যে যুবকের নেতৃত্বে শেষবারের মতো বাইতুল মুকাদ্দাস বিজয় হয়

যে যুবকের নেতৃত্বে শেষবারের মতো বাইতুল মুকাদ্দাস বিজয় হয়

আমির হামজা ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:৫১ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৯:৫৫ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

বাইতুল মুকাদ্দাস -ফাইল ফটো

বাইতুল মুকাদ্দাস -ফাইল ফটো

আজ থেকে প্রায় ৯০০ বছর আগের কথা। বাইতুল মুকাদ্দাস তথা জেরুজালেম শহর তখন খ্রিস্টানদের দখলে। এমনই এক সময় বাগদাদ শহরে বাস করতো এক কাঠের কারিগর। সে কাঠের তৈরি নানা ধরনের জিনিস বানাতো। একদিন সে কাঠ দিয়ে অসাধারণ সুন্দর এক মিম্বর বানালো। মিম্বরের আশ্চর্যরকম কারুকাজ দেখে সবাই মুগ্ধ হয়ে গেলো। সবাই এসে তার কাছ থেকে মিম্বরটি কেনার চেষ্টা করলো। কিন্তু সবাইকে সে বললো, ‘এই মিম্বরটি শুধুমাত্র বাইতুল মুকাদ্দাস মসজিদের জন্য বানানো হয়েছে।’ সবাই তখন বললো ..., বাইতুল মুকাদ্দাস তো খ্রিস্টানদের দখলে।

কালের বিবর্তনে এই কাহিনী লোককথায় পরিণত হলো। সবাই এই ঘটনাকে গল্পের মতো বর্ণনা করতো এবং শ্রোতারা সেই মিম্বরের কারুকাজ এবং সৌন্দর্যের বর্ণনা শুনে মুগ্ধ হয়ে যেত। এভাবে একদিন এক সাধারণ যুবকও সেই গল্পটি শুনলো। কিন্তু সে যুবক অন্যদের মতো মিম্বরের কারুকাজের বর্ণনায় মুগ্ধ না হয়ে মিম্বর বানানো উদ্দেশ্য সম্পর্কে ভেবে অস্থির হয়ে উঠলো। 

আরো পড়ুন >>> দুধ পানের বিশেষ দোয়া ও তিন সুন্নত

১১৮৭ সালে সেই যুবকের নেতৃত্বে শেষবারের মতো বাইতুল মুকাদ্দাস বিজয় হয়। ইতিহাস সেই যুবককে গাজী সালাউদ্দীন আইয়ুবী নামে জানে।

সেদিন থেকে পরবর্তী ৭৬১ বছর বাইতুল মুকাদ্দাস মুসলমানদের অধীনে ছিলো। ১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মধ্যদিয়ে বাইতুল মুকাদ্দাস মুসলিমদের হাত ছাড়া হয়। মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম কর্তৃক পবিত্র কাবা ঘর নির্মাণের ৪০ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর তার নাতি বনি ইসরাঈলের প্রথম নবী হজরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম ঐতিহাসিক প্রসিদ্ধ শহর জেরুজালেমে মসজিদ আল-আকসা নির্মাণ করেন। অতঃপর হজরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম জিন জাতির মাধ্যমে এ পবিত্র মসজিদ পুনঃনির্মাণ করেন।

মসজিদটি ইসলামের আগমনের পর প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামেরে ইন্তেকালের কয়েক বছর পর ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে মুসলমানদের অধীনে আসে। ইসলামের প্রাথমিক যুগে এ মসজিদটি কিছু দিনের জন্য মুসলমানদের কেবলা হিসেবে ব্যবহার হয়েছিল। 

ইসলামের তিন পবিত্র স্থান এর মধ্যে অন্যতম ‘মসজিদে আকসা।’ ইবাদতের উদ্দেশ্যে এ তিন স্থানে যাওয়া বৈধ ও অনেক সওয়াবের কাজ। পৃথিবীর অন্যান্য ইবাদতগৃহে নামাজ আদায়ের চেয়ে এ গৃহে নামাজ আদায়ের সওয়াব অনেক বেশি বলেছেন স্বয়ং প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

আরো পড়ুন >>> খাওয়ার সময় সালাম দেয়া নেয়ার বিধান

প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করেন, ‘ঘরে একাকি নামাজ আদায়ে এক গুণ সওয়াব; মসজিদে নামাজ আদায়ে ২৫ গুণ সওয়াব; মসজিদে নববী (মদিনায়) ও মসজিদে আকসায় ৫০ হাজার গুণ সওয়াব এবং মসজিদে হারাম ( কাবা শরিফে ) এক লাখ গুণ সওয়াব। (ইবনে মাজাহ)।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে