স্ত্রীর মৃত্যুশোক না কাটতেই স্বামীকে রাখা হলো পাশের কবরে

স্ত্রীর মৃত্যুশোক না কাটতেই স্বামীকে রাখা হলো পাশের কবরে

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:৫৫ ১২ জানুয়ারি ২০২২  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার নেহালপুর গ্রামে স্ত্রীর মৃত্যুর ১১ দিন পর সড়কে ঝরল স্বামীর প্রাণ। কয়েকদিনের ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুতে গ্রামজুড়ে নেমেছে শোকের ছায়া।

মৃতরা হলেন- নেহালপুর গ্রামের গোলাপ মণ্ডলের ছেলে ৪৫ বছর বয়সী ফরজ আলী ও তার স্ত্রী ৪০ বছরের আলেয়া খাতুন। এর মধ্যে ১১ দিন আগে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যান ফরজ আলীর স্ত্রী আলেয়া। ফরজ আলী কাঁচামাল ব্যবসায়ী ছিলেন।

স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে নিজের নসিমন চালিয়ে মালামাল বিক্রি করতে যাচ্ছিলেন ফরজ আলী। পথে কালুপোল এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে নসিমন থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি।

পরে স্থানীয়রা ফরজ আলীকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়ার আগেই মারা যান। তার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে বাড়িতে ছুটে যান বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হোসেন জোয়ার্দার, স্থানীয় ইউপি সদস্য আক্কাস আলীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।

এর আগে, ৩১ ডিসেম্বর রাত ৯টার দিকে টর্চলাইট চার্জ দেওয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন ফরজ আলীর স্ত্রী আলেয়া খাতুন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়ার পথেই তিনি মারা যান।

নবগঠিত গড়াইটুপি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আক্কাস আলী বলেন, ১১ দিন আগে ফরজ আলীর স্ত্রী বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা গেছেন। মঙ্গলবার বিকেলে সড়ক দুর্ঘটনায় ফরজ আলীও মারা যান। এটা আসলেই মেনে নেয়া কষ্টকর। বুধবার সকাল ১০টায় জানাজা শেষে নেহালপুর দক্ষিণপাড়া কবরস্থানে স্ত্রীর কবরের পাশেই তাকে দাফন করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, তাদের সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। ছেলে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। কয়েকদিনের ব্যবধানে একটি পরিবারে পরপর দুটি মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর