ষষ্ঠী থেকে দশমী: যেসব রীতি পালিত হয় দুর্গা আরাধনায়

ষষ্ঠী থেকে দশমী: যেসব রীতি পালিত হয় দুর্গা আরাধনায়

ধর্ম ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:২৯ ২২ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৮:২৮ ২২ অক্টোবর ২০২০

দুর্গা আরাধনা

দুর্গা আরাধনা

শুরু হয়েছে সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। করোনা মহামারির কারণে উৎসব সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পরিহার করে শুধুমাত্র সাত্ত্বিক ভাবেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের পূজা।

দুর্গাপূজা বা দুর্গোৎসব হলো হিন্দু দেবী দুর্গার পূজাকে কেন্দ্র করে প্রচলিত একটি উৎসব। দুর্গাপূজা হিন্দুসমাজেই প্রচলিত। তবে বাঙালি হিন্দু সমাজে এটি অন্যতম বিশেষ ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব।

আজ ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে পাঁচদিনের পূজা যা আগামী ২৬ অক্টোবর সোমবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে।

আশ্বিন বা চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষে দুর্গাপূজা করা হয়। আশ্বিন মাসের দুর্গাপূজা শারদীয়া দুর্গাপূজা এবং চৈত্র মাসের দুর্গাপূজা বাসন্তী দুর্গাপূজা নামে পরিচিত।

শারদীয়া দুর্গাপূজার জনপ্রিয়তা বেশি। বাসন্তী দুর্গাপূজা মূলত কয়েকটি পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এই দুর্গাপূজার পাঁচ দিনে একাধিক নিয়মনীতি পালনের মাধ্যমে দুর্গার আরাধনায় মেতে ওঠেন সবাই।

তো চলুন আমরা জেনে নিই- ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত যেসব রীতি পালিত হয় দুর্গা আরাধনায়-

বোধন: দুর্গা পূজা শুরু হয় ষষ্ঠীর দিন থেকে। মনে করা হয় যে, শরৎকালে দুর্গা পূজার সূচনা করেছিলেন রাম। রাবণকে পরাজিত করার জন্য দশভূজার আশীর্বাদের কামনায় তিনিই এ সময় দুর্গা পূজা করেন। বোধনের মাধ্যমেই দুর্গাকে আহ্বান করা হয়। ষষ্ঠীর দিনে এ ছাড়াও আরো অন্যান্য অনেক নিয়ম-আচার পালিত হয় ও সবাই রীতিনীতি মেনে দুর্গার আরাধনার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ হন।

নবপত্রিকা স্নান: এই রীতি বাংলার কৃষিভিত্তিক সমাজের শিকড়ের দিকেই ইঙ্গিত করে। সপ্তমীর দিন এই রীতি পালিত হয়। এ দিন একটি ছোট কলাগাছের সঙ্গে আরো ৮টি গাছের পাতা বেঁধে তা স্নান করানো হয়। এগুলোর মধ্যে কলাগাছটিই স্পষ্ট ভাবে দেখা যায় বলে এই নিয়মকে অনেকে কলাবউ স্নানও বলে। ৯টি গাছের পাতা শক্তির ৯টি রূপকে তুলে ধরে— ব্রহ্মাণী (কলা), কালিকা (কচু), দুর্গা (হলুদ), কার্ত্তিকী (জয়ন্তী), শিব (কৎবেল), রক্তদন্তিকা (বেদানা), শোকরহিতা (অশোক), চামুণ্ডা (ঘটকচু), লক্ষ্মী (ধান)।

সপ্তমীর সকালে নবপত্রিকাকে স্নানের জন্য নদী বা জলাশয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এর পর লাল পাড় সাদা শাড়িতে মুড়িয়ে সেটিকে গণেশের পাশে প্রতিস্থাপিত করা হয়।

অঞ্জলি: পুষ্পাঞ্জলি প্রদানের মাধ্যমে দুর্গার প্রতি নিজের বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন ভক্তরা। সাধারণত সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী এই তিনদিনই পুষ্পাঞ্জলি হয়, তবে অষ্টমীর অঞ্জলিকে অত্যধিক গুরুত্ব দেয়া হয়ে থাকে। পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণের পর হাতে ধরে থাকা ফুল-পাতা মহিষাসুরমর্দিনীর চরণে অর্পণ করার রেওয়াজ আছে।

কুমারী পূজা: অষ্টমীর দিন কুমারী পূজা করা হয়। এদিন বাচ্চা মেয়েদের দুর্গার মর্যাদা দিয়ে, দুর্গারূপে তাদের পূজা করা হয়।

সন্ধিপূজা: অষ্টমীর সমাপ্তি ও নবমীর সূচনার সন্ধিক্ষণে সন্ধিপূজা হয়। এই সময় দুর্গা চণ্ড-মুণ্ড বধের জন্য তার চামুণ্ডা স্বরূপ ধারণ করেন। এ সময় ১০৮টি প্রদীপ প্রজ্জ্বলিত করা হয়। এককালে এদিন পশুবলি দেয়া হতো, তবে বর্তমানে সবজি বলি দেয়া হয়।

ধুনুচি নাচ: এক কালে ধুনুচি নাচে পুরুষরা পারদর্শী হলেও, বর্তমানে নারীরাও সমান পারদর্শীতার সঙ্গে এই নাচে অংশগ্রহণ করেন। নবমীর দিনে ঢাকের তালে তাল মিলিয়ে ধুনুচি নাচে মেতে ওঠেন নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই। হাতে ধরে তো বটেই, অনেকে মাথায় রেখে বা দাঁত দিয়ে চেপেও ধুনুচি নাচের আসর জমাতে পিছ পা হন না।

সিঁদূর খেলা: পিতাগৃহে ছুটি কাটিয়ে দশমীর দিন পতিগৃহে রওনা দেয়ার আগে উমাকে বরণ করার রীতি প্রচলিত রয়েছে। দশমীর দিন দুর্গাকে সিঁদূরে রাঙিয়ে, মিষ্টি খাইয়ে, পান, ধান, দূর্বা দিয়ে বরণ করা হয়। উমার বরণের পরই সধবা নারীরা মেতে ওঠেন সিঁদূর খেলায়।

বিসর্জন: উৎসবের পর এবার বিদায়ের পালা, সময় কৈলাস গমনের। বনেদি পরিবারের দুর্গার মূর্তি কাঁধে করে নিয়ে যাওয়ার চল এককালে থাকলেও, বর্তমানে ট্রাকই ভরসা। এর পর নদী ধারে পৌঁছে নৌকায় করে মাঝ নদীতে নিয়ে গিয়ে দুর্গা প্রতিমা বিসর্জন করা হয়।

বিজয়া: শারদীয়া উৎসবের সমাপ্তি ঘোষণা করে বিজয়া। বিজয়ার দিনে ছোটরা বড়দের প্রণাম করে আশীর্বাদ নেয়। সমবয়সিরা কোলাকুলি করে একে অপরের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেয়। মিষ্টির আদানপ্রদানও হয় এ সময়।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে