হামলা চালিয়ে ২০০ শহর গুড়িয়ে দিতে পারে নিউক্লিয়ার সাবমেরিন

হামলা চালিয়ে ২০০ শহর গুড়িয়ে দিতে পারে নিউক্লিয়ার সাবমেরিন

বিজ্ঞান ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৩৮ ৭ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ১৪:০৪ ১৫ জানুয়ারি ২০২২

একটি বিশাল আকারের পারমানবিক সাবমেরিন সর্বোচ্চ ২৫ বছর পর্যন্ত কোনো জ্বালানি ছাড়াই চলতে পারে।

একটি বিশাল আকারের পারমানবিক সাবমেরিন সর্বোচ্চ ২৫ বছর পর্যন্ত কোনো জ্বালানি ছাড়াই চলতে পারে।

নিউক্লিয়ার সাবমেরিন বা পারমানবিক শক্তিচালিত ডুবোজাহাজ একধরনের সাবমেরিন যেগুলো পারমানবিক শক্তি ব্যবহার করে চলে।  এগুলোতে থাকে পারমানবিক শক্তি উৎপন্ন করার জন্য রিএক্টর যাতে উৎপন্ন হয় বিপুল পরিমান শক্তি। মোটামুটি একটা বড় আকারের সাবমেরিনে যে পরিমান শক্তি উৎপন্ন হয় তা দিয়ে একটা আধুনিক শহর অনায়াসে চলতে পারে। আপনি শুনলে অবাক হবেন, একটি নিউক্লিয়ার সাবমেরিন ২০০ শহরকে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

অনেকেই মনে করেন নিউক্লিয়ার সাবমেরিন মানেই নিউক্লিয়ার বোমা বা ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন। কিন্তু আসলে তা নয়। নিউক্লিয়ার সাবমেরিনে পারমানবিক বোমা বা ক্ষেপণাস্ত্র থাকতেও পারে আবার নাও থাকতে পারে। মূলত এর চালিকাশক্তি হিসেবে পারমানবিক জ্বালানি ব্যবহৃত হয়। তাই এর নাম পারমানবিক সাবমেরিন ।

একটি বিশাল আকারের পারমানবিক সাবমেরিন সর্বোচ্চ ২৫ বছর পর্যন্ত কোনো জ্বালানি ছাড়াই চলতে পারে। কারণ একই পারমানবিক জ্বালানি বারবার পরিশোধন করা যায় এবং ব্যবহার করা যায়। তাই কেবলমাত্র ক্রুদের খাদ্য আর অন্যান্য জিনিসপত্রের জন্য এটিকে বন্দরে ভিড়তে হয়। এ ছাড়া এর বন্দরে আসার কোনো প্রয়োজন নেই।

নিউক্লিয়ার সাবমেরিন বা পারমানবিক শক্তিচালিত ডুবোজাহাজ একধরনের সাবমেরিন যেগুলো পারমানবিক শক্তি ব্যবহার করে চলে।

পারমানবিক সাবমেরিন আকারে সাধারনত ডিজেল চালিত সাবমেরিন থেকে অনেক বড় হয়। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সাবমেরিন হল রাশিয়ার টাইফুন ক্লাস সাবমেরিন। এগুলো লম্বায় ৫৭৪ ফিট এবং ডায়ামিটার প্রায় ৭৬ ফিট, যা প্রায় ছয়টি ফুটবল মাঠের সমান। একেকটি সাবমেরিন প্রায় ২০টা আন্তমহাদেশিয় ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে পারে। আর একটি সাবমেরিন একাই মিসাইল হামলা চালিয়ে প্রায় ২০০ টি শহরকে গুড়ো পাউডার বানিয়ে দিতে যথেষ্ট।

আরো পড়ুন : অবশেষে মহাকাশে পাড়ি দিল জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ

এ ধরনের সাবমেরিন নির্মাণ এবং পরিচালন ব্যয় অনেক বেশি। তাই সামরিকভাবে এবং অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালি দেশগুলোই নিউক্লিয়ার সাবমেরিন কার্যক্রম চালাতে পারে। ইউএসের Ohio Class সাবমেরিন, রাশিয়ার Typhoon Class সাবমেরিন, ফ্রান্সের Triomphant class সাবমেরিন, ব্রিটিশ Vanguard class সাবমেরিন ইত্যাদি বর্তমান বিশ্বের কতগুলো শক্তিশালী নিউক্লিয়ার সাবমেরিনের নাম। যার প্রতিটিই যেন একেকটি মানবসৃষ্ট সামুদ্রিক দানব।

ডেইলি বাংলাদেশ/কেবি