দেশে জলচর পরিযায়ী পাখি-শুমারি চলছে যেভাবে

দেশে জলচর পরিযায়ী পাখি-শুমারি চলছে যেভাবে

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৪৩ ১১ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ১৩:৫৫ ১৫ জানুয়ারি ২০২২

শীতকালীন জলচর পাখিশুমারিতে মোট ৩৪ প্রজাতির তিন হাজার ২৩০টি জলচর পাখি দেখা গেছে, যাদের মধ্যে অন্যতম ছিল ৯০০টি গেওয়ালা-বাটান।

শীতকালীন জলচর পাখিশুমারিতে মোট ৩৪ প্রজাতির তিন হাজার ২৩০টি জলচর পাখি দেখা গেছে, যাদের মধ্যে অন্যতম ছিল ৯০০টি গেওয়ালা-বাটান।

বাংলাদেশে চলছে জলচর পরিযায়ী পাখি-শুমারি। প্রকৃতি সংরক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক ইউনিয়নের (আইইউসিএন) অর্থায়নে এ বছর পাখিশুমারি শুরু হয়েছে। পাখির বিচরণক্ষেত্র, জীবনমান, স্থানীয় মানুষ ও পরিবেশের নেতিবাচক পরিবর্তন প্রতিরোধে এই শুমারি করা হচ্ছে।

পাখি শুমারির করছে বাংলাদেশ বার্ডস ক্লাব, বন অধিদপ্তর এবং টেকসই বন ও জীবিকা প্রকল্প (সুফল)। উপকূলীয় জলচর পাখিশুমারি দল সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৭ সাল থেকে সারা বিশ্বে পাখি শুমারি চালু হয়। বর্তমানে ভোলায় চলছে জলচর পাখিশুমারি।

বাংলাদেশ বার্ডস ক্লাব জানাচ্ছে টাঙ্গুয়ার হাওড়ে গত ২ ও ৩ জানুয়ারি জলচর পাখিশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই দুই দিনে মোট ৩৬ প্রজাতির ২৭ হাজার ১৭০টি পাখি গণনা করা হয়েছে। যাদের মধ্যে ৩৩ প্রজাতির ২৭ হাজার ১৬৭টি ছিল জলচর পাখি।

বিরল পরিযায়ী শুক্তিভোজী বাটান

ওই গণনায় পরিযায়ী বুনোহাঁসদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে লালমাথা-ভুতিহাঁস (Red Crested Pochard) সাত হাজার ৩৩২টি, এরপর দেখা গেছে মরচে রঙ-ভুতিহাঁস (Ferruginous Pochard) সাত হাজার ২০৫টি।

গত ৪ জানুয়ারি হাইল হাওড়ের বাইক্ক্যা বিল অভয়াশ্রমে দিনব্যাপী শীতকালীন জলচর পাখিশুমারি সম্পন্ন হয়েছে, যাতে মোট ৩৪ প্রজাতির তিন হাজার ২৩০টি জলচর পাখি দেখা গেছে। যাদের মধ্যে অন্যতম ছিল ৯০০টি গেওয়ালা-বাটান (Ruff), ৪৫২টি বেগুনি-কালেম ( Purple Swamphen), ২৫০টি খয়রা-কাস্তেচরা ( Glossy Ibis)।

এখন একটি দল ভোলায় জলচর পাখির গণনার কাজ করছে।

যেভাবে করা হচ্ছে পাখি গণনা

৬ মিটারের গভীরতায় যেসব পাখি বসে সেগুলোকে জলাচর পাখি বলে। হাওড়, বিল এবং উপকূলীয় এলাকায় এই পাখি বেশি থাকে। তাই পাখি গণনার কাজে টেলিস্কোপ (দূরবীক্ষণ যন্ত্র) ব্যবহার করা হচ্ছে।

জলচর পাখি শুমারির জাতীয় সমন্বয়কারী এনাম আল হক গণমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেন, জলচর পাখি গণনা করা সহজ। এই ধরণের পাখি পানিতে বসে থাকে, খুব বেশি উড়াউড়ি করে না। পানির নিচে লতা গুল্ম খায়, মাঝে মাঝে ডুব দেয় আবার উঠে পরে। এটা গাছের পাখির মতো বেশি উড়া-উড়ি করে না।

পরিযায়ী বুনোহাঁসদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে লালমাথা-ভুতিহাঁস (Red Crested Pochard)

পাখি গণনার উদ্দেশ্য কী?

আন্তর্জাতিকভাবে পাখি গণনা করে আগে ছাপানো হত। এখন ওয়েবসাইটে দেয়া হয়। এরফলে সারা বিশ্বে পাখির সংখ্যা কোথায় বাড়ছে বা কমছে সেটা বোঝা যায়। এই সংখ্যা যে কেউ চাইলে ব্যবহার করতে পারে।

সারা বিশ্বে আশির দশকে জলচর পরিযায়ী পাখির গণনা শুরু হয়। সেই সঙ্গে বাংলাদেশেও একদল স্বেচ্ছাসেবক নিজ উদ্যোগে কাজটি করে যাচ্ছিলেন। এই গবেষণার মাধ্যমে জানা যায়, গত চার দশক আগে যে পরিমান জলচর পাখি ছিল এখন সেটা অনেক কমে গেছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/কেবি