২০২১ সালে ২৬১ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু

২০২১ সালে ২৬১ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু

নেত্রকোণা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:৪০ ১২ জানুয়ারি ২০২২  

নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল

নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল

নেত্রকোণায় ২০২১ সালে ২৬১ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত হত্যাকাণ্ড, আত্মহত্যা, সড়ক দুর্ঘটনা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ও পানিতে ডুবে এসব মৃত্যু হয়েছে। অধিকাংশ অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে সড়ক দুর্ঘটনায়।

বুধবার দুপুরে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

সূত্র মতে, জেলার ১০টি উপজেলায় ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে ১১টি, ফেব্রুয়ারি মাসে ১২টি, মার্চ মাসে ২৮টি, এপ্রিল মাসে ২১টি, মে মাসে ২৫টি, জুন মাসে ২৩টি, জুলাই মাসে ২৭টি, আগস্ট মাসে ২৯টি, সেপ্টেম্বর মাসে ৩০টি, আক্টোবর মাসে ১৬টি, নভেম্বর মাসে ২০টি এবং ডিসেম্বর মাসে ১৯টি অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।

তবে সচেতনদের মতে, অস্বাভাবিক মৃত্যুর সংখ্যা বেসরকারিভাবে আরো বেশি। সাধারণত প্রত্যন্ত এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায়,  পানিতে ডুবে ও বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কেউ মারা গেলে পুলিশি হয়রানি ও ময়নাতদন্তে কাটাছেঁড়ার ভয়ে অনেকেই প্রশাসনকে না জানিয়ে লাশ দাফন করেন। এসব মৃত্যু সরকারি নথিভুক্ত হয় না।

নিরাপদ সড়ক চাই নেত্রকোণা জেলা শাখার সদস্য আলপনা বেগম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করতে হলে সবার আগে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ, জেলা পরিবহন মালিক সমিতি ও জেলা মোটরযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের উদ্যোগে সব ধরনের যানবাহন চালকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিতে হবে। দক্ষ গাড়িচালক তৈরির পাশাপাশি রাস্তায় কিভাবে গাড়ি চালাতে হয় সেসব নিয়ম সম্পর্কে তাদের সচেতন করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, অপ্রাপ্ত বয়স্ক, অদক্ষ ও মাদকাসক্ত অবস্থায় কেউ যেন গাড়ি না চালায় এবং ট্রাফিক আইন যেন সবাই মেনে চলে সে জন্য ট্রাফিক বিভাগকে আরো সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

নেত্রকোণা বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোবারক হোসেন বলেন, আমরা বাস, ট্রাকচালকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাসহ চালক-হেলপার ও পথচারীদের নিজ নিজ স্থান থেকে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

নেত্রকোণার পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুন্সী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নিরাপদ আইন বাস্তবায়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এছাড়া পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে সড়ক দুঘটনা রোধ ও ট্রাফিক আইন মেনে চলতে চালক, হেলপার এবং পথচারীদের মাঝে ব্যাপক সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলেই পুলিশ বিভাগ দ্রুত মামলা রুজু করছে এবং অভিযুক্ত চালকদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে বলেও জানান এসপি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর