যশোরে স্ত্রী হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন

যশোরে স্ত্রী হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন

যশোর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:৩৩ ২৪ মে ২০২২  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

যশোরের শার্শায় স্ত্রীকে মারধরের পর শ্বাসরোধে হত্যা মামলায় স্বামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে যশোরের স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক সামছুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। তবে রায় ঘোষণার সময় আসামি খলিলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন না।

খলিলুর রহমান জেলার শার্শা উপজেলার বেনাপোল পুটখালী গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে। নিহত রেহেনা খাতুন একই উপজেলার ইছাপুর গ্রামের সাখায়াত উল্লাহর মেয়ে।

মামলার বিবরণ দিয়ে আদালতের বেঞ্চ সহকারী শাহ আলম জানান, ১৯৯৯ সালে রেহেনার সঙ্গে খলিলুরের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসারে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়। ২০০৯ সালের শুরুতে রেহেনার আপন ছোট বোন মিনা খাতুনকে বিয়ে করে বাড়িতে আনেন খলিলুর। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে অশান্তি শুরু হয়। এরপর মিনা খাতুনকে খলিলুরের কাছ থেকে নিয়ে আরেক স্থানে বিয়ে দেয় রেহেনার পরিবার। এতে আরো বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন খলিলুর। এরপর থেকেই রেহেনার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সন্তানদের নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান রেহেনা।

এরপর খলিলুর প্রায়ই রেহেনার বাড়ির আশপাশে ঘোরাঘুরি করতে থাকেন। মাঝে মধ্যে রেহেনার সঙ্গে কথাও বলেন। কিন্তু রেহেনাদের বাড়িতে যান না তিনি। সর্বশেষ ২০০৯ সালের ১৪ জুন দুপুর ১২টার দিকে নিজের বন্ধুদের নিয়ে রেহেনার বাড়িতে যান খলিলুর। এরপর বাগআঁচড়া সিনেমা হলে যাওয়ার কথা বলে রেহেনাকে নিয়ে যান। পরে আর বাড়ি ফেরেননি রেহেনা। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পায়নি পরিবার। পরদিন সকাল ৭টার দিকে স্থানীয় ইছাপুরের একটি মাঠ থেকে রেহেনার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই সময় রেহেনার শরীরে হত্যার একাধিক চিহ্ন পাওয়া যায়। মরদেহ উদ্ধারের একদিন পর শার্শা থানায় খলিলুরের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন রেহেনার মা আবেদা খাতুন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর