বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার ভিত্তি পদ্মাসেতু

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার ভিত্তি পদ্মাসেতু

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:৫৫ ২৪ জুন ২০২২   আপডেট: ০৪:২৯ ২৫ জুন ২০২২

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বঙ্গবন্ধু একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, বাঙালিকে একটি উন্নত সমৃদ্ধ মর্যাদাশীল জাতি হিসেবে বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন। চেয়েছিলেন দেশটি আত্মনির্ভরশীল হবে। হয়েছে। আজ নিজেদের টাকায় করেছে বিশাল বাজেটের পদ্মাসেতু। দেশ অনেক দিক দিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে। বাস্তবায়িত হচ্ছে অনেক স্বপ্ন। তবে বঙ্গবন্ধু যে আত্মনির্ভরশীলতার স্বপ্ন দেখতেন তার শক্ত ভিত্তি বলা যায় পদ্মাসেতুকে। এমনটিই মনে করেন বিশিষ্টজনেরা।

তাদের মতে, এমন তাক লাগানো কর্ম সাধনের কথা ইতিপূর্বে কেউ চিন্তাও করতে পারেনি। দেশের মানুষ থেকে শুরু করে বিশ্বের বড় বড় গবেষকরাও চমকেছেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু পঞ্চাশ বছর আগেই এই স্বপ্ন দেখেছিলেন। বলেছিলেন নানা সময়ে। আজ তারই একটি ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হল প্রমত্ত পদ্মার বুকে দীর্ঘ এক সেতু।

রাজনীতিবিদরা বলছেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অর্জন পদ্মাসেতু। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দেশের নেতৃত্ব দেওয়ায় এই অসাধ্য অর্জন সম্ভব হয়েছে।

দেশের অর্থনীতিবিদদের মতে, পদ্মাসেতু জনসাধারণের জন্য উম্মুক্ত করার পরে দেশের অর্থনীতির আমূল পরিবর্তন আসবে। দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের ২১ জেলাসহ দেশের অর্থনীতির চাকার রং পাল্টে যাবে। আবার ঘুরে দাঁড়াবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত বলেন, পদ্মাসেতু নির্মাণের ফলে কর্মসংস্থান বাড়বে। সেতুকে ঘিরে মানুষ শিল্প-কারখানা করার কথা চিন্তা করছে। বিশেষ করে কৃষিভিত্তিক শিল্প কারখানা বেশি হবে। আগামী পাঁচ বছরে ২১ জেলার জিডিপি পাঁচগুণ বাড়বে। ২০২৭ সালে দেশের জিডিপি ৬৩ লাখ হলেও আগামী পাঁচ বছরে শুধু পদ্মাসেতু থেকেই জিডিপি হবে ৯.৫ শতাংশ।

পানিসম্পদ উপমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, পদ্মাসেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে হবে ঐতিহাসিক ও স্মরণকালের সেরা অনুষ্ঠান। পদ্মাসেতু বন্ধ করার জন্য দেশি ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ছিল। সেই ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পদ্মাসেতু নির্মাণ হয়েছে। ’৭১-এর পরাজিত শক্তি ও স্বাধীনতাবিরোধীরাই এবং ডা. ইউনুসসহ অনেকে পদ্মাসেতু বন্ধ করতে মরিয়া হয়ে ওঠেছিল।

বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন ‘আমাদের কেউ দাবায়া রাখতে পারবা না’ সেই শপথ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে ঘোষণা দিয়েছিলেন নিজেদের টাকায় পদ্মাসেতু করবেন সেটা করে দেখিয়েছেন তিনি। দেশের টাকায় পদ্মাসেতু হবে এটা নিয়ে বিভিন্ন টকশোতে রাজনীতিবিদ, পরিকল্পনাবিদসহ অনেকে সমালোচনা করেছিলেন কিভাবে এটা সম্ভব। সেই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা বিশ্বের একজন সৎ, দক্ষ, বিচক্ষণ প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশকে বিশ্বে মর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম বলেন, পদ্মাসেতু উদ্বোধন উপলক্ষে ২৫ জুন যে জনসভার আয়োজন করা হয়েছে সেটি হবে শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ জনসভা। এটি ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকবে। এটি শুধুমাত্র শেখ হাসিনার জনসভা নয়, দেশের মানুষের মিলনমেলা। দল-মত নির্বিশেষে শ্রমিক, মেহনতি মানুষ, ছাত্রসহ সবাই সমাবেশে অংশ নেবে। সেদিন শুধু পদ্মাসেতুর শুভ উদ্বোধন নয়, সেদিন বাঙালি জাতির জন্য এক অনন্য দিন। শেখ হাসিনা সক্ষমতা ও দক্ষতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা যা বলেন তা করেন এবং তিনি তা পারেন- পদ্মাসেতু তারই প্রমাণ।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে/মাহাদী