ওসি প্রদীপের ‘মৃত্যু দেখে যেতে চান’ ছেলে হারানো হালিমা

ওসি প্রদীপের ‘মৃত্যু দেখে যেতে চান’ ছেলে হারানো হালিমা

কক্সবাজার প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:৩৬ ৩১ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ১৪:৫৯ ৩১ জানুয়ারি ২০২২

কক্সবাজার আদালতে এসে ওসি প্রদীপের মৃত্যুদণ্ড চাইলেন ছেলে হারানো হালিমা খাতুন

কক্সবাজার আদালতে এসে ওসি প্রদীপের মৃত্যুদণ্ড চাইলেন ছেলে হারানো হালিমা খাতুন

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় ওসি প্রদীপসহ ১৫ আসামির বিরুদ্ধে রায় আজ। এ রায় ঘিরে অনেক আশা ভুক্তভোগীর স্বজনদের। তেমনই একজন হালিমা খাতুন। কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ হারিয়েছেন ছেলেকে তিনি। তাই তো রায় ঘোষণার খবরে আর বাড়িতে থাকতে পারেননি। টেকনাফ থেকে ছুটে এসেছেন কক্সবাজার আদালতে।

আদালত প্রাঙ্গণে কান্নায় ভেঙে পড়েন হালিমা খাতুন। তিনি বলেন, আমি মরার আগে ‘ওসি প্রদীপের মৃত্যু’ দেখে যেতে চাই।

২০১৯ সালে হালিমার ছেলে আজিজ রিকশা চালাতে গিয়ে ওসি প্রদীপের হাতে আটক হয়। পরে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। ছেলেকে প্রদীপের হাত থেকে বাঁচাতে শেষ সম্পদও বিক্রি করে দেন হালিমা। এরপরও ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করতে পারেননি।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর বাহারছড়া চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। ঘটনার পাঁচদিন পর ৫ আগস্ট ৯ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন নিহত সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় র‍্যাব। ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা। অভিযোগপত্রে সিনহা হত্যাকাণ্ডকে ‘পরিকল্পিত ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

২০২১ সালের ২৭ জুন ১৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ২৩ আগস্ট কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতে সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ এবং জেরা শুরু হয়। এ প্রক্রিয়া শেষ হয় গত ১ ডিসেম্বর। এ মামলায় মোট ৬৫ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে। গত ১২ জানুয়ারি রায় ঘোষণার দিন হিসেবে ৩১ জানুয়ারি ধার্য করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় আজ সোমবার চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল। এ উপলক্ষে আদালত চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) রফিকুল ইসলাম  বলেন, সকাল থেকে পুরুষ সদস্যদের পাশাপাশি আমাদের নারী পুলিশ সদস্যরাও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন। মেজর সিনহা হত্যা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে যেকোনো পরিস্থিতি এড়াতে আমরা প্রস্তুত আছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর