ইতিহাসের ভয়ঙ্কর পাঁচ নারী: যাদের কৃতকর্ম শুনলে ভয়ে কেঁপে উঠবে হৃদয়

ইতিহাসের ভয়ঙ্কর পাঁচ নারী: যাদের কৃতকর্ম শুনলে ভয়ে কেঁপে উঠবে হৃদয়

সাতরং ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:২৮ ২৭ মে ২০২২   আপডেট: ১২:২৮ ২৭ মে ২০২২

ইতিহাসের ভয়ঙ্কর নারীদের একজন ফুলন দেবী। ছবি: সংগৃহীত

ইতিহাসের ভয়ঙ্কর নারীদের একজন ফুলন দেবী। ছবি: সংগৃহীত

নারী মানে সহজ-সরল এমনটাই ধারণা সবার। একটু কোমল, শান্ত হবে নারীদের ব্যবহার এমনটাই ভাবে প্রায় সবাই। নারীদের বলা হয়ে থাকে কোমলতা, ভালোবাসা ও শান্তির প্রতীক। প্রকৃতিই তাদের এই বৈশিষ্ট্যগুলো দিয়েছে। তবে এর ব্যক্তিক্রমও কম নেই। নারী যদি হয়ে উঠে হিংস্র বা কুখ্যাত কোনো খুনি, তাহলে স্বভাবতই আমাদের মনে সেগুলো ভয়াবহ চিত্র হিসেবেই দাগ কাটবে। এই পৃথিবীতে এমন নারী রয়েছেন যাদের নৃশংসতা ও হিংস্রতা হার মানিয়েছে সবকিছুকে। তাদের গল্প কেড়ে নেয় রাতের ঘুম। যারা কুখ্যাত নারী হিসেবেই বিশ্বে পরিচিত। এমন পাঁচজন নারীর কথা তুলে ধরা হলো ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর নারীরা শিরনামে। 

এলিজাবেথ ব্যাথোরী

এলিজাবেথ ব্যাথোরী
পৃথিবীর ভয়ানক নারীদের সম্পর্কে বলতে গেলেই যার নাম প্রথমে আসে তিনি হলেন এলিজাবেথ বাথোরী। তিনি হাঙ্গেরির বিখ্যাত ব্যাথোরি পরিবারে ১৫৬০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। এলিজাবেথকে পৃথিবীর সবচেয়ে কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার হিসেবে ধরা হয়। ১৫৭৫ সালে ফেরেন্স নাডাসডি নামের এক ব্যাক্তির সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর এলিজাবেথের স্বামী হাঙ্গেরীর সেনাপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়ে যুদ্ধে চলে যান। এরপর থেকে পুরো পরিবারের দায়িত্ব ও শাসনভার তার কাঁধে এসে পড়ে। স্বামীর অবর্তমানে তিনি একাই ব্যবসাসহ সবকিছু দেখাশোনা করতেন।

বেশ চড়া বেতন দিয়ে তিনি বাসায় কুমারী মেয়েদের কাজের লোক হিসেবে রাখতেন। তবে আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, যে মেয়েই কাজের জন্য বাড়ির ভেতর যায় সে আর ফিরে আসে না। পড়ে জানা যায়, এলিজাবেথ তার ত্বক ভালো রাখার জন্য কুমারী মেয়েদের রক্ত দিয়ে গোসল করতেন। রক্ত দিয়ে গোসল করার আগে তিনি মেয়েদের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ কেটে ফেলতেন এবং এসময় তিনি মেয়েদের চিৎকার উপভোগ করতেন। প্রায় ২৫ বছর এভাবে চলার পর রাজা ম্যাথিয়াস ব্যাপারটা জানতে পারেন।

