চোখ দিয়ে মস্তিষ্ক তৈরি করে চমকে দিল বিজ্ঞানীরা

চোখ দিয়ে মস্তিষ্ক তৈরি করে চমকে দিল বিজ্ঞানীরা

বিজ্ঞান ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:০৯ ২৪ আগস্ট ২০২১   আপডেট: ১৭:১৩ ২৪ আগস্ট ২০২১

এবার ল্যাবে তৈরি হলো মিনি মস্তিষ্ক, যা তৈরি করেছে দুটি অপটিক কাপ

এবার ল্যাবে তৈরি হলো মিনি মস্তিষ্ক, যা তৈরি করেছে দুটি অপটিক কাপ

একটি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি তাদের নিজস্ব চোখের সেট দিয়ে মিনি মস্তিষ্ক তৈরি করেছেন। যেটি মানুষের মস্তিষ্কের মতোই পরিকল্পিত দুটি অপটিক কাপ তৈরি করেছে। যা মানবদেহের চোখের মতোই বিকশিত হচ্ছে। এটি অনেকটা ভ্রূণের মতো বৃদ্ধি পায়।

জার্মানির একটি হাসপাতালে একদল বিজ্ঞানী এই যুগান্তকারী আবিষ্কারটি করেছেন। মেডিক্যাল জার্নাল সেল স্টেম সেল -এ ১৭ আগস্ট এই ফলাফল প্রকাশিত হয়েছিল।

মানুষের মস্তিষ্ক প্রকৃতির সবচেয়ে মজার জটিল জিনিসগুলোর মধ্যে একটি। এটির ব্যাপারে আরো বেশি জানতে এবং বুঝতেই, বিজ্ঞানীরা ল্যাবে ক্ষুদ্র এসব সংস্করণ তৈরি করছেন। অঙ্গগুলোর এই ক্ষুদ্র সংস্করণকে বলা হয় অর্গানয়েড। এগুলো পরবর্তীতে মানবদেহে প্রতিস্থাপন করা যাবে, কিংবা রোগ বা ওষুধের প্রভাব পরীক্ষা করতে ব্যবহার করা যেতে পারে।

ইউনিভার্সিটি হসপিটাল ডাসেলডর্ফের গবেষকরা এর আগেও ক্ষুদ্র হৃদস্পন্দন তৈরি করেছেন এবং এমনকি ছোট মস্তিষ্কও তৈরি করেছেন যা মানুষের ভ্রূণের মতো মস্তিষ্কের তরঙ্গ তৈরি করে। এমনকি কান্নার নালী তৈরি করেছেন যা কাঁদতে পারে। 

এবার তারা মস্তিষ্কের যে অর্গানয়েড তৈরি করেছেন। যেটি চোখের অনুরূপ কাঠামোকে বা অপটিক কাপ তৈরি করতে পারে। এটি রেটিনার জন্ম দেয়। যেটি চোখের পিছনের একটি টিস্যু। যা আমাদের চোখে আলো-সংবেদনশীল কোষ হিসেবেও পরিচিত। চোখ মস্তিষ্কের বাকি টিস্যুতে সংকেত পাঠিয়ে আলোর প্রতিক্রিয়া জানায়।  

গবেষকরা আশা করেন, সেল স্টেম সেল জার্নালে প্রকাশিত তাদের গবেষণায় মানুষের মস্তিষ্কের বিকাশ, বিশেষ করে ভ্রূণের পর্যায়ে এবং সংশ্লিষ্ট রোগের অধ্যয়নের জন্য উপকারী প্রমাণিত হবে। গবেষণাটি উন্নয়নমূলক নিউরোবায়োলজি পরীক্ষায় কাজে লাগবে। গবেষকরা ৩১৪টি মস্তিষ্কের অর্গানয়েড তৈরি করেছেন, যার ৭২ শতাংশই অপটিক কাপ তৈরি করেছে। অর্গানয়েড অপটিক কাপ প্রথম ৩০ দিনের মধ্যে হাজির হয় এবং ৫০ দিনের মধ্যেই দৃশ্যমান হয়।

গবেষণার প্রধান লেখক ডুসেলডর্ফের ইউনিভার্সিটি হসপিটালের জে গোপালকৃষ্ণন বলেন, "আমাদের কাজ আদিম সংবেদনশীল কাঠামো তৈরির জন্য মস্তিষ্কের অর্গানয়েডের অসাধারণ ক্ষমতাকে তুলে ধরে। যা দেহে পাওয়া যায় হালকা সংবেদনশীল কোষের মতো। তিনি আরো বলেন, এই অর্গানয়েডগুলো ভ্রূণের বিকাশের সময় মস্তিষ্ক-চোখের মিথস্ক্রিয়া, জন্মগত রেটিনার ব্যাধিগুলো এবং ওষুধ পরীক্ষা এবং প্রতিস্থাপনের থেরাপির জন্য রোগীর নির্দিষ্ট রেটিনা কোষের প্রকার তৈরি করতে সহায়তা করতে পারে। 

গবেষক দল আশা করে, যে এই কাঠামোগুোকে দীর্ঘ সময় টিকিয়ে রাখতে তাদের আরো বেশি কৌশল আবিষ্কার করতে হবে। 

সূত্র: লাইভ সায়েন্স 

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে