ঘুষ গ্রহণ ও অর্থপাচার: পার্থ গোপালের ৮ বছরের কারাদণ্ড

ঘুষ গ্রহণ ও অর্থপাচার: পার্থ গোপালের ৮ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:০৮ ৯ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ১৫:২১ ৯ জানুয়ারি ২০২২

রায়ের পর আদালত থেকে বের করা হচ্ছে বরখাস্তকৃত সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন্স) পার্থ গোপাল

রায়ের পর আদালত থেকে বের করা হচ্ছে বরখাস্তকৃত সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন্স) পার্থ গোপাল

ঘুষ গ্রহণ ও অর্থপাচার আইনে করা মামলায় বরখাস্তকৃত সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন্স) পার্থ গোপালের ৮ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রোববার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলমের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

এদিন কারাগার থেকে আসামি পার্থ গোপাল আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তার উপস্থিতিতে রায় পড়া শুরু করেন বিচারক। রায় পড়া শেষ হলে আদালত তাকে বছরের কারাদণ্ড দেন। এর আগে গত ২৭ ডিসেম্বর এ দুদক যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে আসামি পার্থ গোপালের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে নির্দোষ দাবি করে খালাস প্রত্যাশা করেন। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে আদালত রায়ের জন্য ৯ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন।

আরো পড়ুন>>> ঘুষ গ্রহণ ও অর্থপাচার: পার্থ গোপালের রায় পড়া শুরু 

২০২০ সালের ২৪ আগস্ট আসামি পার্থ গোপালের বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন ১৪ জনকে সাক্ষী করে আদালতে এ অভিযোগপত্র জমা দেন। এরপর গত বছরের ৩১ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ দুদকের দেয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। একইসঙ্গে মামলাটি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এ বদলির আদেশ দেন। তারপর গত ৪ নভেম্বর আদালত আসামি পার্থ গোপালের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এর মধ্য দিয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরু হয়। গত ১৫ ডিসেম্বর মামলার বাদী দুদকের সহকারী পরিচালক মো. সালাউদ্দিনের জবানবন্দি গ্রহন করেন আদালত। মধ্য দিয়ে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

আরো পড়ুন>>> ঘুষ গ্রহণ ও অর্থপাচার: পার্থ গোপালের মামলার রায় আজ

২০১৯ সালের ২৮ জুলাই কারাগারের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পার্থ গোপাল বণিককে জিজ্ঞাসাবাদ করার এক পর্যায়ে অভিযানে যায় দুদক। বিকেলে ধানমন্ডির ভূতের গলিতে পার্থ গোপালের ফ্ল্যাট থেকে ৮০ লাখ টাকা উদ্ধার করে দুদক। এর পরেই আটক করা হয়। পরদিন ২৯ জুলাই তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৬১ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪ (২) ধারায় দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলা দায়ের করে দুদক।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, বরখাস্তকৃত কারা উপমহাপরিদর্শক পার্থ গোপাল বণিক সরকারি চাকরিতে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষের মাধ্যমে ৮০ লাখ টাকা অবৈধভাবে অর্জন করেন। এসব টাকা গোপন করে তার নামীয় কোনো ব্যাংক হিসাবে জমা না রেখে বিদেশে পাচারের উদ্দেশে নিজ বাসস্থানে লুকিয়ে রেখে দণ্ডবিধির ১৬১ ধারা, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে