নীল দুনিয়ার আড়ালে বিভৎস গল্প, পর্ন তারকাদের জন্য রয়েছে ‘অস্কার’ও

নীল দুনিয়ার আড়ালে বিভৎস গল্প, পর্ন তারকাদের জন্য রয়েছে ‘অস্কার’ও

সাতরং ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৩৯ ৮ জুন ২০২২   আপডেট: ১৬:৫৭ ৮ জুন ২০২২

পর্নোগ্রাফি একটি স্বতন্ত্র ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বিশ শতকে। ছবি: সংগৃহীত

পর্নোগ্রাফি একটি স্বতন্ত্র ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বিশ শতকে। ছবি: সংগৃহীত

পর্ন কী? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা বেশ জটিল। বিশেষজ্ঞদের মতানৈক্যের মধ্যে সর্বজনবিদিত সংজ্ঞা হলো, ‘যৌনতা এবং জৈবিক ক্রিয়ার বর্ণনাই পর্ন’। অনেকে বলেন মানবজাতির আদিম রিপু কাম বিলাসিতার চলমান ছবিই হলো পর্নগ্রাফি। যদিও ইতিহাস বলছে, পর্নোগ্রাফি বা নীল ছবির শুরুটা হয়েছিল ‘ইরোটিক নভেল’ এর হাত ধরেই। তবে, পর্ন নিয়ে আসলে কী ভাবেন নীলছবির কুশীলবরা? পর্ন তারকার চোখে পর্ন আসলে কী? 

গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি সংবাদ সূত্র বলছে, ১৭৪৮ সালে প্রকাশিত ‘মেমরিস অব অ্যা ওম্যান অব প্লেজার’ নামের রোম্যান্টিক উপন্যাসই না কি পর্ন দুনিয়ার আঁতুড় ঘর। যদিও পর্নোগ্রাফি একটি স্বতন্ত্র ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বিশ শতকে। এরপর যেভাবে নীল ছবির প্রতি মানুষের ঝোঁক বেড়েছে, তাতেই আকাশছোঁয়া সাফল্য পায় পর্ন ইন্ডাস্ট্রি। বিশেষ করে ইউরোপ এবং মার্কিন মুলুকেই এক দশকের মধ্যে পর্ন ইন্ডাস্ট্রি ব্যবসা করেছিল প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার।

ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, মানুষের জৈবিক উচ্ছ্বাস এবং যৌন চাহিদার সাময়িক পরিত্রাতাই হলো পর্ন। মার্কিন লেখিকা, গায়িকা তথা প্রাক্তন পর্ন তারকা শেলই লুবেন এ বিষয়ে একাধিক সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। তিনি জানান, ‘পর্ন হলো বিশ্বের সব থেকে বড় বিভ্রম’। পর্ন দুনিয়ার অন্ধকার অলিগলির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কেবল মাত্র অর্থের জন্যই পর্ন দুনিয়ায় কাজ করতে হয়েছে। একজন অপরিচিতের সঙ্গে কখনই যৌনতা উপভোগ করেননি বলেও মতপ্রকাশ করেছেন শেলই। 

পর্নোগ্রাফিক শিল্পীরা খুব কম ক্ষেত্রেই মূলধারার চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পায়।

পর্নোগ্রাফি নিয়ে এই প্রাক্তন মার্কিন পর্ন তারকা দাবি করেছেন, ‘দর্শকদের মধ্যে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রম তৈরি করা হয়। যেখানে দেখানো হয়, গোটা সেক্স অ্যাক্ট উপভোগ করছেন একজন নারী, আদতে তা হয় না। শুধুমাত্র একজন নারী পর্ন-অভিনেতাকে পরিচালকের কথা অনুযায়ীই চলতে হয়। লাস্যময়ী হাসি, উত্তেজক পোশাক প্রযোজকের ইচ্ছামতো হয়। 

উইকিপিডিয়া সূত্র বলছে, পর্নোগ্রাফির তারকা ব্যপারটি সাধারণ নয় এবং বেশিরভাগ শিল্পীই অপেশাদার ও ছদ্মনাম ব্যবহার করে থাকেন। তারা প্রাণপণ চেষ্টা করেন তাদের পরিচয় যেন প্রকাশ না পায়। কিছু সংখ্যক শিল্পীরা তাদের আত্মজীবনী লিখেছেন। একজন পর্নোগ্রাফিক শিল্পী খুব কম ক্ষেত্রেই মূলধারার চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পায়। তারা সাধারণত ক্লাবে স্ট্রিপারের কাজ করে কিংবা পতিতাবৃত্তি করে জীবন নির্বাহ করেন।

পর্নোগ্রাফিক অভিনয়শিল্পীদের এওয়ার্ড দিয়ে স্বীকৃত করা হয়।

অসাধারণ অভিনয়ের জন্য পর্নোগ্রাফিক অভিনয়শিল্পীদের এভিএন এওয়ার্ড, এক্সআরসিও এওয়ার্ড এবং এক্সবিজ এওয়ার্ড দিয়ে স্বীকৃত করা হয়। বাণিজ্যিক কারণেই পর্নগ্রাফি শিল্পের ক্ষেত্রে সবার প্রথমে নিজেদের উন্নত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের রয়েছে নিজস্ব চলচ্চিত্র তারকা বা স্টার সিস্টেম। আমেরিকান অ্যাডাল্ট ভিডিও ইন্ডাস্ট্রি ট্রেড ম্যাগাজিন এর পক্ষ থেকে এভিএন এওয়ার্ড দেওয়া হয়। তারা একে পর্নশিল্পের ‘অস্কার’ বলে থাকেন

পর্ন তারকারা এত সময় নিয়ে সেক্স করে কীভাবে? 

এক কথায়, সহজ উত্তর- সব পরিকল্পিত। সিনেমার যেমন শুটিং হয় একইভাবে পর্নও শুট করা হয় অনেক সময় নিয়ে।

আরো পড়ুন: শেষমেশ কী হয়েছিল লায়লা-মজনুর?

ডেইলি বাংলাদেশ/কেবি