প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেলেন বঙ্গবন্ধুর চিঠি সংরক্ষণকারী সেই ইফাতন বেওয়া

প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেলেন বঙ্গবন্ধুর চিঠি সংরক্ষণকারী সেই ইফাতন বেওয়া

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৪৮ ১২ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ২১:২৪ ১২ জানুয়ারি ২০২২

ইফাতন বেওয়ার হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)

ইফাতন বেওয়ার হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)

পাঁচ দশক ধরে বঙ্গবন্ধুর চিঠি সংরক্ষণকারী শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা রমজান আলীর স্ত্রী ভিখারি ইফাতনের বাড়িতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুভেচ্ছা উপহার পৌঁছে দিয়েছেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. আতাউল গনি।

গত রোববার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে ধনবাড়ী উপজেলার পানকাতা গ্রামে ইফাতনের বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নগদ ২০ হাজার টাকা, টাঙ্গাইলের শাড়ি, ফলমূলসহ খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেন তিনি।

এর আগে, জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি ১৯৭১ সালে গোপালপুর উপজেলায় মাহমুদপুর গণহত্যায় নির্মিত স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে এক সমাবেশ করেন। সেখানে জেলা প্রশাসক জানান, গত ৭ জানুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে শহিদ রমজান আলীর স্ত্রী ইফাতন বেওয়াকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে ইফাতন বেওয়ার স্বামী রমজান আলী ১৯৭১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মাহমুদপুর গণহত্যার দিন শহিদ হওয়ার স্বীকৃতি হিসেবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষ থেকে একটি চিঠি পান। ১৯৭২ সালের ডিসেম্বর মাসে বঙ্গবন্ধুর পাঠানো ঐ চিঠি ইফাতন বেওয়া ৫০ বছর ধরে সংরক্ষণ করে আসছেন।

প্রকাশিত খবরটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টিতে আসে। টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসককে তিনি গণহত্যার শিকার ইফাতন বেওয়াসহ শহিদ ১৭ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন। 

আরো পড়ুন: ঢাকা বিমানবন্দর সড়কে আন্ডারপাসসহ চার প্রকল্প উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

জেলা প্রশাসক আরো জানান, ইফাতন বেওয়াসহ ১৭ শহিদ পরিবারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা হিসেবে একটি করে ‘বীর নিবাস’ নির্মাণ করে দেওয়া হবে। তারা যেন শহিদ পরিবারের সদস্য হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পান সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

ইফাতন বেওয়ার হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)বৃদ্ধা ইফাতন বেওয়া বলেন, অভাব-অনটনের সঙ্গে ৫০ বছর ধরে লড়াই করেছি। বহুদিন অনাহারে থাকতে হয়েছে। পাড়ায় পাড়ায় ভিক্ষা করে পেট চালিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নগদ অর্থ ও উপহার সামগ্রী পেয়ে নিজেকে ধন্য মনে করছি। আমি প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

তিনি আরো জানান, পাকিস্তানিরা আমার স্বামীকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। তখন আমার গর্ভে সন্তান ছিল। খুবই কষ্টে দিন কেটেছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শহিদ পরিবার হিসেবে একটি চিঠি ও দুই হাজার টাকার চেক পাঠিয়েছিলেন। চিঠিটি এখনো যত্ন করে রেখেছি। সহায় সম্বল হিসেবে বাড়ির ১০ শতাংশ জমি ছাড়া আমার কিছুই নেই। 

১৯৭২ সালের ২০ ডিসেম্বর পাঠানো সেই চিঠিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লিখেন, প্রিয় বোন, আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে আপনার সুযোগ্য স্বামী আত্মোৎসর্গ করেছেন। আপনাকে আমি গভীর দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি আমার আন্তরিক সমবেদনা। আপনার শোক-সন্তপ্ত পরিবারের প্রতিও রইল আমার প্রাণঢালা সহানুভূতি। এমন নিঃস্বার্থ মহান দেশপ্রেমিকের স্ত্রী হওয়ার গৌরব লাভ করে সত্যি আপনি ধন্য হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে আপনার পরিবারের সাহায্যার্থে আপনার সংশ্লিষ্ট মহকুমা প্রশাসকের নিকট ২ হাজার টাকার চেক প্রেরিত হলো। চেক নং মিত্র ০২১৫২০। আমার প্রাণভরা ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা নিন। - শেখ মুজিব তারিখ ২০.১২.১৯৭২।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেই সময় টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার বলিভদ্র ইউনিয়নের পানকাতা গ্রামের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদ রমজান আলীর স্ত্রী ইফাতন বেওয়াকে এই চিঠি পাঠান।

বঙ্গবন্ধুর পাঠানো সেই চিঠি হাতে ইফাতন বেওয়া (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)সদ্য স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সেই চিঠি ৫০ বছর ধরে বুকে আগলে রেখেছেন শহিদ রমজান আলীর স্ত্রী ইফাতন। এটি শুধু কাগজের চিঠিই নয়, বর্বর পাকিস্তানিদের হাতে নিহত স্বামীর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। ফলে বঙ্গবন্ধুর পাঠানো সেই চিঠি আজও যত্ন করে রেখেছেন ইফাতন।

আরো পড়ুন: ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে ‘শ্রেষ্ঠ উদ্যোক্তা’ মিজানের সাফল্য

এ বিষয়ে ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসলাম হোসাইন বলেন, শহিদ পরিবারের এমন খবর পেয়ে জেলা প্রশাসকসহ আমরা তার বাড়িতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপহার সামগ্রী, নগদ টাকা, শাড়ি ইফাতনের হাতে তুলে দিয়েছি। তার ভাতার কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তার নাতনি সুমার উপবৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

প্রধানমন্ত্রীর উপহার বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন- গোপালপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইউনুছ ইসলাম তালুকদার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. পারভেজ মল্লিক, ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসলাম হোসাইন, গোপালপুর পৌরসভার মেয়র রকিবুল হক ছানা, গোপালপুর থানার ওসি মোশারফ হোসেন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মীর রেজাউল হক, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম আক্তার মুক্তা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক সাইফুল ইসলাম তালুকদার, প্রেস ক্লাব সভাপতি অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন, সম্পাদক সন্তোষ কুমার দত্ত, ধনবাড়ী উপজেলার বলিভদ্র ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম/এমএস/এমকে