বিদেশি বধূর রসায়ন বিনোদনের অনুসারী ৪০ লাখ, ‘টাক’ নিয়ে যা বললেন স্বামী হাবিব

বিদেশি বধূর রসায়ন বিনোদনের অনুসারী ৪০ লাখ, ‘টাক’ নিয়ে যা বললেন স্বামী হাবিব

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০২:৪৪ ২৬ ডিসেম্বর ২০২১   আপডেট: ০২:৪৭ ২৬ ডিসেম্বর ২০২১

হাবিবুর রহমান ও তার স্ত্রী নাতিয়ালা রহমানের গায়ে হলুদের একটি মুহূর্ত। ছবি- ছায়াছবি

হাবিবুর রহমান ও তার স্ত্রী নাতিয়ালা রহমানের গায়ে হলুদের একটি মুহূর্ত। ছবি- ছায়াছবি

বাংলাদেশের ছেলে হাবিবুর রহমান আর বেলারুশের মেয়ে নাতালিয়া রহমান। প্রেম করে বিয়ে করেছেন তারা। তাদের সংসারে রয়েছে আড়াই বছর বয়সী ফুটফুটে একটা কন্যা সন্তানও। নাম নাদিয়া রহমান। প্রকাশিত ভিডিও ও ছবি দেখে বলার অপেক্ষা রাখে না- তাদের দাম্পত্য জীবন কতটা রঙিন! রসায়নে ভরপুর সংসার জীবনের কর্মকাণ্ড দেখে বিনোদিত হচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। 

এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে তাদের অনুসারীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৪০ লাখের বেশি। তবে ফ্লিম লাইফ ও রিয়েল লাইফ নিয়ে জানতে কৌতুহলের শেষ নেই এসব অনুসারীদের। তাই তাদের জন্য আজকের এ প্রতিবেদন-

সম্প্রতি বিদেশি বউ-বাচ্চাকে নিয়ে দেশে এসেছেন হাবিবুর রহমান। এরই মধ্যে সোশ্যাল মাধ্যমে তাদের সবশেষ কার্যক্রমগুলো ভাইরাল।

ছবিতে দেখা গেছে, মায়ের গায়েহলুদের অনুষ্ঠানে লাল ব্লাউজ ও হলুদ শাড়ি পরে সেজেছে আড়াই বছর বয়সী নাদিয়া। একইভাবে সেজেগুজে বাবা হাবিবুর রহমান ও মা নাতালিয়া রহমানের বিয়ের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও যায় মেয়ে। 

ছবি: ছয়াছবির ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত

মূলত বাংলাদেশে এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মেয়েসহ এই দম্পতি এসেছেন জার্মানি থেকে। আর নেট দুনিয়ায় এই দম্পতির ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলের লাখ লাখ অনুসারী এই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা দেখছেন।

বাংলাদেশ আর বেলারুশের এই দুজন ২০১৭ সালে বিয়ে করেন। মেয়ের জন্ম, করোনার প্রাদুর্ভাবসহ বিভিন্ন কারণে এই দম্পতি বাংলাদেশে আসতে পারেননি। এবারই মেয়েসহ প্রথম দেশে এসে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সেরেছেন তারা। এসব আনুষ্ঠানিকতায় ছিল বাঙালিয়ানার ছাপ। ইভেন্ট ভিডিওগ্রাফি ও ফটোগ্রাফি প্রতিষ্ঠান ‘ছায়াছবি’ এই বিয়ের অনুষ্ঠানের ভিডিও ও ছবি তোলার দায়িত্বে ছিল।

ছবি: ছয়াছবির ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত

বেলারুশের মেয়ে নাতালিয়া প্রথম দিকে বাংলাদেশের এসব অনুষ্ঠান নিয়ে ভয়ে ছিলেন। স্টেজে বসে থাকবেন আর সামনের অনেক মানুষ তাকে দেখবেন, তা মেনে নিতে পারছিলেন না। তবে বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, গায়েহলুদ ও বিয়ের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে জড়তা কেটে যায় এ বিদেশি বধূর। 

ছবি: ছয়াছবির ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কালো চশমা পরে বউ নিজেও নাচেন। তারপর বাংলায় জানতে চান—পার্টি কেমন হলো? হলুদ শাড়ি ও ফুলের গয়না পরে নিজেকে দেখে নিজেই বলেন, ‘অনেক ভালো লাগতেছে।’ এই দম্পতির মেয়ে অনুষ্ঠানগুলোতে হাসিখুশি থাকলেও কেন এ আনুষ্ঠানিকতা তা বুঝতে পারেনি। নাতালিয়ার পরিবারের অন্য সদস্যরা বাংলাদেশে আসতে পারেননি।

ছবি: ছয়াছবির ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত

২০ ডিসেম্বর এই দম্পতি বাংলাদেশে এসেছেন। এরপর ২১ ডিসেম্বর রাজধানীর মিরপুরে বাড়ির ছাদে গায়েহলুদের অনুষ্ঠান এবং ২৩ ডিসেম্বর একটি কনভেনশন হলে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন তারা। শরীরে ক্লান্তি থাকলেও তাদের ঘরে বসে থাকার উপায় নেই। আগামী ৭ জানুয়ারি তারা আবার পাড়ি দেবেন জার্মানিতে। এর আগে স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার, লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলায় গ্রামের বাড়ি, কক্সবাজার, শ্রীমঙ্গলসহ বিভিন্ন জায়গায় যেতে হবে। আত্মীয়স্বজনের আবদারও মেটাতে হবে। নাতালিয়া শাশুড়ির কাছ থেকে বিভিন্ন রান্না শিখে তবেই ফিরবেন জার্মানিতে।

