রাবিতে শের-ই-বাংলা হল ছাত্রলীগের পরিষ্কার অভিযান

রাবিতে শের-ই-বাংলা হল ছাত্রলীগের পরিষ্কার অভিযান

রাবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৫৩ ১৬ এপ্রিল ২০২২   আপডেট: ১৭:১২ ১৬ এপ্রিল ২০২২

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবলিশ মাঠ পরিষ্কার করছেন শেরে-ই-বাংলা একে ফজলুল হক ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবলিশ মাঠ পরিষ্কার করছেন শেরে-ই-বাংলা একে ফজলুল হক ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা

গ্রীষ্মের দুপুরে প্রচন্ড তাপদাহ। তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বাইরে বের হওয়া খুবই কষ্টকর। এমন বৈরী আবহাওয়াতে ২০-২৫ জন তরুণ হাতে গ্লাফস পড়ে কিছু একটা কুড়িয়ে প্লাস্টিকের বস্তায় রাখছে। বস্তা ভরতি হয়ে গেলে তা নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলে দিয়ে এসে আবার একই কাজ করছে। কাছে নিয়ে জানা গেলো তারা সবাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শেরে-ই-বাংলা একে ফজলুল হক ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। রমজানে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন মাঠে ইফতার আয়োজন উপলক্ষে ময়লা-আবর্জনায় নোংরা পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, তাই তারা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নেমেছে।

শুক্রবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবলিশ চত্বর, শেখ রাসেল মাঠ ও তার আশেপাশে পড়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করেছেন তারা।

পরিষ্কার অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে শের-ই-বাংলা একে ফজলুল হক হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক স্বাধীন খান বলেন, রমজান মাস উপলক্ষে শিক্ষার্থীরা ইফতারের পর ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গা নোংরা করে রেখে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে সেটি মোটেও কাম্য নয়। প্রকৃতিকে পরিচ্ছন্ন রাখতে পারলে প্রকৃতি আমাদের প্রশান্তি দান করবে। এমন উপলব্ধি থেকে আমরা শের-ই-বাংলা একে ফজলুল হক হল ছাত্রলীগ এই উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এই অভিযানের মধ্য দিয়ে সবাই মিলে ক্যাম্পাসটাকে পরিচ্ছন্ন রাখার অঙ্গীকারে আবদ্ধ হওয়ার বার্তা দিতে চাই আমরা। সেই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে সবাই মিলে শেখ রাসেল চত্বরের মাঠের ময়লা পরিষ্কার করতে আসি।

এসময় অভিযানে অংশ নেন শের-ই-বাংলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান রাতুল, সাধারণ সম্পাদক স্বাধীন খান, সহ-সভাপতি ওয়ালি উল্লাহ রাজু, যুগ্ম- সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদসহ ছাত্রলীগের ২০-২৫ জন নেতাকর্মী।

রমজান মাস উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন খেলার মাঠ খোলা জায়গায় ইফতার আয়োজন করে শিক্ষার্থীরা। এসব আয়োজনে ইফতারের পর অনেক শিক্ষার্থীরা মাঠ পরিষ্কার করলেও অনেকেই ময়লা আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে না। এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সচেতন শিক্ষার্থীরা।

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী শিপন বলেন, আমরা নিজেদের দেশের সব্বোর্চ শ্রেণির নাগরিক বলে মুখেই বলি। অথচ আমাদের কাজে তা প্রতিফলিত হয় না। কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাঠে বসে ইফতার করলো, ইফতার শেষ করার পর সেখানেই ময়লা আবর্জনা রেখেই চলে গেলো। এটা কি একজন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীর কাজ হতে পারে? আমরা চেষ্টা করলেই নিজেরা নিজেদের ক্যাম্পাসকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে পারি। তার জন্য প্রয়োজন সদিচ্ছা। রাবি ছাত্রলীগ যে ক্যাম্পাস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভিযান চালিয়েছে তার জন্য তাদের সাধুবাদ জানাই।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম