গ্রহাণুতে এই প্রথম ‘প্রাণের স্পন্দন’ দেখলো নাসা

গ্রহাণুতে এই প্রথম ‘প্রাণের স্পন্দন’ দেখলো নাসা

বিজ্ঞান ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:০০ ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৫:০৭ ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০

নাসার ওএসআইআরআইএস-আরএক্স। ছবি: সংগৃহীত

নাসার ওএসআইআরআইএস-আরএক্স। ছবি: সংগৃহীত

গ্রহাণু মানেই নিষ্প্রাণ—এতদিন এমনটাই মনে করতেন মহাকাশ গবেষকরা। ‘বেন্নু’ নামের এক গ্রহাণু এ ধারণা একেবারে পাল্টে দিয়েছে। নাসার ওএসআইআরআইএস-আরএক্স মহাকাশযান পর্যবেক্ষণ করেছে যে, গ্রহাণু বেন্নু নিয়মিত খুব কাছাকাছি স্থান থেকে মহাকাশে নিজেকে টুকরো টুকরো করে ফেলেছে।

প্রাণের এই স্পন্দনকে অবশ্য জৈবিক বলা যাচ্ছে না। দূর থেকে এত দিন যেগুলোকে প্রাণহীন বলা হতো, তাতে ফাটল ধরে, মহাকাশে ছড়িয়ে দেয় রাশি রাশি কণা। তবে এ কণার কিছুটা উৎসেও ফিরে আসে অবশ্য। সেই চঞ্চলতা প্রাণের স্পন্দনের মতোই গতিময় হয়ে ওঠে।

ওএসআইআরআইএস-আরএক্স মহাকাশযানের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে ৯ সেপ্টেম্বর ‘জার্নাল অব জিওফিজিক্যাল রিসার্চ: প্ল্যানেটস’-এ একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, এই আবিষ্কারগুলো ভবিষ্যতের গ্রহ মিশনের জন্য ভিত্তি হিসাবে কাজ করতে পারে। যা এই ক্ষুদ্র দেহগুলো কীভাবে আচরণ করে এবং বিকশিত হয় তা আরো ভালোভাবে চিহ্নিত করতে ও বুঝতে চেষ্টা করে।

মূল গবেষক অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের লুনার অ্যান্ড প্ল্যানেটারি ল্যাবরেটরির অধ্যাপক কার্ল হার্জেনরোথার জানিয়েছেন, আমি প্রথমে ওসিরিস-রেক্সের পাঠানো ছবি দেখে চমকে উঠেছিলাম। এত তারা? এত তারা রয়েছে সেখানে? এমন তো আমার জানা ছিল না কখনো! বড়জোর ওখানে ১০টি তারা দেখা যেতে পারে। কিন্তু নাসার মহাকাশযানের পাঠানো ছবিতে দেখলাম ছোট ছোট অন্তত ২০০টি বিন্দু।

তিনি বলেন, অবাক হয়ে গেলাম, ২০০টি তারা রয়েছে ওখানে! পরে সব ছবি খতিয়ে দেখে বুঝতে পারি ওখানে কোনো নক্ষত্রপুঞ্জ নেই। ওগুলো আসলে রাশি রাশি কণা। যা উগরে দিচ্ছে গ্রহাণু বেন্নু। কোনো গ্রহাণুতে যে এভাবে প্রাণের স্পন্দন দেখা যাবে আগে ভাবিনি কখনো।

গ্রহাণুটির উপরিভাগ থেকে বেরিয়ে আসা কণার প্রথম পর্যবেক্ষণ হয়েছিল গত বছরের জানুয়ারীতে। মহাকাশযানটি বেন্নুতে বিশেষায়িত নেভিগেশন ক্যামেরা হিসাবে জাহাজে আসার কয়েকদিন পরেই মহাকাশযানটি পটভূমির নক্ষত্রগুলোর পুনরাবৃত্ত চিত্র নিয়েছিল।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে