বিশাল নক্ষত্রকে গিলে ফেলল দৈত্যকার ব্ল্যাকহোল, ধরা পড়ল টেলিস্কোপে

বিশাল নক্ষত্রকে গিলে ফেলল দৈত্যকার ব্ল্যাকহোল, ধরা পড়ল টেলিস্কোপে

বিজ্ঞান ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:৩০ ১৫ অক্টোবর ২০২০  

বিশাল নক্ষত্রকে গিলে ফেলল দৈত্যকার ব্ল্যাকহোল, ধরা পড়ল টেলিস্কোপে-ফাইল ছবি

বিশাল নক্ষত্রকে গিলে ফেলল দৈত্যকার ব্ল্যাকহোল, ধরা পড়ল টেলিস্কোপে-ফাইল ছবি

বিরল এক কাণ্ড ঘটে গেল সৌরজগতে। সূর্যের মতো বিশাল নক্ষত্রকে ছিন্নভিন্ন করে গিলে ফেলল একটি ব্ল্যাকহোল (কৃষ্ণগহ্বর)। আর সেই বিরল ও ভয়ংকর মুহূর্ত টেলিস্কোপে ক্যামেরাবন্দী করতে সমর্থ হয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। আর সেই বিরল মুহূর্তের ছবি প্রকাশের পর বিশদভাবে দেখা গেছে বিধ্বংসী প্রক্রিয়া।

বিরল মুহূর্তকে ক্যামেরাবন্দী করতে ইউরোপিয়ান সাউদার্ন অবজারভেটরির (ইএসও) টেলিস্কোপ ব্যবহার করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

সংবাদ সংস্থার রিপোর্টে বলা হয়েছে, ওই সময় ঘটা আলোকের বিচ্ছুরণের সমগ্র প্রক্রিয়া টাইডাল ডিসরাপসন ইভেন্ট বলে পরিচিত। টেলিস্কোপেই পৃথিবী থেকে ২১৫ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরের ওই ব্ল্যাকহোলের এ টাইডাল ডিসরাপসন ইভেন্ট ধরা পড়েছে।

রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ওই নক্ষত্র ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে তীব্র আকর্ষণে ব্ল্যাকহোলের সুবিশাল গহ্বরে ঢুকে বিলীন হয়ে যাওয়ার ঘটনা পর্যবেক্ষণ করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

বার্মিহাম ইউনিভার্সিটির লেকচারার ও রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোস্যাইটি রিসার্ড ফেলো ম্যাট নিকোল বলেন, কাছের নক্ষত্রকে ব্ল্যাকহোলের গিলে ফেলার ধারণা কল্পবিজ্ঞানের মতো শোনায়। কিন্তু টাইডাল ডিসরাপসন ইভেন্টে ঠিক এমনটাই ঘটে।

তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, একটি নক্ষত্র সুবিশাল ব্ল্যাকহোলের খুব কাছে এসে পড়লে সেটি মধ্যাকর্ষণের বিপুল শক্তির কবলে পড়ে যায়। আর এ প্রক্রিয়ায় ওই নক্ষত্র প্রকৃতপক্ষে টুকরো টুকরো হয়ে ব্ল্যাকহোলের মধ্যে বিলীন হয়ে যায়। তিনি জানান, এ প্রক্রিয়া স্প্যাঘেট্টিফিকেশন নামে পরিচিত।

অতিকায় ব্ল্যাকহোলের গ্রাসে যে নক্ষত্রটি টুকরো টুকরো হয়ে যায়, সে ব্যাপারে নিকোল বলেন, ওই নক্ষত্রর ভর আমাদের সূর্যের মতোই যা পর্যবেক্ষণে ধরা পড়েছে। আর ওই ব্ল্যাকহোল হলো দৈত্যকার।

সোমবার জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা যেটি ধরতে পেয়েছেন, সেটিই প্রথম পর্যবেক্ষণে আসা টাইডাল ডিসরাপসন ইভেন্ট নয়। এর আগেও এ ধরনের ঘটনা বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণে ধরা পড়েছে। তবে এ ঘটনা এজন্যই তাৎপর্যপূর্ণ যে, ওই নক্ষত্র টুকরো টুকরো হওয়ার খুবই স্বল্প সময়ের মধ্যেই তা আবিষ্কার করতে পেরেছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে যে অজ্ঞাত ধ্বংসাবশেষ গঠিত হয়, তা চিহ্নিত করতে পেরেছেন তারা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