চেয়ারপার্সন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিয়ে বিএনপিতে সমালোচনা

চেয়ারপার্সন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিয়ে বিএনপিতে সমালোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৫৩ ১৫ এপ্রিল ২০২২   আপডেট: ১৩:৩৭ ১৫ এপ্রিল ২০২২

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারেক রহমানকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা করে বিএনপি। তবে সরকারের অনুকম্পায় কারামুক্ত হয়ে খালেদা জিয়ার বাসায় প্রত্যাবর্তনের পরও ঐ অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়ে গত দুই বছর বিএনপি কিছুই স্পষ্ট করেনি।

এখন চেয়ারপার্সন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থাকায় দলের ভেতরে ও বাইরে চলছে নানা রকম সমালোচনা।

তারেকের বিতর্কিত নেতৃত্বের কারণে সমালোচনা দিনে দিনে আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। তার নেতৃত্বে দলের ‘দুরবস্থা’ নিয়ে এখন প্রকাশ্যে কথা বলছেন বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা। এমনকি খালেদা-তারেককে বাদ দিয়ে বিএনপির হাল ধরতে সক্রিয় হচ্ছে একটি অংশ।

বিএনপির একটি গোপন সূত্র জানায়, তারেক নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় দল গোছানোর জন্য তৎপরতা শুরু করেছেন। তিনি চাইছেন, স্থায়ী কমিটিসহ সবাই তার পক্ষে কথা বলুক। এ জন্য পছন্দের লোকদের তিনি ধীরে ধীরে পদায়নের চেষ্টাও চালাচ্ছেন, যা দলের সবস্তরে দৃশ্যমান হচ্ছে।

সূত্রটি আরো জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে তারেক অনুসারী বলে পরিচিত নেতারা বড় পদে যাওয়ার জন্য বেশ তৎপরতা শুরু করেছেন। অতি উৎসাহী কয়েকজন নেতা মহাসচিব হওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপও শুরু করেছেন।

অন্যদিকে দলের বড় একটি অংশ এ কারণে শঙ্কিত। তারা ভাবছেন তারেক পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারলে বিএনপিতে তাদের ভবিষ্যৎ নেই এবং দল হিসেবে বিএনপি বিলীন হয়ে যাবে। তাই এই অংশটি চাইছে, সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব দ্বারা দলের হাল ধরতে।

এদিকে ২০১৮ সালের নির্বাচনে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বাইরে বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতাকে দলের হাল ধরার পরামর্শ দিয়েছিল বলে জানায় দলটির নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র।

কিন্তু এক-এগারোর কথা বিবেচনায় রেখে সিনিয়র নেতারা খালেদা ও তারেকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে রাজি না হওয়ায় নির্বাচনী ফলাফলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে বিএনপির।

সেই ভুল পুনরায় না করতে এরই মধ্যে বিএনপির এই অংশটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যোগাযোগ শুরু করেছে বলে সূত্রের বরাতে জানা গেছে।

জানা গেছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে এই কাজটি করছেন। এখন অপেক্ষা শুধু সবুজ সংকেতের।

এ বিষয়ে রাজনৈতিক সচেতনরা মনে করেন, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান- এই পরিবারবৃত্তের মধ্যে আবদ্ধ থাকলে রাজনীতি বা ক্ষমতার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে বিএনপি পৌঁছাতে পারবে না।

তারা বলেন, ক্ষমতায় থাকতে তারেক সমর্থকদের ভূমিকায় বিভিন্ন মহল ক্ষুব্ধ ছিল। সেই অবস্থার আজও পরিবর্তন হয়নি। তাছাড়া এই পরিবারতন্ত্র চলতে থাকলে একসময় বিএনপির সিনিয়র নেতারাও রাজনীতির প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন এবং দলটির ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হবে না।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএএম/এমআরকে/এইচএন