এরপর এলিজাবেথের বাসা থেকে মৃত, অর্ধমৃত মেয়ে উদ্ধার করা হয়। এই ২৫ বছরে এলিজাবেথ প্রায় ৬৪০ জন কুমারী মেয়েকে খুন করেন। ১৬১৪ সালে চার বছর গৃহবন্দী অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আর এভাবে শেষ হয় এলিজাবেথ ব্যাথোরী নামে এক কুখ্যাত সিরিয়াল কিলারের উপখ্যান। গৃহবন্ধী ছিলেন কিন্তু উঁচু সামাজিক মর্যাদার কারণে প্রকাশ্য বিচারের সম্মুখিন হতে হয়নি তাকে।

ইলসে কোচ

ইলসে কোচ
তিনি ১৯০৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন কার্ল কোচের স্ত্রী। স্বামীর ক্ষমতা ছাড়াও তিনি নিজে ছিলেন বুচেনওয়ার্ল্ড কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পের সুপারভাইজার। সেই সুবাদে সেখানকার বন্দীদের মধ্যে যাদের শরীরে ট্যাটু আঁকা থাকতো তাদের আর যাদের চামড়া সুন্দর তাদের আলাদা করে রাখতেন। তারপর যাদের শরীরে ট্যাটু থাকতো তাদের খুন করে ট্যাটুটি চামড়া সহ কেটে সংরক্ষণ করতেন। শুধু তাই না শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রতঙ্গও তিনি সংগ্রহ করতেন। তবে তার সবচেয়ে প্রিয় শখ ছিল সুন্দর চামড়াওয়ালা বন্দীদের হত্যা করে তাদের শরীরের চামড়া দিয়ে কুশন কভার, সাইড ল্যাম্প, বালিশের কভারসহ অন্যান্য জিনিস বানানো। ১৯৪৭ সালের ৩০শে জুন তার যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয়।

কুখ্যাত এই নারীকে গ্রেফতার করা হয় ১৯৪৩ সালের ২৪শে অগাস্ট। তবে প্রমানের অভাবে ছাড়া পেয়ে যান। পরবর্তীতে ১৯৪৫ সালের ৩০শে জুন আমেরিকান সৈন্যরা তাকে আবার গ্রেফতার করে। শুরু হয় তার বিচার। এবার তার কুকীর্তির প্রমাণ পাওয়া যায় আর পাওয়া যায় তার সেই মানুষের চামড়ার তৈরি জিনিসপত্র। ১৯৪৭ সালের ৩০শে জুন তার যাবজ্জীবন জেল হয়। জেলে থাকাকালীন ১৯৬৭ সালের ১লা সেপ্টেম্বর গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে দুনিয়া থেকে বিদায় নেয় এই বিকৃত মস্তিস্কের নারী।

মেরি এন কটন

মেরি এন কটন
ব্রিটেনের প্রথম নারী ক্রমিক খুনি, ১৮৩২ সালে ডার্হাম কাউন্টির ল’মোর্সলে অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন। ২০ বছর বয়সে উইলিয়াম মউব্রের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ডেবনের প্লেমাউথ অঞ্চলে সংসার শুরু করেন। এই দম্পতি পাঁচ সন্তানের জন্ম দেয়, যাদের মধ্যে চার জনই মারা যায়। উত্তর পশ্চিমের দিকে সরে গেলেও দুঃখ তাদের পিছু ছাড়ল না। সন্তানদের পিছু পিছু উইলিয়ামও মারা যায় ১৮৬৫ সালে।

তার অবশিষ্ট দুই সন্তানের একজন ও তার ২য় স্বামী জর্জও একই রোগে মারা যায়। তারপর তার পরবর্তী সময়ে তার আরো ১২ সন্তান, তিন স্বামী এক বন্ধু, এক প্রেমিক সবাই একই রোগ অর্থাৎ পাকস্থলীর প্রদাহজনিত জ্বরে মারা যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় সাংবাদিকরা আবিস্কার করে সবাইকে সে আর্সেনিক বিষ খাইয়ে হত্যা করেছে এবং এই অপরাধে ২৪ মার্চ ১৮৭৩ সালে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

ফুলন দেবী

ফুলন দেবী
তার পরিচিতি দস্যুরানী হিসেবে। কুখ্যাত খুনির তালিকায় তার নামটা না এলেও পারত। কারণ প্রথম জীবনের বঞ্চনা এবং পরের জীবনের বিদ্রোহ তার প্রতি মানুষের একটা সহমর্মিতা তৈরি করেছে। এরপরও কেবল প্রতিশোধের নেশায় একের পর এক মানুষ হত্যা দস্যুরানী ফুলন দেবীকে ইতিহাসের অন্যতম খুনি হিসেবে পরিচিতি এনে দিয়েছে। তার জন্ম ১৯৬৩ সালে ভারতের এক নিচু পরিবারে। দারিদ্র্য এবং সামাজিক কারণে জীবনের শুরু থেকেই সংগ্রামের মুখোমুখি হয় ফুলন।

মাত্র ১১ বছর বয়সে বাবার বয়সী এক লোকের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। ফুলনের গ্রাম এবং আশপাশের একাধিক গ্রামে ঠাকুর বংশের জমিদারী ছিল। আর জমিদারের লোকরা প্রায়ই গ্রামের দরিদ্র গ্রামবাসীর কাছ থেকে ফসল নিয়ে নিত এবং তাদের ওপর নির্যাতন চালাত। ফুলন এসবের প্রতিবাদ জানিয়ে দখলকারীদের নেতা মায়াদীনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে। এ অপমানের প্রতিশোধ নিতে ঠাকুররা তাকে ধরে নিয়ে যায় বেমাই নামে প্রত্যন্ত এক গ্রামে।

এরপর তার ওপর চলে অমানুষিক নির্যাতন। দুই সপ্তাহ ধরে প্রতি রাতে ঠাকুর ও তার লোকরা ফুলনকে গণধর্ষণ করে। প্রতি রাতেই ফুলন জ্ঞান না হারানো পর্যন্ত চলত এ পাশবিকতা। ১৬ দিনের মাথায় এক রাতে নির্যাতন শেষে তারা ফুলনকে মৃত মনে করে ফেলে রাখে। আর প্রায় মৃত্যুপথযাত্রী ফুলন এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। তখন ফুলনের বয়স ছিল মাত্র সতেরো। পালিয়েও রক্ষা পেলেন না ফুলন। আরেকবার ধরা পড়লেন এক দস্যুদলের হাতে।

দস্যুদের নেতা বাবুর নজর পড়ে ফুলনের ওপর। সে ঝাঁপিয়ে পড়তে চাইল ফুলনের ওপর। কিন্তু আরেক দস্যু এতে বাধা হয়ে দাঁড়াল। বাবুকে খুন করে ফুলনকে রক্ষা করে সে। এরপর ফুলনের সঙ্গে বিক্রমের বিয়ে হয় এবং শুরু হয় ফুলনের নতুন জীবন। রাইফেল চালানো শিখে পুরোদস্তুর দস্যু হয়ে ওঠে। ফুলন তার আলাদা বাহিনী নিয়ে প্রথম হামলা চালায় তার সাবেক স্বামীর গ্রামে। নিজ হাতে ছুরিকাঘাতে তার স্বামীকে খুন করে রাস্তায় ফেলে রাখে।

গেসচে গটফ্রাইড

গেসচে গটফ্রাইড
এই জার্মান সিরিয়াল কিলারকে জনসমক্ষে ১৮৩১ সালে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এই নারী বিষ প্রয়োগে তার সন্তানদের, বাবা-মাকে, তার দুই স্বামী এবং এক বন্ধুকে হত্যা করেন। তিনি সেবিকা হিসেবে খুবই ভালো ছিলেন। তার এই হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশের আগে সবাই তাকে ‘ব্রিমেনের দেবদূত’ বলে ডাকতেন। যাদের সেবা করতেন তাদের খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে মারতেন গেসচে।

সূত্র: বিবিসি নিউজ, ডেইলি হান্ট

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএ