সুস্থ হচ্ছেন খালেদা, কপালে চিন্তার ভাঁজ তারেকের

সুস্থ হচ্ছেন খালেদা, কপালে চিন্তার ভাঁজ তারেকের

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:০৮ ১২ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ১৭:৫৮ ১২ জানুয়ারি ২০২২

খালেদ জিয়া ও তারেক রহমান- ফাইল ছবি

খালেদ জিয়া ও তারেক রহমান- ফাইল ছবি

মহানুভবতা দেখিয়ে শুধু কারামুক্তিই নয়, নিজের পছন্দমতো বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে চিকিৎসারও সুযোগ দিয়েছে সরকার। 

বর্তমানে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন খালেদা জিয়া। তবে গর্ভধারিণী মা ও দলীয় চেয়ারপার্সনের এ খবরে বিএনপির দণ্ডপ্রাপ্ত লন্ডনে পলাতক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মুখে হাসির পরিবর্তে কপালে দেখা দিয়েছে চিন্তার ভাঁজ। 

হাসপাতালের এক সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া সুস্থ হয়ে উঠছেন। শিগগিরই তিনি পরিবারের মাঝে ফিরতে পারবেন। 

এদিকে বিএনপির বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়া হাসপাতাল থেকে মুক্তি পেলেই বিএনপির রাজনীতি করার ইস্যু শেষ হয়ে যাবে। তাই সুস্থ হলেও কিংবা হাসপাতালে থাকার প্রয়োজন না হলেও কৌশলে খালেদাকে হাসপাতালে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন তারেক। 

তারেকের মতে, কোনোভাবেই হাসপাতাল থেকে যেন ছাড়া না পায় খালেদা জিয়া। এতে যদি তার কিছু হয়েও যায়, যাক। বরং কিছু হলেই বিএনপির লাভ!

সূত্রের তথ্যমতে, বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ খালেদা জিয়ার লিভারের রক্তক্ষরণ সেরে উঠেছে। তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। আর কিছুদিন পরই তিনি বাসায় ফিরতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসকরা। করোনা কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) থেকে এরই মধ্যে তাকে কেবিনে পাঠানো হয়েছে। 

আর এ খবর শুনেই মাথায় যেন বাজ পড়েছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। খাওয়া-ঘুম ফেলে তিনি বারবার ফোন করছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও আব্দুল আউয়াল মিন্টুদের কাছে। 

তারেকের নির্দেশ, কোনোভাবেই হাসপাতাল থেকে খালেদা জিয়াকে রিলিজ করানো যাবে না। তাহলে এতদিনের সব পরিকল্পনা শেষ হয়ে যাবে। সরকারকেও চাপে রাখা যাবে না। ইস্যু সংকটে বিএনপির রাজনীতিও থমকে যাবে। কারণ এই মুহূর্তে আর কোনো ইস্যু নেই। এছাড়া সাংগঠনিক অবস্থাও তেমন মজবুত নয় যে, সম্মিলিতভাবে কিছু করে সরকারকে বিব্রত করা যাবে। 

আরো পড়ৃন: ঢাকা বিমানবন্দর সড়কে আন্ডারপাসসহ চার প্রকল্প উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, তারেক রহমান ক্ষমতা ও নিজের লাভের জন্য সবই করতে পারেন। সে মোতাবেকই অগ্রসর হচ্ছেন তিনি। প্রতিনিয়ত বুনছেন দেশবিরোধী নানা ষড়যন্ত্রের জাল। তা না হলে কেউ কি নিজের মাকে নিয়ে রাজনীতি করতে পারেন? তাকে (খালেদা জিয়া) মেরে ফেলে দলের মসনদে বসার স্বপ্ন দেখতে পারেন? তবে তারেকের এটা মনে রাখা প্রয়োজন যে, ‘পাপ কিন্তু বাপকেও ছাড়ে না’। 

আক্ষেপের সঙ্গে তিনি আরো বলেন, খালেদা জিয়ারও ভুল আছে। ছেলেকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করা ঠিক হয়নি। কারণ তারেকের অতীত তো ভালো নয়! ক্ষমতায় থাকাকালীন কী করেননি তিনি। অর্থ-ক্ষমতার দম্ভে সবার সঙ্গে করতেন অসদাচরণ।  

বরাবরই তারেকের এসব বিষয়ে দলের এক শ্রেণির নেতা সরব ছিল। সে সময় তাদের বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে দমিয়ে রাখে তারেক। যে ধারা এখনো চলমান।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর/এমএস