রাবির চারুকলায় বৈশাখী হাওয়া

রাবির চারুকলায় বৈশাখী হাওয়া

রাবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:৫৬ ১২ এপ্রিল ২০২২   আপডেট: ২২:০০ ১২ এপ্রিল ২০২২

বাংলা নববর্ষ বরণে রাবির চারুকলাকে বর্ণিল সাজে সাজানো হচ্ছে

বাংলা নববর্ষ বরণে রাবির চারুকলাকে বর্ণিল সাজে সাজানো হচ্ছে

পহেলা বৈশাখ আসতে বাকি আর মাত্র একদিন। পুরোনোকে পেছনে ফেলে নতুনের কেতন উড়িয়ে দরজায় কড়া নাড়ছে বাঙালির এই প্রাণের উৎসব। ভোরের সূর্য রাঙিয়ে দিবে নতুন স্বপ্ন, প্রত্যাশা আর সম্ভাবনাকে। বৈশাখের এই বর্ণিল আয়োজনে সারাদেশ মাতবে উৎসবে। পিছিয়ে নেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ও। বেশ ঘটা করেই উদযাপন করবে বাঙালির প্রাণের এই উৎসবটি। এর মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণে লেগেছে বৈশাখী হাওয়া। রঙতুলির রঙিন ছোঁয়ায় বর্ণিল সাজে সাজানো হচ্ছে। চলছে শেষ সময়ের প্রস্তুতি। 

সরেজমিনে দেখা যায়, অনুষদের শিক্ষার্থীরা তাদের পুরোনো জরাজীর্ণ ভবনটিকে রাঙিয়ে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। হরেক রকমের রঙতুলির ছোঁয়ায় সাদা রঙের দেওয়ালে ফুটিয়ে তুলছেন গ্রাম বাংলার লোকজ সংস্কৃতি। আবার অনেকে চারুকলার রাস্তাগুলোকেও রাঙাচ্ছেন হরেক রকমের আলপনায়।

রঙতুলি দিয়ে চারুকলা রাঙাচ্ছেন চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের দ্বিতীয়বর্ষের শিক্ষার্থী নওশীন তাসনীম নবনী। তিনি বলেন, প্রথমবর্ষে করোনার কারণে আমরা ঘরে বসে অনলাইনে বৈশাখ উদযাপন করেছি। এবারে সরাসরি বৈশাখের কাজে যুক্ত হয়েছি এবং বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রথমবারের মতো বৈশাখ উদযাপন করব এটা ভাবতেই নিজের মাঝে অন্যরকম এক অনুভূতি বিরাজ করছে।

তার সহপাঠি নিলদ্রী শেখর রায় বলেন, বৈশাখ আমাদের প্রাণের উৎসব। দীর্ঘদিন পরে হলেও আমরা এবারে তা সশরীরে উদযাপন করতে যাচ্ছি এজন্য অনেক ভালো লাগছে।

মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য বিভাগের শিক্ষার্থী নয়ন আহমেদ সুমন বলেন, এবারের বৈশাখে আমরা পুরো চারুকলাকে রাঙিয়ে তুলব। চারুকলার পুরাতন ভবনজুড়ে লোকজ ধাঁচের দেয়াল চিত্র করা হবে এছাড়া পলাশ চত্বর থেকে শুরু করে চারুকলার প্রতিটি রাস্তায় আলপনা করা হবে।

জানতে চাইলে বৈশাখ উদযাপনে দায়িত্বে থাকা চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী আবরার গালিব বাঁধন বলেন, বৈশাখ আমাদের বাঙালির ঐতিহ্যের সঙ্গে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। আমরা অন্যান্যবারের ন্যায় এবারও বর্ষবরণ করতে যাচ্ছি। এবারে আমরা লোকজ ধাঁচের দেয়ালচিত্র এবং আলপনা দিয়ে চারুকলাকে রাঙাবো এবং বৈশাখের দিনে অনুষদের সামনে তিনটি খেরোখাতা রাখব, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাক-শিক্ষার্থী এবং দর্শনার্থীরা ইচ্ছেমতো ছবি আঁকতে পারবেন।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী বলেন, এবারের বৈশাখের মূল প্রতিপাদ্য হলো হালখাতা। যেহেতু হালখাতার মাধ্যমেই বাঙালিদের মাঝে নববর্ষ উদাযাপনের প্রচলন হয়েছিল, তাই আমরা সেটিকে ধারণ করেই এবারের বৈশাখ উদযাপন করতে যাচ্ছি। হালখাতার মাধ্যমে আমরা এই বিষয়টির ইঙ্গিত দিচ্ছি যে, এখন থেকে আমরা নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষা নিবো এবং সময়মতো পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করব। বৈশাখের প্রথমদিন সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন। আর হালখাতার দিনে যেহেতু মিষ্টিমুখ করানো হয়, রমজান মাস হওয়ায় আমরা এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় চারুকলায় উপস্থিত সবাই মিষ্টিমুখ এবং ইফতার করাব।

মঙ্গল শোভাযাত্রার বিষয়ে জানতে চাইলে ডিন বলেন, আমরা এবারে দুটি পর্বে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান করব। প্রথমপর্বে বৈশাখের প্রথমদিনে থাকছে হালখাতা। আর দ্বিতীয়পর্বে বৈশাখের শেষদিনে থাকবে মঙ্গল শোভাযাত্রা এবং বাঙালির ঐতিহ্য নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম