মহাকাশে নজর রাখতে ‘বৈকাল হ্রদ’-এ বিশাল টেলিস্কোপ বসাল রাশিয়া

মহাকাশে নজর রাখতে ‘বৈকাল হ্রদ’-এ বিশাল টেলিস্কোপ বসাল রাশিয়া

বিজ্ঞান ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:০৫ ১৯ মার্চ ২০২১  

বৈকাল হ্রদ; ফাইল ছবি

বৈকাল হ্রদ; ফাইল ছবি

মহাকাশে নজর রাখতে দৈত্যাকার টেলিস্কোপ বসাল রাশিয়া। বিশ্বের গভীরতম ‘বৈকাল হ্রদ’র সৈকতের আড়াই হাজার থেকে প্রায় ৭৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ মিটার গভীরে এ টেলিস্কোপ বসিয়েছে দেশটি। আর ওই গভীরতায় টেলিস্কোপটি বসানো হয়েছে প্রায় ৪ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে।

গ্লোবাল টাইমস’র এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, টেলিস্কোপটির নাম ‘বৈকাল-জিভিডি’। প্রায় ৬ বছর আগে ২০১৫ সালে দৈত্যাকার টেলিস্কোপটি বানানোর কাজ শুরু হয়েছিল।

টেলিস্কোপটিকে বৈকালের অতল গভীরে বসানোর কারণ ব্রহ্মাণ্ডের বিশেষ ধরনের একটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণার সন্ধান করা। সেই কণার নাম ‘নিউট্রিনো’। যারা আলোর কণা ফোটনের মতোই ভরহীন। ছোটেও আলোর কণার প্রায় সমান গতিবেগে। তাই তাদের পথ ধরে প্রায় ১৪০০ কোটি বছর বয়সী ব্রহ্মাণ্ডের অনেক অজানা ইতিহাস জানার চেষ্টা চালানো যায়।

বৈকাল হ্রদের গভীরে বসানোর জন্য নামানো হচ্ছে টেলিস্কোপটিকে।

ছোটার পথে এই ‘নিউট্রিনো’রা কারো ধাক্কাধাক্কিরই পরোয়া করে না। আমাদের শরীরে প্রতি সেকেন্ডের কয়েক লাখ ভাগের এক ভাগের মধ্যে লক্ষ কোটি নিউট্রিনো এসে ঢুকছে, শরীর ফুঁড়ে বেরিয়েও যাচ্ছে। একই ভাবে ‘নিউট্রিনো’রা ব্রহ্মাণ্ডের কোনো একটি উৎস থেকে বেরিয়ে পৃথিবীতে এলে তা আমাদের গ্রহটিকেও ফুঁড়ে বেরিয়ে যায়।

স্টেনলেস স্টিল দিয়ে বানানো টেলিস্কোপের কাঠামোটির ভিতরে রয়েছে কাচের সুবিশাল একটি বলয়। সেটিই লেন্সের কাজ করবে। গত সপ্তাহে এই কাঠামোটিকেই বৈকাল হ্রদের গভীরে সফল ভাবে নামিয়ে দিতে পেরেছেন রুশ বিজ্ঞানীরা। পানির স্বচ্ছ্বতাও বৈকালকে টেলিস্কোপ বসানোর জায়গা হিসাবে বেছে নেয়ার আর একটি কারণ, জানিয়েছেন রুশ বিজ্ঞানীরা।

রাশিয়ার জয়েন্ট ইনস্টিটিউট ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী দিমিত্রি নওমোভ বলেছেন, কয়েক বছরের মধ্যেই টেলিস্কোপটির ক্ষমতা বাড়িয়ে এমন করা হবে যাতে বৈকাল হ্রদের গভীরে এক ঘন কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সেটি কার্যকর হয়ে ওঠে।

উল্লেখ্য, এমন আরো একটি টেলিস্কোপ রয়েছে অ্যান্টার্কটিকায়। তার নাম ‘আইসকিউব’। দক্ষিণ মেরুর পুরু বরফের চাদরের তলায়।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচএফ