হিমালয়ের ভয়ঙ্কর ড্রাকুলার ইয়েতি, এখনও সন্ধান পায়নি কেউ

হিমালয়ের ভয়ঙ্কর ড্রাকুলার ইয়েতি, এখনও সন্ধান পায়নি কেউ

সাতরং ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:৪৪ ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২   আপডেট: ১১:৪০ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২

হিমালয়ের তুষারমানব ইয়েতি। ছবি : সংগৃহীত

হিমালয়ের তুষারমানব ইয়েতি। ছবি : সংগৃহীত

কাকাবাবু কমিক্স অনেকেই পড়েছেন। কাকাবাবু যেবার খোঁড়া পা নিয়ে হিমালয়ে যাবেন বলেছিলেন, তখন খোদ সন্তুই বিশ্বাস করতে পারেনি। শেষতক তো তারা হিমালয়ে গিয়ে জেঁকে বসলেন, কিন্তু সন্তু তখনও ঠাওর করে উঠতে পারছিল না, আসলে কাকাবাবু কী করতে হিমালয়ে এসেছেন। অবশ্যই এভারেস্টে চড়তে নয়- এ ধারণা সন্তুর মনে বদ্ধমূল হয়ে গিয়েছিল।

শেষে কাকাবাবুর কাছে এক বিকটদর্শন দাঁত আর শেরপাদের কাছে বিশালকায় ইয়েতির গল্প শুনে সন্তু সিদ্ধান্তে পৌঁছল, কাকাবাবু এবার নিশ্চিত একটা ইয়েতি ধরে বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দেবেন।

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কাকাবাবু সিরিজের পাহাড়চূড়ায় আতঙ্ক যারা পড়েছেন, তারা নিশ্চয়ই জানেন, শেষ অবধি কাকাবাবু হিমালয়ে কী খুঁজে পেয়েছেন!
সেবার ইয়েতি ধরতে গিয়ে তাদের এক ভিন্নরকম অভিজ্ঞতা হলো, সে গল্প নাহয় আরেকদিন বলা যাবে। আজকে বরং হিমালয়ের জনমানবহীন তুষারঢাকা অঞ্চলে বাস করা কথিত এই ইয়েতি জীবটির খোঁজ করা যাক।

ইয়েতি হচ্ছে হিমালয় পর্বতমালার দুর্গম অঞ্চলে বাস করা এক শ্রেণির দ্বিপদী প্রাণী।

ব্যুৎপত্তিগতভাবে ইয়েতি মূলত তিব্বতি শব্দ। ইংরেজিতে যার নাম অ্যাবোমিনেবল স্নোম্যান।

এই ইয়েতি হচ্ছে হিমালয় পর্বতমালার দুর্গম অঞ্চলে বাস করা এক শ্রেণির দ্বিপদী প্রাণী। স্নোম্যান বা তুষারমানব নাম হওয়ার কারণ ইয়েতি দেখতে অনেকটা মানুষের মতোই। রহস্যময় এই প্রাণীটির দেহ ধূসর-কালো বা লালচে-বাদামী পশমে ঢাকা, দৈহিক গঠন বলিষ্ঠ।

এখন পর্যন্ত অনেক মানুষই ইয়েতিকে দেখেছেন বলে দাবি করলেও বাস্তবে ইয়েতির কোনো সন্ধান আজ অবধি কেউ পায়নি। সেদিক থেকে বলতে গেলে ইয়েতির ধারণাটি একটি মিথ।

তবে হিমালয় অঞ্চলে অনেক সময় বিশালাকৃতির পায়ের ছাপ, শরীরের পশম ইত্যাদি পাওয়া গেলেও সেগুলোর বেশিরভাগ ছিল তুষার ভাল্লুকের। কিন্তু একই রকম কিছু আবিষ্কারের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা পুরোপুরি ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেননি বলে ইয়েতির অস্তিত্ব একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ইতিহাসে ইয়েতির ইতিউতি বর্ননা করা হয়েছে কোথাও কোথাও।

হিমালয়ের বিশালতার কোনো এক অংশে হয়তো প্রাণিটি মনুষ্য সমাজের চোখ ফাঁকি দিয়ে বহাল তবিয়তে এখনো টিকে আছে। হয়তো বাস্তবিক অর্থেই ইয়েতি বলে কোনোকালেই কিছু ছিল না। বরং এটি হিমালয়ে বাস করা শেরপাদের একান্ত নিজস্ব ড্রাকুলার গল্প।

তবে ইতিহাসে ইয়েতির ইতিউতি বর্ননা করা হয়েছে কোথাও কোথাও।  ইয়েতির আদিউৎস তিব্বত ও নেপালের হিমালয় অঞ্চলে বাস করা শেরপাদের লোকগাঁথা। মূলত তিব্বত অঞ্চলেই ইয়েতি মিথের প্রথম উৎপত্তি। পরে শেরপাদের মাধ্যমে তা নেপালে ছড়িয়ে পড়ে। শেরপাদের এসব লোকগল্প সংগ্রহ করেছেন শিব ধাকাল নামের একজন লেখক। ১২টি গল্পের এই সংগ্রহটির নাম ফোক টেইলস অভ শেরপা অ্যান্ড ইয়েতি।

শেরপাদের এই গল্পগুলোতে ইয়েতিকে সবসময় ভয়ঙ্কর প্রাণী হিসেবে দেখা হয়েছে। কখনও ইয়েতিকে অনিষ্টকারী হিসেবে, কখনও দুর্ভোগের উৎস হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে। এমনকি একটি গল্পে তো ইয়েতিকে ধর্ষণকারী হিসেবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে!

আক্রমণকারী জানোয়ারদের কাছ থেকে সাবধান থাকার জন্য শেরপাদের যে জুজুর ভয় দেখানো হয়, তা হচ্ছে ইয়েতি।

এসব গল্পে ইয়েতিকে প্রতিকূল চরিত্র হিসেবে বিচার করার কিছু কারণ রয়েছে। প্রত্যেক গোষ্ঠীরই এরকম কিছু কাল্পনিক চরিত্র থাকে, যা ভয়ের উদ্রেক করে, মানুষের চোখে সেগুলো জুজুর মতো কাজ করে। ইয়েতি হচ্ছে শেরপাদের সেই জুজু।

শেরপারা হিমালয়ের দুর্গম তুষারাবৃত অঞ্চলে ঘুরে বেড়ায় তাদের জীবিকার জন্য। এসব অঞ্চলে রয়েছে পদে পদে মৃত্যুর হাতছানি। তুষারধ্বস, বরফের চোরা গর্ত এসব তো আছেই, পাশাপাশি রয়েছে জন্তু-জানোয়ারের আক্রমণের ভয়। এই আক্রমণকারী জানোয়ারদের কাছ থেকে সাবধান থাকার জন্য শেরপাদের যে জুজুর ভয় দেখানো হয়, তা হচ্ছে ইয়েতি।

ধাকালের মতে, এই জুজুর সৃষ্টির পেছনে হয়তো এমন উদ্দেশ্য ছিল যে, শেরপাদের বাচ্চাকাচ্চারা যেন তাদের আবাসস্থল ছেড়ে দূরে কোথাও চলে না যায়। কারণ বরফের বিশাল প্রান্তরে একবার হারিয়ে গেলে তার আর ঘরে ফেরার কোনো উপায় নেই। সুতরাং শেরপা বাচ্চাদের যদি ইয়েতির ভয় দেখানো যায়, তাহলে তারা নিশ্চয়ই ঘর থেকে দূরে পা ফেলতে কিছুটা সাবধানতা অবলম্বন করবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/কেবি/এনকে