রাজনীতিতে বিএনপির নৈতিক পরাজয়

রাজনীতিতে বিএনপির নৈতিক পরাজয়

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:১৯ ১১ এপ্রিল ২০২২   আপডেট: ১৫:১৯ ১১ এপ্রিল ২০২২

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

আইনি জটিলতাসহ পারিপার্শ্বিক সীমাবদ্ধতার কারণে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে ফেরাটা অনিশ্চিত। তবে বিএনপির কর্মীরা আশা করেন, তাদের নেত্রী ফিরবেন এবং মৃতপ্রায় দলকে চাঙা করে তুলবেন। কিন্তু তাদের এই ইচ্ছা পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

জানা গেছে, খালেদা জিয়া ও দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে হতাশার দোলাচলে অবস্থান করছেন মির্জা ফখরুলরা। আবার দলের অনেক নেতা মনে করেন, খালেদা জিয়ার ভুলের কারণে তারেক লাভবান হচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি এবং তার মুক্তির বিষয়ে পরিবারের উদ্যোগ ও তৎপরতা নিয়েও দলের ভেতরে নানা প্রতিক্রিয়া আছে। কারণ দলের কেউ জানেন না কোথা থেকে কী হচ্ছে। এ নিয়ে দলের নেতাদেরও কিছু বলার নেই। কারণ তারা আইনি পথে বা আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে দলীয় প্রধানকে মুক্ত করতে পারেননি। আবার দলে তারেক রহমানের নেতৃত্ব অনেকের মনঃপূত হচ্ছে না এবং জ্যেষ্ঠ নেতারা খালেদার নেতৃত্বে কাজ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কিন্তু রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে তারেক রহমানই দলের মূল নেতা হয়ে উঠেছেন। আর পরিস্থিতির কারণে বাধ্য হয়ে নেতাদের সবাইকে তা মেনে নিতে হচ্ছে।

গুঞ্জন রয়েছে, নিজ যোগ্যতা নয় বরং খালেদা জিয়ার ভুলের কারণে বিএনপির নেতৃত্ব পেতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। খালেদা জিয়া বিএনপিকে যে জায়গা নিতে সক্ষম হয়েছেন, তারেকের দ্বারা তা সম্ভব নয়। বেগম জিয়ার ভুলে তারেক লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হবে বিএনপি- এমন গুঞ্জনও চাউর হয়েছে দলের রাজনীতিতে। খালেদার অনুপস্থিতি দলীয় নেতাকর্মীদের মানসিক শক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

এদিকে একাধিক সূত্র বলছে, খালেদা জিয়ার দুর্নীতি ও সাজার কারণে বিএনপির নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙে গেছে। এ কারণে রাজনীতিতে বিএনপির নৈতিক পরাজয় ঘটেছে। দলের দুই শীর্ষ নেতা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। তবে বিএনপি নেতারা বলছেন, অসুস্থতার কারণে বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় রয়েছেন। আবার তারেক রহমানের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতির কারণে তাকে মেনে নিতে হচ্ছে। তারেক রহমানের কারণে আগামীতে বিএনপি আরো প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করছেন দলের সিনিয়র নেতারা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএএম/এমএস/এইচএন