দুবাইয়ে বাজেয়াপ্ত হচ্ছে খালেদার মিলিয়ন ডলারের জমি

দুবাইয়ে বাজেয়াপ্ত হচ্ছে খালেদার মিলিয়ন ডলারের জমি

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:৩১ ৯ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ১৫:০৩ ৯ জানুয়ারি ২০২২

খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

সম্প্রতি দুবাই সরকার তাদের দেশে অযথা পড়ে থাকা সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টনে মনোনিবেশ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি।

এক অনুসন্ধানে জানা যায়, দুবাই শহরে ছড়িয়ে-ছিটেয়ে থাকা বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার অন্তত ১০০ বিঘা জমি রয়েছে। যার বর্তমান মূল্য ১৩২ মিলিয়ন ডলার বলে জানা গেছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ২০০৩ সালে জমি কেনার পর এ জমিগুলোর কোনো খোঁজ-খবর কেউ নেয়নি। আর এ কারণে এসব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে দখল নিতে চাইছে দুবাই সরকার। দুবাইয়ে গত ১৫ বছর ধরে এমন ৯৫৬ বিঘা জমি পড়ে রয়েছে। 

আরো পড়ুন: ক্রাইস্টচার্চে বাংলাদেশের ভুলে যাওয়ার মতো দিন

বিশ্বস্ত একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, সেসব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়াও এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। কারণ যে বা যারা এসব জমি ক্রয় করেছেন, তাদের হয়তো এসব জমির প্রয়োজন নেই। যদি প্রয়োজন থাকতো তবে নিশ্চয় তারা জমিটি এভাবে ফেলে রাখতো না।

উল্লেখ্য, সম্পদের হিসাব না নেয়ার তালিকায় বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং আফগানিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আশরাফ গনির নাম রয়েছে। খালেদা জিয়াকে অভিযুক্ত করে এরই মধ্যে এক রাজকীয় ফরমানও জারি করেছে দুবাই কর্তৃপক্ষ।

মধ্যপ্রাচ্যের গণমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খালেদা জিয়া ও আশরাফ গনির বিরুদ্ধে দেশের সম্পদ বিদেশ পাচার এবং ব্যক্তিগত কাজে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ ব্যাপারে দুবাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র গণমাধ্যমে বলেন, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের প্রাক্তন দুই প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ এবং খালেদা জিয়া অবৈধ অর্থের মাধ্যমে দুবাইয়ে বিভিন্ন সম্পত্তি ক্রয় করেছেন। এ ব্যাপারে অধিকতর তদন্তের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

বিভিন্ন সূত্র বলছে, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে খালেদা জিয়া পরিবারের সদস্যরা ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পত্তি ক্রয় করেছেন। এর মধ্যে বুর্জ খলিফায় বে ভিলা অ্যাপার্টমেন্টসহ কয়েকটি বহুতল ভবন কিনেছেন খালেদা জিয়া। 

দুবাইয়ের জাতীয় দুর্নীতিবিরোধী কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এ ব্যাপারে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তবে বিস্তারিত কিছু এখনই জানাতে অস্বীকার করেছে কমিশন।

তাদের ভাষ্য, তদন্ত চলমান থাকায় বিস্তারিত তথ্য জানানো যাবে না। এতে তদন্ত কাজ ব্যাহত হতে পারে। তদন্ত শেষে কমিশনের পক্ষ থেকে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথাও জানানো হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর/এমএস