স্বীকৃতি পাওয়ায় ৩ হাজার মানুষকে খাওয়ালো বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার

৫০ বছর পর বীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি

স্বীকৃতি পাওয়ায় ৩ হাজার মানুষকে খাওয়ালো বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:০৭ ১৩ জানুয়ারি ২০২২  

পেট ভরে দুপুরের খাবার খান তিন হাজার মানুষ

পেট ভরে দুপুরের খাবার খান তিন হাজার মানুষ

শহিদ গোলজার হোসেন মৃধা। মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকসেনাদের বুলেটের আঘাতে নিহত হন তিনি। তবে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নিলেও স্বীকৃতি পাননি। অবশেষে স্বাধীনতার ৫০ বছর পর স্বীকৃতি পান এ বীর মুক্তিযোদ্ধা।

সর্বশেষ গেজেটে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গোলজার হোসেন মৃধার নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তিন হাজার মানুষকে এক বেলা খাইয়েছেন এ মুক্তিযোদ্ধার পরিবার। তাদের এ ব্যতিক্রম আয়োজনের প্রশংসা করেছেন মানুষ।

বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলজার হোসেন মৃধার বাড়ি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের গোয়াল গ্রামে। তার বাবার নাম আব্দুল করিম মৃধা।

গোলজার হোসেন মৃধা বীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাওয়ায় বুধবার কাশিয়ানী উপজেলার ৯৭ নম্বর গোয়ালগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বিশাল ভোজের আয়োজন করা হয়। এতে বীর মুক্তিযোদ্ধা, সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

জানা গেছে, গোলজার হোসেন আলিমের ছাত্র থাকাবস্থায় মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। তিনি ১৯৭১ সালে খান শিহাব উদ্দিনের নেতৃত্বে তৎকালীন গোপালগঞ্জ মহকুমার উলপুরে পাকসেনাদের সম্মুখযুদ্ধে বুলেটের আঘাতে নিহত হন। পরে ওই এলাকায় তাকে সমাহিত করা হয়। কিন্তু স্বাধীনতার দীর্ঘ বছর পার হলেও তার নাম মুক্তিযোদ্ধার গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ২০২১ সালের সর্বশেষ গেজেটে সাধারণ শহিদ মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় গোলজার হোসেনের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়।

গোলজার হোসেনের সহযোদ্ধা এমএম জালাল উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, গোলজার আহম্মেদ আমার সহযোদ্ধা ছিলেন। তিনি আমার সঙ্গে যুদ্ধাকালীন অবস্থায় শত্রুসেনার আক্রমণে নিহত হন। ওই সময় আমার আরো দুজন সহযোদ্ধা নিহত হন। একাত্তর সালের সেই স্মৃতি মনে পড়লে আজও আঁতকে উঠি।

তিনি আরো বলেন, ৫০ বছর ধরে সেই স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছি। তবে ৫০ বছর পর এসে সহযোদ্ধা গোলজার হোসেনের মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেখে যেতে পারলাম। এটা অত্যন্ত আনন্দের খবর। তবে তিনি এখনো শহিদ মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃত পাননি বলে মনে কিছুটা কষ্ট রয়ে গেল।

শহিদ গোলজার হোসেনের ছোট ভাই মো. আব্দুস সালাম মৃধা অশ্রুসিক্ত চোখে বলেন, একাত্তর সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ভাইকে হারিয়েছি। দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করেও তার নাম গেজেটভুক্ত করতে পারিনি। সর্বশেষ ২০২১ সালের যাচাই-বাছাইয়ে গেজেটভুক্ত হয়েছে। আমার ভাইয়ের এক বছরের মুক্তিযোদ্ধার ভাতা এক লাখ ৬৪ হাজার ও সঙ্গে আরো টাকা দিয়ে তার আত্মার শান্তির জন্য তিন হাজার মানুষকে এক বেলা খাইয়েছি। আমার ভাই মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি পাওয়ায় আমি নিজেকে ধন্য ও গর্বিত মনে করছি।

মাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাসুদ রানা বলেন, শহিদ গোলজার হোসেন মৃধার ভাইয়েরা যা দেখিয়েছে, তা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এ ধরনের আয়োজন এর আগে কখনো দেখিনি। খুব ভালো লাগল।

কাশিয়ানী থানা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইনায়েত হোসেন বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সম্মুখযুদ্ধে শহিদ হয়েও গোলজার ৫০ বছর ধরে স্বীকৃতি পাননি। এটা অত্যন্ত দুঃখের বিষয়। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি স্বীকৃতি পেয়েছেন এটা অনেক আনন্দের খবর।

কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রথীন্দনাথ রায় বলেন, সর্বশেষ প্রকাশিত গেজেটে বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলজার হোসেনের নাম এসেছে। দেরিতে হলেও তিনি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেয়েছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর