দিনে বন্ধ ডাইনিং-ক্যান্টিন, বিপাকে রাবির অমুসলিম শিক্ষার্থীরা

দিনে বন্ধ ডাইনিং-ক্যান্টিন, বিপাকে রাবির অমুসলিম শিক্ষার্থীরা

রাবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:০২ ৬ এপ্রিল ২০২২   আপডেট: ১৬:০৮ ৬ এপ্রিল ২০২২

রাবির ডাইনিং-ক্যান্টিনে পাওয়া যাচ্ছে রাত আর সেহেরির খাবার

রাবির ডাইনিং-ক্যান্টিনে পাওয়া যাচ্ছে রাত আর সেহেরির খাবার

রমজান মাস উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আবাসিক হলগুলোর ডাইনিং-ক্যান্টিন দিনে বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে খাবারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অমুসলিম শিক্ষার্থীদের নির্ভর করতে হচ্ছে ক্যাম্পাসের আশেপাশের ভ্রাম্যমাণ হোটেল ও খাবারের দোকানগুলোর উপর। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ১১টি হলের ডাইনিং চালু রয়েছে। পাশাপাশি কিছু হলের ক্যান্টিনেও খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে শুধু রাত আর সেহেরির খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। সারাদিন বন্ধ থাকছে সেগুলো। এর ফলে খাবার নিয়ে বেশ অসুবিধায় পরেছে অমুসলিম শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে মেয়েদের ৬টি হলের মধ্যে ৪টি হলের ডাইনিং চলছে। তবে এর মধ্যে ডাইনিংয়ে খাওয়ার ছাত্রী না থাকার কারণে তাপসী রাবেয়া হলের ডাইনিং বন্ধ রাখা হয়েছে। স্বাভাবিক নিয়মেই চলছে বঙ্গমাতা হলের ডাইনিংয়ের কার্যক্রম। তবে রাতের খাবার কিনে নিয়ে রুমে বসে খেতে হচ্ছে সেহরির সময়। সারাদিন থাকছে বন্ধ।

মাদার বখশ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী পল্লব কুমার বলেন, রমজান মাস উপলক্ষে সারাদিন ডাইনিং-ক্যান্টিনগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। এর ফলে যারা রোজা রাখে না এবং অন্য ধর্মালম্বী শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েছে। খাবার জন্য বাইরে যেতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে খাবারের দামও অনেক বেশি নিচ্ছে। একদিকে সময়ের অপচয় হচ্ছে অন্যদিকে পকেট ফাঁকা হচ্ছে। আপাদত যেকোনো একটি হলের ডাইনিং ক্যান্টিন সারাদিন খুলা রাখার ব্যবস্থা হোক। 

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সনাতন বিদ্যার্থী সংসদের সভাপতি চন্দন দত্ত বলেন, হলে অমুসলিম শিক্ষার্থী কম থাকায় ব্যবসায়িক চিন্তা করে ডাইনিং-ক্যান্টিন বন্ধ রাখলেও প্রশাসন সব শিক্ষার্থীর কথা মাথায় রেখে কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া খোলা রাখতে পারে। ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া না হলে পড়ালেখায় মনোযোগ দেয়া সম্ভব না। আমরা খুব শিগগিরই এ বিষয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করব।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হল প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক ড. জাহিদুল ইসলাম বলেন, অমুসলিম শিক্ষার্থীদের কথা আমরা চিন্তা করেছি। অতিদ্রুত প্রতিটি হলে তাদের খাবার প্রদানের জন্য টোকেন সংগ্রহের নোটিশ দেয়া হবে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম টিপু বলেন, খাওয়া ছাড়া একজন মানুষ বেঁচে থাকতে পারে না। এই বিষয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের হল প্রভোস্টদের জানাতে পারে। তখন আমরা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে বিকল্প পদ্ধতিতে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করব।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম