টিএসসিতে হামলা: প্রক্টর অফিসের সামনেই কাওয়ালি গাইলেন শিক্ষার্থীরা

টিএসসিতে হামলা: প্রক্টর অফিসের সামনেই কাওয়ালি গাইলেন শিক্ষার্থীরা

ঢাবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২২:৩৫ ১২ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ২২:৪৬ ১২ জানুয়ারি ২০২২

প্রক্টর অফিসের সামনেই কাওয়ালি গাইলেন শিক্ষার্থীরা; ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

প্রক্টর অফিসের সামনেই কাওয়ালি গাইলেন শিক্ষার্থীরা; ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) পায়রা চত্বরে কাওয়ালি সঙ্গীতের অনুষ্ঠানে হামলা করা হয়েছে। হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। একসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসের সামনে বিক্ষোভ করে এবং প্রক্টর অফিসের সামনেই কাওয়ালি গেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। 

বুধবার সন্ধ্যার দিকে শুরু হয় এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কয়েকটি গান পরিবেশন হওয়ার পর হঠাৎ অতর্কিত হামলা হয় অনুষ্ঠানে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের কাওয়ালি ব্যান্ড 'সিলসিলা' ও সাধারণ ছাত্রদের আয়োজনে এ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। কাওয়ালি অনুষ্ঠান শুরু হতেই প্রায় অর্ধশতাধিক উগ্র শিক্ষার্থী গানের অনুষ্ঠানে হামলা চালায়। 

পরে হামলার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ মিছিল করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পরিদর্শন করে। পরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানীর অফিসে যান শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ শেষে প্রক্টর অফিসের সামনেই কাওয়ালি গান গায় শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাওয়ালি ব্যান্ড 'সিলসিলা'র প্রতিষ্ঠাতা লুৎফর রহমান বলেন, আমরা একটি অরাজনৈতিক অনুষ্ঠান করতে চেয়েছিলাম। সেখানে কিছু নিচু মনমানসিকতার উগ্র সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসীরা হামলা করে। আমরা এর প্রতিবাদে এখন থেকে নিয়মিত প্রতি বৃহস্পতিবার টিএসসিতে কাওয়ালি অনুষ্ঠান করবো। 

আরো পড়ুন: টিএসসিতে কাওয়ালি অনুষ্ঠানে হামলা, প্রক্টর অফিসের সামনে বিক্ষোভ

হামলায় আমার সংবাদ পত্রিকার প্রতিবেদক জালাল আহমেদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সাদিয়া ইসলাম মুনা ও অর্থনীতি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাসফিয়া তাসনিম রায়াসহ ৮ থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে আয়োজকরা। 

ভাঙচুরের পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী। পরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের কারণে ঘটনাস্থল থেকে প্রক্টর অফিসের সামনে আসেন। সেখানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন প্রক্টর। তিনি বলেন, তোমাদের কথা আমি শুনে সেখানে গিয়েছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রমাণ সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

আয়েজকরা জানান, অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার পর থেকেই কিছু উগ্র শিক্ষার্থী এই অনুষ্ঠান বন্ধ করার জন্য বলা হয়। এর আগে ব্যানার খুলে ফেলা হয়। স্টেজ তৈরিতে বাধা দেয়। সাউন্ড সিস্টেমের লোকদের আসতে বাধা দেয়। পরে অন্য আরেক জায়গা থেকে সাউন্ড সিস্টেম এনে অনুষ্ঠান শুরু করার আগেই ঘটনাস্থলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের নেতাকর্মীরা এসে অতর্কিত হামলা-মারধর ও ব্যাপক ভাঙচুর চালানো শুরু করে। 

ক্ষোভ প্রকাশ করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী সাদিকুল ইসলাম বলেন, টিএসসি আমাদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, একটি গণতান্ত্রিক স্থান। সেই জায়গায় যেমন করে একটি হামলা হলো, একটি প্রোগ্রাম বানচাল করা হলো সেটা সত্যিকার অর্থেই শঙ্কার কারণ। কেননা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো নিরাপত্তা নেই, যে কারো উপর হামলা হয়ে যায় কিন্তু প্রশাসন কোনো বিচারের আওতায় আনতে পারে না। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনের পর দিন ক্ষমতাসীন ছাত্ররা হামলা করছে, জুলুম করছে কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তাই তাদের যে জুলুমবাজি দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা প্রক্টর স্যারের কাছে দাবি জানাই যে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের শনাক্ত করা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়। 

প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষার্থী বলেন, একটা গান হয়েছিল, পরে মাইক সমস্যার কারণে গান একটু বন্ধ হয়। এরপর হঠাৎ করে পেছন দিক থেকে হামলা করা হয়। প্রথমেই চেয়ার ভাঙা হয়, আর ওখানে যারা ছিলো তাদের দিকে চেয়ার ছুঁড়তে থাকে। পরে সব চেয়ার ভেঙে দেওয়া হয়। স্টেজের একেবারে সামনে থাকা দুই ছাত্রী গুরুতর আহত হয়। তাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। 

সন্ধ্যায় টিএসসির কাওয়ালি অনুষ্ঠানে মুর্শিদি-ভাণ্ডারী ধারার সংগীত শিল্পী শেখ ফাহিম ফয়সাল, মূল কাওয়াল দল হিসেবে ঢাকার বিখ্যাত কাওয়াল নাদিম এহতেশাম রেজা খাঁ ও তার দল এবং অনুষ্ঠানে  ‘সিলসিলা’ ব্যান্ডের লুৎফর রহমান ও খালিদ হাসান আবিদের গান গাওয়ার কথা ছিল।

ডেইলি বাংলাদেশ/SA