নেত্রকোনায় আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়, দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি বিধস্ত 

নেত্রকোনায় আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়, দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি বিধস্ত 

নেত্রকোনা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:২৮ ২৫ মার্চ ২০২২   আপডেট: ১৬:৪৪ ২৫ মার্চ ২০২২

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি বিধস্ত হয়েছে।  ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি বিধস্ত হয়েছে।  ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

প্রত্যন্ত হাওরাঞ্চল নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে বেশ কয়েকটি গ্রামের অন্তত দেড় শতাধিক কাঁচা ও আধা পাকা ঘরবাড়ি বিধস্ত হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মোহনগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর তেঁতুলিয়া ও ২ নম্বর বড়তলী বানিহারী ইউপিতে এ ঘটনা ঘটে।

আকস্মিক এ ঘূর্ণিঝড়ে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও বসতঘর ভেঙে লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। তাদের অনেকেই বসবাস করছেন খোলা আকাশের নিচে।

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি বিধস্ত হয়েছে। 

শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় মোহনগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাব্বির আহম্মেদ আকুঞ্জির সঙ্গে কথা হলে তিনি এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

ইউএনও বলেন, আমরা ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজ-খবর নিচ্ছি এবং তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।

ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মোহনগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউপির পশুখালী, আনন্দনগর, হরিপুর ও আজমপুর এবং একই উপজেলার বড়তলী বানিহারী ইউপির ফিরোজপুর ও বারোঘর নওগাঁ গ্রামসহ আশপাশের গ্রামগুলোর ওপর দিয়ে আকস্মিক এক ঘূর্ণিঝড় বয়ে যায়। ঘূর্ণিঝড়ে ওই গ্রামগুলোর অন্তত দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি বিধস্ত হয়। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তেঁতুলিয়া ইউপির পশুখালী ও বড়তলী বানিহারী ইউপির ফিরোজপুর গ্রামে।

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি বিধস্ত হয়েছে। 

পশুখালী গ্রামের বাসিন্দা ক্ষতিগ্রস্ত মুসলিম শাহ জানান, বৃহস্পতিবার রাতের খাওয়া দাওয়া শেষে যখন ঘুমাতে যাব ঠিক এমন সময় হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় শুরু হয়। পরে ১০-১২ মিনিট চলে এ ঝড়। এতে আমার ঘরটি সম্পূর্ণ ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। দ্রুত নতুন ঘর তৈরির মতো ক্ষমতা আমার নেই। তাই পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করা ছাড়া কোনো উপায় দেখছি না।

তিনি বলেন, আমাদের গ্রামে অন্তত অর্ধশত ঘরবাড়ি ভেঙেছে ঘূর্ণিঝড়ে। এ জন্য তিনি দ্রুত সরকারি সহায়তা কামনা করেন।

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি বিধস্ত হয়েছে। 

এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম চৌধুরী জহর বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে আমার ইউনিয়নে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজ-খবর নিচ্ছি এবং তালিকা করছি। 

বড়তলী বানিহারী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সোহাগ তালুকদার জানান, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করছি। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে আছি এবং থাকব ইনশাআল্লাহ। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে