ধীরে তাদের অনুসারী বাড়তে থাকে। তাদের সব ভিডিও পেজ ও চ্যানেলের মাধ্যমে পৌঁছে যায় লাখ লাখ মানুষের কাছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশে এসেছেন নাতালিয়া-হাবিব দম্পতি। গত সোমবার প্রথমবারের মতো  স্বামী হাবিবুরের সঙ্গে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসেন নাতালিয়া। গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছেন আর ভাঙা বাংলায় সবার সঙ্গে কথা বলছেন নাতালিয়া।

হাবিবুর রহমানের বড় ভাই লায়ন আজহার মাহমুদ বলেন, নাতালিয়া বিদেশে মানুষ হলেও আমাদের সঙ্গে খুব সহজেই মিশে গেছে। আমার ভাই হাবিব তাকে আগে থেকেই সব কিছু শিখিয়ে নিয়েছে। গ্রামের মানুষের সঙ্গে সহজেই সে মিশে গেছে। এটা খুবই ভালো লাগছে। 

আরো পড়ুন: বিদেশি বধূর রসায়ন বিনোদনের অনুসারী ৪০ লাখ, ‘টাক’ নিয়ে যা বললেন স্বামী হাবিব

নাতাশা রহমানকে দেখতে এসেছেন মো. সেলিম হোসেন নামে এক প্রতিবেশী। তিনি বলেন, শুনেছি হাবিবের বাড়িতে বিদেশিনী আসছে। তাই বিদেশি বউকে দেখতে এসেছি। দেখে মনে হয়নি তাদের বাড়ি বিদেশ। আমাদের দেশের মানুষের মতো বাংলায় কথা বলে এবং সবার সঙ্গে মিশছে।

আরেক প্রতিবেশী বলেন, নাতালিয়া ব্যবহারে আমারা মুগ্ধ। তাকে দেখলে মনে হয় যেন দেশের বউ। তিনি আমাদের পাশে বসে কথা বলেছে এবং পরিচিত হয়েছে। আচরণ দেখে আমরা খুব অবাক হয়েছি।

হাবিবুর রহমান বলেন, ঢাকায় অনেক কোলাহল। নাতালিয়া একটু নিরিবিলি, প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করে। তাই গ্রামের বাড়িতে এসেছি। এখানে গাছ-গাছালি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নাতালিয়া উপভোগ করছে।

তিনি আরো বলেন, আমি আমরা নিজেদের জীবনের অভিজ্ঞতা মানুষকে জানাতে চাই। আমি বাংলাদেশের সন্তান। বাংলা ভাষায় কথা বলতে পছন্দ করি। আমরা দুইজন ভালো ইংরেজি পারি। তারপরও আমাদের ভাষাকে আমরা সবার কাছে পরিচিত করতে চাই। ভাষাকে জানতে পারলে আমরা সংস্কৃতিকে জানতে পারব।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে নাতালিয়া বলেন, ঢাকায় অনেক গাড়ি, অনেক বাড়ি। গাড়ির শব্দে ঠিকমতো ঘুমানো যায় না। গ্রাম অনেক সুন্দর। বাংলাদেশকে ও গ্রামকে ভালোবাসি। আমাকে পরিবারের সবাই প্রিন্সেসের মতো ট্রিট করছে। সবাই খুব দ্রুত আমাকে আপন করে নিয়েছে। আমাদের বেলারুশের গ্রামগুলো অনেক ছোট। তাই এভাবে উপভোগ করতে পারি নাই। এখানে এসে আমি মুগ্ধ।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে অনেক পথশিশু ও সুবিধাবঞ্চিত শিশু রয়েছে যাদের শিক্ষার সুযোগ করে দিলে অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবে। আমরা তাদের জন্য সহজ শিক্ষামূলক ভিডিও বানাব।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএডি