ভ্রমণ হোক বিস্তৃত জলরাশির সান্নিধ্যে

ভ্রমণ হোক বিস্তৃত জলরাশির সান্নিধ্যে

ভ্রমণ প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:২১ ১০ জানুয়ারি ২০২২  

শুনশান বিস্তৃত বালিয়ারিতে শেষ বিকেলে আনন্দে মেতে ওঠে স্থানীয় শিশুরা। ছবি : সংগৃহীত

শুনশান বিস্তৃত বালিয়ারিতে শেষ বিকেলে আনন্দে মেতে ওঠে স্থানীয় শিশুরা। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার একটি ভ্রমণ স্বর্গ নিঝুম দ্বীপ। মেঘনা নদীর মোহনায় জেগে ওঠা এক দৃষ্টিনন্দন জনপদ এটি। দেখা মেলে চিত্রা হরিণের পাল, নানা প্রজাতির পাখি। বৃত্তাকারে ১২ কিলোমিটার জুড়ে থাকা বিশাল সৈকতের উচ্ছ্বল জলরাশি দেখে মুগ্ধ হতে হয়। শুনশান বিস্তৃত এই জলরাশি। শেষ বিকেলে বালিয়ারিতে রঙিন আনন্দে মেতে ওঠে স্থানীয় শিশুরা। এ দৃশ্য যেন মন কেড়ে নেয়।

নিঝুমের আগে বেশ কয়েকটি নাম ছিল। ইছামতীর দ্বীপ, বাইল্লার চর, চর ওসমান। কালের বিবর্তনে তার নাম আজ নিঝুম। প্রায় ১৪ হাজার ৫০ একর আয়তনের এই দ্বীপটি কামলার চর, বল্লার চর, চর ওসমান ও চর মুরি নামের চারটি দ্বীপ ও কয়েকটি চরের সমন্বয়ে গঠিত। শীতকালে নিঝুম দ্বীপে সরালি, জিরিয়া, লেনজা, পিয়ং, রাঙ্গামুড়ি, চখাচখি, ভূতিহাঁস, রাজহাঁস, কাদাখোঁচা, বাটান, জিরিয়া, গুলিন্দা, গাংচিল, কাস্তেচরা, পেলিক্যান ইত্যাদি হাজারো অতিথি পাখির আগমন ঘটে। স্থানীয় পাখির মধ্যে চোখে পড়ে সামুদ্রিক ঈগল, বক শঙ্খচিল। এছাড়া দ্বীপে রয়েছে হরিণ, বন্য শূকর, শেয়াল, বানর এবং নানা রকম সাপ।

প্রাণ প্রকৃতির নৈসর্গিক স্থান নিঝুম দ্বীপ। ছবি : সংগৃহীত

নিঝুম দ্বীপে হরিণের সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। পাখি বা হরিণ দেখতে ভোরে উঠে স্থানীয় গাইডের সাহায্য নিতে পারেন। নিঝুম দ্বীপের মতো দেশের অন্য কোথাও একসাথে এত চিত্রা হরিণ দেখা যায় না। আর পাখি দেখতে চাইলে পার্শ্ববর্তী দ্বীপ কবিরাজের চর ও দমার চর উত্তম জায়গা। নিঝুম দ্বীপে দেখা মিলে প্রায় ৩৫ প্রজাতির বিভিন্ন পাখির।

বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে কবিরাজের চরের কাছে চৌধুরীর খাল দিয়ে কিছুক্ষণ হাঁটলেই হরিণের দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া ট্রলার রিজার্ভ নিলে মাঝিই আপনাদের হরিণ দেখিয়ে আনবে। ১০-১৫ জনের জন্য ট্রলার ভাড়া করতে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা লাগবে। সন্ধ্যায় কবিরাজের চরে সূর্যাস্তের সাথে হাজার মহিষের পাল আপনার দৃষ্টি কাড়বে।

কমলার খালে প্রচুর ইলিশ পাওয়া যায়। স্থানীয়দের কাছ থেকে তাজা ইলিশ কিনতে পারেন। ছবি : সংগৃহীত

আর কমলার দ্বীপে কমলার খালে প্রচুর ইলিশ পাওয়া যায়। স্থানীয়দের কাছ থেকে তাজা ইলিশ কিনতে পারেন। নিঝুম দ্বীপে স্থানীয় ছোট ছোট ছেলেরা গাইডের কাজ করে। সকাল বেলায় এদের সঙ্গে নিয়ে ম্যানগ্রোভ বনের হরিণ দেখতে পাবেন সহজেই। নামার বাজার থেকে নামা বাজার পর্য হেঁটে যেতে ১০ মিনিট সময় লাগে। নামা বাজার সি বীচ থেকে সূর্য উদয় ও সূর্যাস্ত দেখা ছাড়াও বারবিকিউ করতে পারবেন।

দমার চরের দক্ষিণ দিকে নতুন সী বিচটি ভার্জিন আইল্যান্ড হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এই আইল্যান্ডে নাম না জানা অনেক পাখির দেখা মিলবে। এই দ্বীপে যেতে ট্রলার ভাড়া পড়বে তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা। চোয়াখালিতে নিঝুম রিসোর্ট এর বারান্দা থেকেও মাঝে মাঝে হরিণের দেখা যায়। হাতে সময় থাকলে ট্রলার নিয়ে ভোলার ঢালচর, চর কুকরি – মুকরিতে একটি দিন কাটিয়ে আসতে পারেন।

নদী অববাহিকায় গড়ে ওঠা নিঝুম দ্বীপ। ছবি : সংগৃহীত

যেভাবে যাবেন

লঞ্চে সদরঘাট থেকে সিঙ্গেল কেবিনের ভাড়া পড়বে এক হাজার টাকা, ফ্যামিলি কেবিন ভাড়া তিন-চার হাজার টাকা, ডেকের ভাড়া ২০০-৩০০ টাকা। হাতিয়া ঘাট থেকে ২৫০-৩০০ টাকা ভাড়ায় মোটরসাইকেলে স্পিডবোট ঘাট, ৮০ টাকায় স্পিডবোটে চ্যানেল পাড় হয়ে ১০০ টাকা ভাড়ায় মোটরসাইকেলে নামারবাজার ঘাট।

যেখানে থাকবেন

নামারবাজার ঘাটে হোটেল নিঝুম দ্বীপান্তরসহ বেশ কিছু হোটেল আছে। নিঝুম দ্বীপে থাকার ব্যবস্থা ভালোই বলা চলে।

নদী অববাহিকায় গড়ে ওঠা নিঝুম দ্বীপ। ছবি : সংগৃহীত

যা খাবেন

এখানে বিভিন্ন রকমের সামুদ্রিক মাছ খেতে পারেন। এখানকার মহিষের দুধের কাঁচা দইও বিখ্যাত।

কিছু পরামর্শ

চেয়ারম্যান ঘাট বা নলচিরা থেকে গমনকারী সি-ট্রাকগুলো জোয়ার ভাটার উপর নির্ভর করে। এখান থেকে প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর ট্রলার ছাড়ে। আর বিকাল ৫ টার পর ট্রলার চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

বর্তমানে প্রায় সব অপারেটরের নেটওয়ার্ক পাওয়া গেলেও নিঝুম দ্বীপে শুধুমাত্র রবি ও এয়ারটেলের ৩ জি সুবিধা পাওয়া যায়।

নিঝুম দ্বীপে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নেই। নিঝুম দ্বীপ সোলার এবং জেনারেটরের উপর নির্ভরশীল। তাই মোবাইলের এক্সট্রা ব্যাটারী কিংবা পাওয়ার ব্যাংক সঙ্গে রাখুন। তবে প্রয়োজনে টর্চ, মোবাইল কিংবা ক্যামেরার ব্যাটারি চার্জের জন্য এখানে দুটো দোকান রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/কেবি