রমজানে সহজে যেভাবে কোরআন খতম করতে পারবেন

রমজানে সহজে যেভাবে কোরআন খতম করতে পারবেন

ধর্ম ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:২৭ ৩০ মার্চ ২০২২  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

আসছে পবিত্র রমজান মাস। প্রত্যেক মুসলিমদের জন্য এই মাসের গুরুত্ব অপরিসীম। বছরের অন্য সময়ে যেসব মুসলিমরা খুব বেশি একটা আমল-ইবাদত বা কোরআন তিলাওয়াতে মনযোগী থাকেন না, পবিত্র রমজান এলে তারাও মনযোগী হন বিভিন্ন আমলে।

ইসলামের দৃষ্টিতে পবিত্র রমজান মাস যেসব কারণে গুরুত্বপূর্ণ তার অন্যতম একটি হলো- এই মাসেই পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছে। বছরের অন্য সময়ে কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে যে সাওয়াব অর্জিত হয়, পবিত্র রমজানে সে সাওয়াব আরো বেশি প্রদানের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। আর এজন্য মুসলিম সম্প্রদায় এই মাসে অধিকাহারে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতে সময় কাটান এবং অর্থসহ বুঝে বুঝে খতম করা কিংবা তেলাওয়াত করা। তাই যারা রমজানে কোরআন খতম কিংবা কোরআন তেলাওয়াত করতে চান, তারা প্রতিদিন কীভাবে এবং কতটুকু করে পড়লে এ মাসে কোরআন পাঠ শেষ করতে পারবেন, সে বিষয়ে একটি সুন্দর কৌশল ও পরামর্শ হলো- 

প্রতিদিন চার পৃষ্ঠা করে প্রত্যেক নামাজের পর কোরআন তেলাওয়াত করুন। প্রত্যেক ৫ ওয়াক্ত নামাজের শেষে চার পৃষ্ঠা করে তেলাওয়াত করুন, ফলে প্রতিদিন আপনার তেলাওয়াত হবে ২০ পৃষ্ঠা অর্থাৎ এক পারা। এতে খুব বেশি সময় খরচ হবে না। এভাবে দিনে এক পারা করে তেলাওয়াত করলে পুরো রমজানে ৩০ পারা কোরআন শরিফ তেলাওয়াত খুব সহজেই হয়ে যাবে। এছাড়া প্রতি নামাজের সময় ৮ পৃষ্ঠা করে পড়লে ৩০ দিনে দুই খতম হবে। ১৬ পৃষ্ঠা করে পড়লে ৩০ দিনে ৪ খতম এবং  ২০ পৃষ্ঠা পড়লে ৩০ দিনে ৫ খতম হবে।

কোরআন শরিফ না বুঝে পড়লে প্রতি হরফে কমপক্ষে ১০ নেকি হয়। পড়তে না জানলে কোরআন শরিফ খুলে আল্লাহর পবিত্র কালামের পাতা ও লেখার দিকে মহব্বতের সাথে তাকিয়ে থাকলেও সওয়াব পাওয়া যায়। বুঝে পড়লে আরও বেশি নেকি হয়। এছাড়াও রমজান উপলক্ষে নেকি ৭০ গুণ বৃদ্ধি করা হয়। নিষ্ঠা ও ভালোবাসার কারণে আল্লাহ তায়ালা ৭০০ থেকে অগণিত গুণ কিংবা বেহিসাব বৃদ্ধি করে থাকেন।

মহান ইমাম আবু হানিফা নোমান ইবনে সাবিত (রহ.) রমজানের দিনে এক রাতে এক খতম হিসাবে একমাসে মোট ৬০ খতম করতেন বলে বিভিন্ন বর্ণনা রয়েছে। ইমাম মুহাম্মদ ইবনে তাইমিয়া (রহ.) জেলখানায় ৮০ তম খতমের সময় কোরআন তিলাওয়াতরত অবস্থায় সেখানেই শাহাদত বরণ করেন।

আসুন, আমরা হাফেজ আলেমগণের মতো পাঁচ-দশ বা দুই-চার খতম কিংবা কমপক্ষে একটি খতম হলেও করার নিয়ত করি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের তাওফিক দান করুন। আমিন। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএ