রেকর্ড পতন, ১ ডলার‍ সমান ২০৬.৫ পাকিস্তানি রুপি

রেকর্ড পতন, ১ ডলার‍ সমান ২০৬.৫ পাকিস্তানি রুপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০২:০০ ১৬ জুন ২০২২  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন ডলারের বিপরীতে পাকিস্তানের মুদ্রা রুপির দরপতন থামছেই না। দেশটিতে চলমান রাজনৈতিক সংকট মুদ্রার এই দরপতনে বড় প্রভাব রাখছে। গত মে মাসেই আন্তব্যাংক লেনদেনে ডলারের বিপরীতে পাকিস্তানি রুপির মান ২০০ ছাড়িয়েছিল। বুধবার আরেক দফা নেমেছে এর মান। বর্তমানে পাকিস্তানের মুদ্রাবাজারে ২০৬ দশমিক ৫০ রুপির বিনিময়ে মিলছে ১ ডলার। 

পাকিস্তানের অর্থনৈতিক তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণকারী ওয়েব পোর্টাল মেট্টিস গ্লোবালের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানের জাতীয় দৈনিক ডন। 

গত ১৯ মে পাকিস্তানে ১ ডলারের বিপরীতে রুপির মান পৌঁছায় ২০০-তে। ১৯৪৭ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর গত ৭৫ বছরের ইতিহাসে মুদ্রার এই পরিমাণ পতন দেখেনি পাকিস্তান। তবে সেখানেই থেমে থাকেনি রুপির দরপতন, বরং দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নেমেছে মান। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত পাকিস্তানে ১ ডলারের বিপরীতে রুপির মান ছিল ২০৫ দশমিক ২৫। বুধবার তা আরও নেমে পৌঁছেছে ২০৬ দশমিক ৫০ রুপিতে।

রুপির এই ধারাবাহিক দরপতনের পেছনে চারটি কারণ উল্লেখ করেছেন মেট্টিস গ্লোবালের পরিচালক সাদ বিন নাসির। 

ডনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ঋণদাতা সংস্থা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ প্রকল্প স্থবির অবস্থায় থাকা, জঙ্গিবাদে অর্থায়ন পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্কফোর্সের (এফএটিএফ) ধূসর তালিকায় (গ্রে লিস্ট) থাকা, চীনের কাছ থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধের চাপ ও জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য - এই চার কারণে ব্যাপক চাপে রয়েছে পাকিস্তানের অর্থনীতি; আর তার ফলাফলই হলো রুপির এই ধারাবাহিক দরপতন।

২০১৯ সালে আইএমএফের সঙ্গে একটি ঋণচুক্তি করেছিল পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পিটিআই সরকার। সেই চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তানকে সাড়ে তিন বছর (৩৯ মাসে) কিস্তিতে ৬০০ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই ঋণদাতা সংস্থা।

তবে তার বিপরীতে আইএমএফের কিছু শর্ত ছিল। এসবের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত ছিল, সরকারের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের জ্বালানি খাতে কোনো ভর্তুকি দেওয়া যাবে না।

কিন্তু পিটিআই সরকার ২০২১ সালের শুরুর দিকে জ্বালানিতে ভর্তুকি বিষয়ক শর্ত অমান্য করায় ৩০০ কোটি ডলারের ঋণ ছাড়ের পরই সেই প্রকল্প থামিয়ে দেয় আইএমএফ।

গত এপ্রিলে পার্লামেন্টে বিরোধীদের অনাস্থা ভোটে ক্ষমতা হারান ইমরান খান, নতুন প্রধানমন্ত্রী হন দেশটির সাবেক বিরোধী নেতা শেহবাজ শরিফ। কিন্তু তিনি ক্ষমতায় এসেও পূর্ববর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত বহাল রাখায় আইএমফ ঋণ প্রকল্পের অচলাবস্থা আর কাটেনি।

এদিকে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম। তাই স্বাভাবিকভাবেই বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানির ওপর ভর্তুকি প্রত্যাহার করা কঠিন দেশটির সরকারে জন্য।  

ডেইলি বাংলাদেশ/AN