আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম কমলে দেশেও কমবে: কৃষিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম কমলে দেশেও কমবে: কৃষিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৫২ ৪ আগস্ট ২০২২   আপডেট: ১৮:০২ ৪ আগস্ট ২০২২

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক- ছবি: সংগৃহীত

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক- ছবি: সংগৃহীত

কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ইউরিয়া সারের দাম কেজিতে ৬ টাকা বৃদ্ধির ফলে উৎপাদনে প্রভাব পড়বে না। আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম কমলে দেশেও দাম কমানো হবে।  

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। 

তিনি বলেন, সরকার ইউরিয়া সারের সুষম ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে আসছে। কৃষকদের মধ্যে ইউরিয়া সার বেশি ব্যবহার করার প্রবণতা রয়েছে। ডিএপি সারে শতকরা ১৮ ভাগ নাইট্রোজেন বা ইউরিয়া সারের উপাদান রয়েছে। সেজন্য ডিএপির ব্যবহার বাড়িয়ে ইউরিয়া সারের অপ্রয়োজনীয় ও মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার কমিয়ে আনার জন্য সরকার ডিএপি সারের মূল্য প্রতিকেজি ৯০ টাকা থেকে কমিয়ে প্রথমে ২৫ টাকা (২০০৯ সালে) এবং পরে ২০১৯ সালে ২৫ টাকা থেকে কমিয়ে ১৬ টাকা করে কৃষকদের দিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, এ উদ্যোগের ফলে বিগত কয়েক বছরে ডিএপি সারের ব্যবহার দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে ডিএপির ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে ভেবেছিলাম ইউরিয়া সারের ব্যবহার কমবে, কিন্তু কমেনি। তবে দাম বৃদ্ধির ফলে ইউরিয়ার ব্যবহার কমবে বলে আমরা আশা করি।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে সব ধরনের সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। বর্তমানে ইউরিয়া ৭ লাখ ২৭ হাজার টন, টিএসপি ৩ লাখ ১৯ হাজার টন, ডিএপি ৬ লাখ ৩৪ হাজার টন, এমওপি ২ লাখ ১০ হাজার টন মজুত রয়েছে। আর আমন মৌসুম পর্যন্ত (জুলাই-সেপ্টেম্বর) চাহিদা হলো- ইউরিয়া ৬ লাখ ১৯ হাজার টন, টিএসপি ১ লাখ ১৯ হাজার টন, ডিএপি ২ লাখ ২৫ হাজার টন ও এমওপি ১ লাখ ৩৭ হাজার টন রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, সারের দাম বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে দেশের কোথাও যেন কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে সে ব্যাপারে আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। কৃত্রিম সংকট তৈরির মাধ্যমে দাম বেশি নিলে সংশ্লিষ্টদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।

রাজ্জাক বলেন, ফসলের জমিতে সুষম সার প্রয়োগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ইউরিয়া সারের বর্তমান ব্যবহার কমপক্ষে ২০ শতাংশ কমিয়ে ইউরিয়ার ব্যবহার যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে পারি। এতে ফসল উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না, বরং উৎপাদন আরো বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে কৃষকের খরচও কমবে। এটি করতে হলে আমাদের কৃষক ভাইসহ সবার সচেতনতা প্রয়োজন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএস/এমআরকে