স্বাধীনতা অর্জনের পথনকশা ছিল ৭ মার্চের ভাষণ: ওবায়দুল কাদের 

স্বাধীনতা অর্জনের পথনকশা ছিল ৭ মার্চের ভাষণ: ওবায়দুল কাদের 

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৪৬ ৭ মার্চ ২০২২   আপডেট: ১৩:০৯ ৭ মার্চ ২০২২

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের- ফাইল ফটো

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের- ফাইল ফটো

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ছিলো প্রত্যাশা জাগানিয়া স্ফুরণ। মহান স্বাধীনতা অর্জনের পথনকশা এতে ছিল বলেও জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। 

সোমবার ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক কার্যালয় ৭ই মার্চের আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। এতে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তব্য রাখেন। 

সভায় ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে। এতে করে আমরা আত্নবিশ্বাসী। দেশের মানুষ শেখ হাসিনার প্রতি নির্ভরশীল।

তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এবারের এ মার্চ জাতি পালন করেছে হৃদয়ের সবটুকু আবেগ, উচ্ছ্বাস আর শপথের বলিষ্ঠতায়। জাতি স্মরণ করেছে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের সেই অবিনাশী কণ্ঠের বজ্রনিনাদ। মুগ্ধ মনোযোগে এখনও কোটি বাঙালি শোনে ‘রাজনীতির কবি’র সেই অমর কাব্যগাঁথা- যা অর্ধশত বছর পরেও কত জীবন্ত, কত কাব্যিক! রক্ত কণিকায় এখনও কাঁপন ধরায় সেই ভাষণ। সেই শব্দমালা। শব্দ কর্তৃত্ব করে, নেতৃত্ব দেয়, দ্যুতি ছড়ায়, বিদ্রোহে রসদ জোগায়, শব্দ কোটি মানুষকে গ্রন্থিত করে এক সূত্রে। হাজার পূর্বপুরুষের রক্তের প্রতিশোধ নিতে কম্পন তোলে অস্তিত্বে। আর এ কম্পনের অপর নাম ৭ মার্চ।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ছিল প্রত্যাশা জাগানিয়া স্ফুরণ। মহান স্বাধীনতা অর্জনের পথনকশা। আর অর্ধশত বছর পর তারই সুযোগ্যকন্যা সে প্রত্যাশা পূরণের সোনালী দিগন্তের উন্মোচক। তলাবিহীন ঝুঁড়ির অপবাদ ঘুচিয়ে স্বল্পোন্নত দেশের সিঁড়ি বেয়ে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় অভিষিক্ত। আপনি দেশকে উত্তরণের যে উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন, তাতে আমরা এখন আত্নবিশ্বাসী এবং প্রত্যয়ী এক জাতি। সমৃদ্ধ বাংলাদেশের যে স্বপ্ন আপনি কোটি তরুণের প্রাণে বপন করেছেন, তা ফুটতে শুরু করেছে। তাদের হাত ধরেই এ দেশ পৌঁছে যাবে অর্জনের উচ্চ সোপানে, স্বপ্নের সোনার বাংলায়।

ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী, ‘জয় বাংলা’ সতের কোটি মানুষের প্রাণের শ্লোগান। আপনার সময়োপযোগী সিদ্ধান্তে ‘জয় বাংলা’ আজ বাংলাদেশের জাতীয় শ্লোগান। ‘জয় বাংলা’ শ্লোগানের মধ্য দিয়ে বাঙালি পেয়েছিল স্বাধীনতার শক্তি। আজ এ শ্লোগান ধারণ করে এবং দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে দেশগঠনে উজ্জীবিত হবে আপনার নেতৃত্বে। এ সাহসী সিদ্ধান্তের জন্য আপনাকে জানাচ্ছি অভিনন্দন। 

আরো পড়ুন>>> ঐতিহাসিক ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আওয়ামী লীগের শ্রদ্ধা

তিনি বলেন, ১৯৭০ সালে সাধারণ নির্বাচনে জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে ম্যান্ডেট দেয়। পাকিস্তানের সামরিক শাসকচক্র আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার ষড়যন্ত্রে মত্ত হয়ে ওঠে। বাঙালির গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে স্তব্ধ করে দিতে নির্যাতনের স্টিম রোলার চালায়। কিন্তু কোনো বাধাই রুখতে পারেনি বাঙালির অধিকার আদায়ের ক্লান্তিহীন সংগ্রাম। বঙ্গবন্ধু জানতেন স্বাধীনতা কখনো অন্যের পায়ে ভর করে আসে না, না আসে অন্যের ওপর ভরসা করে। কারো করুণা বা অনুগ্রহে আত্মমুক্তি অর্জন করা হয় না। তাই ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে শোনালেন আত্মমুক্তি অর্জনের লক্ষ্যে আত্মশক্তিতে বলীয়ান হওয়ার অমর ও অক্ষয় বাণী।

ওবায়দুল কাদের আরো বলেন,আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা-মূল্যবোধের অনেক কিছুই বিকৃতির নিকৃষ্ট ষড়যন্ত্র করে বদলে ফেলা হয়েছিল। আর এরই সাথে ৭ মার্চের ভাষণ প্রচার ও প্রসারে তৈরি করা হয়েছিল প্রতিবন্ধকতা। 

ষড়যন্ত্র যেমনি আগেও ছিল তেমনি এখনও আছে। আমরা বাতাসে এখনও ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাই। সামনের দিকে দেশের মানুষকে রক্ষা করতে কঠিন বাস্তাবতার এগিয়ে যাচ্ছে। এজন্য আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এই কঠিন সময়ের মুখোমুখি হতে নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নিতে হবে।যে কোনো অপশক্তির বিষদাঁত ভেঙ্গে দিতে পারে আমাদের ইস্পাতকঠিন ঐক্য। 

সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শাহজাহান খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, খায়রুজ্জামান লিটন, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, দীপু মনি,
ড. হাছান মাহমুদ, বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, আবু সাঈদ আল মাহামুদ স্বপন, এসএম কামাল হোসেন,আফজাল হোসেন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ,দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।

ডেইলি বাংলাদেশ/জাআ/জেডআর