শরয়ী আমলগুলোর স্তরভেদ ও উদাহরণ

শরয়ী আমলগুলোর স্তরভেদ ও উদাহরণ

ধর্ম ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:৩৯ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০  

হারাম কাজ বর্জনকারী সওয়াব পাবেন, আর হারামে লিপ্ত ব্যক্তি শাস্তি পাওয়ার উপযুক্ত হবে।

হারাম কাজ বর্জনকারী সওয়াব পাবেন, আর হারামে লিপ্ত ব্যক্তি শাস্তি পাওয়ার উপযুক্ত হবে।

আজ আমরা শরয়ী আমলগুলোর স্তরভেদ ও প্রত্যেক স্তরের উদাহরণ জানবো। ইনশাআল্লাহ!

ফরজ (আবশ্যকীয়), মুস্তাহাব (আবশ্যকীয় নয়), মুবাহ (ঐচ্ছিক), মাকরুহ (অপছন্দনীয়) ও হারাম (নিষিদ্ধ)।

প্রত্যেক শ্রেণীর উদাহরণ দেয়া হলো- 

(১) ওয়াজিব: যা পালন করার জন্য শরীয়তপ্রণেতা আবশ্যকীয়ভাবে নির্দেশ দিয়েছেন। 

এর উদাহরণ হচ্ছে- পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, রমজানের রোজা, জাকাত দেয়ার সামর্থ্যবান হলে জাকাত, হজ করার সামর্থ্য থাকলে হজ।

‘ওয়াজিব’-কে فرض (ফরজ), فريضة (আবশ্যকীয়), حتم (অপরিহার্য), لازم (অনিবার্য) ইত্যাদিও বলা হয়। এ ধরণের আমল সম্পাদনকারী সওয়াব পাবেন এবং না করলে শাস্তি পাবে।

(২) মানদুব: যা পালন করার জন্য শরীয়তপ্রণেতা নির্দেশ দিয়েছেন; তবে আবশ্যকীয়ভাবে বা অপরিহার্যরূপে নয়।

এর উদাহরণ হচ্ছে- কিয়ামুল লাইল, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সঙ্গের সুন্নত নামাজগুলো ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের অতিরিক্ত নামাজগুলো, প্রতি মাসে তিনদিন রোজা রাখা, শাওয়াল মাসে ছয় রোজা রাখা, গরীবদেরকে দান-সদকা করা এবং নিয়মিত জিকির-আজকার ও ওজিফাগুলো পড়া।

‘মানদুব’-কে মুস্তাহাব, সুন্নত, মাসনূন, নফল ইত্যাদিও বলা হয়। এ ধরণের আমল পালনকারী সওয়াব পাবেন; তবে বর্জনকারী শাস্তি পাবে না।

(৩) হারাম বা নিষিদ্ধ: যাতে লিপ্ত হওয়া থেকে শরীয়তপ্রণেতা আবশ্যকীয়ভাবে নিষেধ করেছেন। যেমন- ব্যভিচার, মদপান, পিতা-মাতার অবাধ্যতা, দাঁড়ি না রাখা, নারীদের বেপর্দা চলাফেরা করা।

হারাম কাজ বর্জনকারী সওয়াব পাবেন, আর হারামে লিপ্ত ব্যক্তি শাস্তি পাওয়ার উপযুক্ত হবে।

(৪) মাকরুহ: যাতে লিপ্ত হওয়া থেকে শরীয়তপ্রণেতা নিষেধ করেছেন; তবে আবশ্যকীয়ভাবে নয়। যেমন- কোনো কিছু বাম হাতে গ্রহণ করা ও বাম হাতে প্রদান করা। নারীদের জন্য মৃতব্যক্তির জানাযার সঙ্গে যাওয়া। এশার নামাজের পর আলাপ-আলোচনা করা, কাঁধ খালি রেখে এক কাপড়ে নামাজ আদায় করা, ফজরের নামাজের পর সূর্যোদয়ের আগে নফল নামাজ পড়া এবং আসরের নামাজের পর সূর্যাস্তের আগে নফল নামাজ পড়া।

মাকরুহ আমল বর্জনকারী সওয়াব পাবেন; কিন্তু মাকরুহ আমলে লিপ্ত হলে শাস্তি দেয়া হবে না।

(৫) মুবাহ বা হালাল বা জায়েয: যে আমলের সঙ্গে সত্তাগতভাবে কোনো আদেশ বা নিষেধ সম্পৃক্ত নয়।

যেমন- পানাহার করা, বেচাকেনা করা, পর্যটনমূলক বা জীবিকার সন্ধানে ভ্রমণ, রমজানের রাতেরবেলা স্ত্রীদের সঙ্গে সহবাস করা।

মুবাহ এর সংজ্ঞাতে ‘সত্তাগতভাবে’ কথাটি এ জন্য বলা হয়েছে যেহেতু হতে পারে এর সঙ্গে তৃতীয় কোনো একটি বিষয় সম্পৃক্ত হয়ে সেটাকে নির্দেশিত কিংবা নিষিদ্ধ বিষয়ে পরিণত করবে।

উদাহরণত: ‘পানি খরিদ করা’ মূলত একটি মুবাহ কাজ। কিন্তু, যদি পানি খরিদ করার ওপর ফরজ নামাজের জন্য ওজু করা আটকে থাকে সেক্ষেত্রে পানি খরিদ করা ওয়াজিব। কেননা যে মাধ্যম ছাড়া কোনো ওয়াজিব কর্ম সম্পাদিত হয় না সে মাধ্যমও ওয়াজিব।  

আরেকটি উদাহরণ- পর্যটনমূলক ভ্রমণ মূলত একটি মুবাহ কাজ। কিন্তু, এ ভ্রমণ যদি হয় বিধর্মী কোনো দেশে যেখানে ফেতনা, পাপাচার ও  ব্যভিচার ইত্যাদির সয়লাব; এমন ভ্রমণ হারাম। কেননা এ ভ্রমণ হারাম কর্মে লিপ্ত হওয়ার মাধ্যম।

এ বিষয়ে আরো জানতে পড়তে পারেন: ইবনে কুদামার লিখিত ‘রওযাতুন নাযের ওয়া জুন্নাতুল মুনাযির’ (১/১৫০-২১০), যারকাশির লিখিত ‘আল-বাহরুল মুহিত’ (১/১৪০-২৪০) এবং ইবনে উছাইমীনের ‘শারহুল উসুল মিন ইলমিল উসুল’ (৪৬-৬৮)।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ। আমিন।

সূত্র: ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে