পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে যেভাবে ঘুরে বেড়ান দুই স্কুলছাত্রী ধর্ষণের মূলহোতা

পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে যেভাবে ঘুরে বেড়ান দুই স্কুলছাত্রী ধর্ষণের মূলহোতা

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:০৩ ৮ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ১৬:০৪ ৮ জানুয়ারি ২০২২

গ্রেফতার রিয়াদ- ছবি: সংগৃহীত

গ্রেফতার রিয়াদ- ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে চারজনের পাহারায় দুই কিশোরী ছাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগ উঠে ছয় যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি কাউকে জানালে ভোক্তভোগীদের দেওয়া হয় হত্যার হুমকি। কিন্তু মামলা দায়েরের পর বিষয়টি চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। এরপরই পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে অভিনব পস্থা অবলম্বন করে প্রধান আসামি সোলায়মান হোসেন ওরফে রিয়াদ। অবশেষে পুলিশ গ্রেফতার করতে না পারলেও র‌্যাবের কাছে ধরা পড়েন অভিযুক্ত রিয়াদ।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির লিগ্যাল আ্যন্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনাটি সংবাদ মাধ্যমে গুরুত্ব সহকারে প্রচার হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে র‌্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব ৮ জানুয়ারি মধ্যরাতে ময়মনসিংহের গফরগাঁও থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আলোচিত ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি সোলায়মান হোসেন রিয়াদকে গ্রেফতার করে। ঘটনার পর থেকে রিয়াদ একটি মালবাহী ট্রাকে বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করেন। পরবর্তীতে গফরগাঁওয়ে আত্মগোপন করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, গ্রেফতার সোলায়মান হোসেন রিয়াদ এলাকায় চিহ্নিত বখাটে হিসেবে পরিচিত। তিনি এলাকায় ১০-১৩ জনের একটি বখাটে দলের নেতৃত্ব দিতেন। তিনি ও তার সহযোগীদের অত্যাচারে এলাকার স্কুলপড়ুয়া মেয়েরা অতিষ্ঠ। স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করারও অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। রিয়াদের নামে হালুয়াঘাট থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মাদক চোরাচালান মামলা চলমান রয়েছে। এরই তিনি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন ও কারাভোগ করেন। তার সহযোগী অন্যান্য আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত।

এজাহারভুক্ত পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে বলেও জানান র‌্যাবের এ কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর হালুয়াঘাট উপজেলার গাজীরভিটা ইউনিয়নে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যান দুই স্কুলছাত্রী। রাতে ফেরার পথে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাদের তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। বিষয়টি কাউকে জানালে ভোক্তভোগীদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এরপর ২৯ ডিসেম্বর তাদের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাটি জানতে পারেন। এরপর ৩০ ডিসেম্বর এক ভোক্তভোগীর বাবা ১০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলা নং- ২৪।

আসামিরা হলেন- উপজেলার কচুয়াকুড়া গ্রামের সোলায়মান হোসেন রিয়াদ, মো. শরীফ, এজাহার হোসেন, কাটাবাড়ি গ্রামের রমজান আলী, মো. কাউছার, মো. আছাদুল, শরিফুল ইসলাম, মো. মিজান, মো. রুকন ও মো. মামুন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