ছবি: ছয়াছবির ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত

হাবিবুর রহমান জার্মানিতে একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কনসালটিং ফার্মে ইন্টারন্যাশনাল প্রজেক্ট ম্যানেজার আর নাতালিয়া ওই দেশে ফার্মাসিস্ট হিসেবে কর্মরত। তবে তারা বর্তমানে নেট দুনিয়ায় জনপ্রিয় ব্লগার হিসেবে পরিচিত।

হাবিবুর রহমান জানান, ২০১৭ সালে ধর্মীয়ভাবে বিয়ের পর ২০১৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর জার্মানির নিয়মনীতি মেনে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর বেলারুশে গিয়েছিলেন এ দম্পতি। তখন সেখানে অনুষ্ঠানের অতিথি ছিলেন ২৩ জন। হাবিবুর রহমান হাসতে হাসতে বললেন, বাংলাদেশে আমাদের যেখানে বিয়ের অনুষ্ঠান হয়েছে, সেখানকার চারতলায় যাদের বিয়ে হয়েছে, সেই অনুষ্ঠানের অতিথিরাও আমাদের দেখতে এসেছেন ও ছবি তুলেছেন।

ছবি: ছয়াছবির ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত

ভিডিওতে দেখা যায়, নাতালিয়া বাংলাদেশের শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গাড়িতে চেপে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পথেই বলেছেন, বাংলাদেশের চালকেরা খুব বেশি হর্ন বাজান। পথের পাশে ফুটপাতে ঘুমন্ত শিশুদের দেখে ঠিক করেছেন ভবিষ্যতে এই পথশিশুদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করবেন। শ্বশুরবাড়িতে ঢুকেই শাশুড়ি ও অন্যদের গলা জড়িয়ে ধরে কেঁদেছেন। একইভাবে বিয়ের আগে শ্বশুরের মৃত্যুসংবাদ শুনে কেঁদেছেন। বাংলাদেশে এসে সালোয়ার–কামিজ পরেছেন নাতালিয়া। বাংলাদেশের মানুষের আতিথেয়তা তাকে মুগ্ধ করেছে।

হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বিদেশি বউ নিয়ে অনেক নেতিবাচক কথা প্রচলিত আছে। আমার মা আমাদের সম্পর্কের কথা শুনেও ভয় পেয়েছিলেন, কান্নাকাটি করেছেন। আর এখন শাশুড়ি পিঠা বানাচ্ছেন, বিদেশি বউ তা মজা করে খাচ্ছে। বউ-শাশুড়ি যার যার মতো করে ঠিকই গল্প করছে, ভাষা এখানে খুব একটা বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। আর মেয়ে বাংলাতেই বেশ কথাবার্তা চালিয়ে নিচ্ছে।

ছবি: ছয়াছবির ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত

স্বামীর ধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়া, ভাষা শেখা, অন্য একটি দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে চলা— এসব ক্ষেত্রে নাতালিয়া এগিয়ে আছেন। হাবিবুর রহমান তা কৃতজ্ঞচিত্তে স্বীকার করলেন। জানালেন, বুঝতে পারলেও স্ত্রীর রুশ ভাষাটা এখনো তেমন একটা আয়ত্ত করতে পারেননি, তাই শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে সেভাবে মিশতে পারেন না। নাতালিয়ার রুশ ভাষা, মেয়ের ডে–কেয়ারের জার্মান ভাষা আর বাংলা ভাষা—এই তিন ভাষাতেই নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ চলে।

বিদেশি বউয়ের প্রশংসা করে হাবিবুর বললেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই মাথার চুল পড়া শুরু হয়েছিল। একসময় টাক সমস্যা প্রকট হয়। এই টাক নিয়ে চিন্তা করতাম। টাক ঢেকে রাখার চেষ্টা করতাম। নাতালিয়ার সঙ্গে বিয়ের পর নিজেই সে আমার মাথায় বাকি যেটুকু চুল ছিল, তা ফেলে দেয়। বলে এটা কোনো সমস্যা না। আত্মবিশ্বাসটাই বড় কথা। তারপর থেকে ন্যাড়া মাথা নিয়ে চলছি, টাক নিয়ে আর কোনো চিন্তা করতে হয়নি আমাকে।

মেয়ের নাম নাদিয়া রহমান রাখা প্রসঙ্গে হাবিবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও রাশিয়ায় পরিচিত এমন একটা নাম মেয়ের জন্য তিনি খুঁজছিলেন। দেখলেন, নাদিয়া নামটা বাংলাদেশে তো আছেই, রাশিয়াতেও এ নাম বেশ পরিচিত। নাতালিয়ার নানি অনেক আগে মারা গেছেন। তার নাম ছিল নাদিয়া। সব মিলে মেয়ের এই নাম রাখেন তারা।

ছবি: ছয়াছবির ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত

জার্মানিতে ২০১৩ সালে ‘স্টুডেন্ট জব’ করতে গিয়ে পরিচয় হয়েছিল নাতালিয়া ও হাবিবুরের। সেই পরিচয় প্রেমের দিকে বাঁক নিতে খুব বেশি সময় লাগেনি। তারপর বিয়ে ও সংসার। হাবিবুর ২০১২ সালে জার্মানির টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি অব মিউনিখে উচ্চশিক্ষার জন্য যান। আর নাতালিয়া উচ্চশিক্ষার জন্য জার্মানিতে যান ২০১০ সালে।

‘নাতাশা অ্যান্ড হাবিব’ নামের ফেসবুক পেজের বর্তমান অনুসরণকারী ২৬ লাখ। আরেকটি পেজ মিলে অনুসরণকারী ৪০ লাখের বেশি। তাদের ইউটিউব চ্যানেলের অনুসরণকারী সাড়ে চার লাখ।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএস