শ্বশুরের লাশের পাশে দড়ি-সিরিঞ্জ, থানায় অন্তঃসত্ত্বা পুত্রবধূ

শ্বশুরের লাশের পাশে দড়ি-সিরিঞ্জ, থানায় অন্তঃসত্ত্বা পুত্রবধূ

বগুড়া প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:০৫ ২৮ এপ্রিল ২০২২  

ইনসেটে দড়ি ও সিরিঞ্জ

ইনসেটে দড়ি ও সিরিঞ্জ

বগুড়ার গাবতলীতে এজাদুল হক নামে একজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। লাশের পাশেই কাঁঠাল গাছের সঙ্গে বাঁধা ছিল দড়ি ও সিরিঞ্জ। ফলে লাশ ঘিরে দেখা দিয়েছে নানা রহস্য।

বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের বালুয়াহাটা ধর্মতলা গ্রামের একটি ফলবাগান থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। বুধবার রাত ৯টার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি।

৪৮ বছর বয়সী এজাদুল উপজেলার খুপী দড়িপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম আজিজার আকন্দ। এ ঘটনায় নিহতের পুত্রবধূ শামছুন্নাহারকে থানা হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

নিহতের স্বজনরা জানান, এজাদুলের ছেলে রুহুল আমিনের শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলছিল। এরেই জেরে তাকে কৌশলে ডেকে নিয়ে বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে। তার লাশ রুহুলের শ্বশুরবাড়ি বালুয়াহাটা গ্রামের ধর্মতলায় পাওয়া যায়

স্থানীয়রা জানায়, বুধবার রাত ৯টার পর বাড়ি না ফেরায় এজাদুলকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন স্বজনরা। একপর্যায়ে রাত তিনটার দিকে বালুয়াহাটা গ্রামের ধর্মতলার একটি ফলবাগানে এজাদুলের সন্ধান পান তারা। তবে সেখানে অচেতন অবস্থায় পড়েছিলেন তিনি। এ সময় পুলিশে খবর দেন তারা। পরে এজাদুলকে উদ্ধার করে বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এজাদুলের পুত্রবধূ শামছুন্নাহারকে থানা হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। শামছুন্নাহার আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তাকে বৃহস্পতিবার সকালে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলা থেকে থানায় নেয়া হয়।

স্বজনদের বরাত দিয়ে গাবতলী মডেল থানার ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, বুধবার রাত ৯টার দিকে মুঠোফোনে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এজাদুল। উপজেলার জামিলবাড়ি বাজারে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। বৃষ্টির কারণে সেখানে আশ্রয় নেন। এ সময় ছেলের শ্বশুরবাড়িতে যাবে বলেও মুঠোফোনে জানান এজাদুল। এরপর থেকেই তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে তার লাশ মেলে ফলবাগানে।

ওসি আরো জানান, লাশটি শজিমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের পুত্রবধূকে থানা হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর