চাঁদের বুকে মানবজাতির প্রতিনিধিত্বের ৫২ বছর

চাঁদের বুকে মানবজাতির প্রতিনিধিত্বের ৫২ বছর

বিজ্ঞান ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:৩৯ ২০ জুলাই ২০২১  

চাঁদের বুকে পা রাখা প্রথম মানুষ আর্মস্ট্রং। ছবি: সংগৃহীত

চাঁদের বুকে পা রাখা প্রথম মানুষ আর্মস্ট্রং। ছবি: সংগৃহীত

২০ জুলাই, ১৯৬৯ সাল। মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন। ৫২ বছর আগে এই দিনে মানবজাতির প্রতিনিধি হিসেবে দুই মহাকাশচারী পৃথিবীর গণ্ডি ছাড়িয়ে এক নতুন যুগের সূচনা করেন। মহাকাশে পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশী চাঁদের বুকে পদার্পণ করেছিলেন তারা। এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি প্রযুক্তিতগত উৎকর্ষ এবং ক্ষমতার প্রকাশ নয়। বরং বলা যেতে পারে এটির মাধ্যমে মানব মনের অজানাকে জানার চিরন্তন প্রয়াস এবং পরিচিত পৃথিবীর সীমানা ছাড়িয়ে এক নতুন জগতকে আবিষ্কার করার অভিব্যক্তি।

প্রথম মানুষ হিসেবে চাঁদে পা রাখেন নীল আর্মস্ট্রং, তার সঙ্গে ছিলেন এডউইন অ্যালড্রিন। নীল আর্মস্ট্রং চাঁদে নামার সাড়ে ছয় ঘণ্টা পর অলড্রিন পা রাখেন। তারা ছবি তোলা, শিলা সংগ্রহ ইত্যাদি করে সময় পার করেন। দুজনেই দুই ব্যাগে করে নিয়ে নেন সাড়ে একুশ কেজি ধুলা-বালি, পাথর ইত্যাদি। চাঁদের অতিথিরা দিয়েও এসেছেন বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি, আমেরিকার পতাকা, পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম গোলার্ধের মানচিত্র, একটি সিলিকন মেসেজ ডিস্ক, যার মধ্যে রেকর্ড করা আছে পৃথিবীর ৭৩টি দেশের প্রধানসহ আমেরিকার কয়েক প্রেসিডেন্টের বাণী।

চাঁদের মাটিতে সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ২১ ঘণ্টা কাটিয়ে দুজন চন্দ্রজয়ী মহাকাশচারী ফিরে এসেছিলেন চাঁদকে প্রদক্ষিণরত কলম্বিয়া নামক মূল মহাকাশযানে। কলম্বিয়াকে পরিচালনা করার দায়িত্বে ছিলেন তৃতীয় মহাকাশচারী মাইকেল কলিন্স। চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণের ছেঁড়া ছেঁড়া ছবি পৃথিবীর প্রায় সব মানুষের মধ্যে এক উত্তেজনা ও উন্মাদনার সৃষ্টি করেছিল।

‘একজন মানুষের জন্য একটি ছোটো পদক্ষেপ, কিন্তু মানবতার জন্য এক বিশাল অগ্রযাত্রা।’ চাঁদে অবতরণের পর এই বিখ্যাত উক্তির মাধ্যমে নিল আর্মস্ট্রং বোঝাতে চেয়েছিলেন, ৫২ বছর আগে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির কী অসামান্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছিল। সফল চন্দ্রাভিযানের ঐ ঘটনা তখন থেকে আমাদের প্রতিদিনের জীবনকেও প্রভাবিত করছে।

যদিও নাসার সেই অ্যাপোলো ১১ অভিযান নিয়ে অনেক সংশয় রয়েছে। নাসার অ্যাপোলো ১১ নভোযানটি চাঁদ পর্যন্ত পৌছেছিল কি-না, নাকি চন্দ্রপৃষ্ঠে পা রাখার ঘটনাটি আগে থেকেই ক্যালিফোর্নিয়ার কোনোন বিশাল স্টুডিওতে শ্যুটিং করা হয়েছিল সেটি নিয়ে বিস্তর বিতর্ক চলছে এখন পর্যন্ত। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নকে মহাকাশ গবেষণায় টেক্কা দেওয়ার মার্কিন কৌশল ছিল এই চন্দ্রবিজয়, এমন বিতর্ক এখনও শোনা যায়।

অ্যাপোলো কর্মসূচিতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছিল। কিন্তু সেই অর্থ কোনোভাবেই অপচয় হয়নি। কারণ মানুষের জীবনে বিজ্ঞানের পথে নবযাত্রার শুরুটা এসেছিল ওই দিনটি থেকে। সূত্র: স্পেসডটকম, সিএনএন ও বিবিসি

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে